কাউখালীতে অনলাইনে ‘রোমান্স স্ক্যাম’ প্রতিরোধে পুলিশের নজরদারি জোরদার

বর্তমানে অনলাইন ও মোবাইলফোন ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে। তাই অভিভাবকদের সন্তানদের মোবাইল ব্যবহার, চলাফেরা ও বন্ধু নির্বাচন সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।

কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা

Location :

Kaukhali
কাউখালী থানা, পিরোজপুর
কাউখালী থানা, পিরোজপুর |নয়া দিগন্ত

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অনলাইন ও মোবাইলফোনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে প্রতারণার (রোমান্স স্ক্যাম) অভিযোগ পাওয়ার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ। অভিযোগের বিষয়ে অবগত হওয়ার পর পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের সতর্ক করেছে বলে জানা গেছে।

থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কিছু প্রাইভেট শিক্ষক কোচিং সেন্টার বা প্রাইভেট পড়ানোর নামে বাড়ি বা কক্ষ ভাড়া নিয়ে একই সময়ে ছাত্র-ছাত্রীদের একসাথে পাঠদান করেন। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় ঘনিষ্ঠতা ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

এছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে প্রকৃত শিক্ষাদানের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের একত্রিত করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়ার মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে শিক্ষক উপস্থিত না থাকলেও অনেক শিক্ষার্থী সেখানে অবস্থান করে। এতে অভিভাবকরা মনে করেন তাদের সন্তান প্রাইভেট পড়ছে, অথচ বাস্তবে তারা অন্য কাজে সময় ব্যয় করছে। ফলে একদিকে শিক্ষার মান ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রেম, প্রতারণা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার দু’টি সরকারি বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সঙ্কট থাকায় কিছু শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে না গিয়ে বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, একটি বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রী মোবাইলফোনের মাধ্যমে অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিভিন্ন সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিভাবকেরা বিষয়টি কাউখালী থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের সতর্ক করে।

এ বিষয়ে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমানে অনলাইন ও মোবাইলফোন ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে। তাই অভিভাবকদের সন্তানদের মোবাইল ব্যবহার, চলাফেরা ও বন্ধু নির্বাচন সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। কোনো ধরনের প্রতারণা, ইভটিজিং, মাদক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না, সে যতই প্রভাবশালী হোক না কেন।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলাকালীন সময়ে সাদা পোশাক ও ইউনিফর্মে পুলিশের বিশেষ টহল অব্যাহত রয়েছে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার চেষ্টা করবেন না। কোনো অভিযোগ থাকলে দ্রুত পুলিশকে জানালে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।