লংগদুতে পাহাড়ধসের শঙ্কা, আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে প্রশাসনের অভিযান

পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রগুলো চালু থাকবে। ঝুঁকিতে থাকা প্রতিটি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।

বিপ্লব ইসলাম, লংগদু (রাঙ্গামাটি)

Location :

Rangamati
প্রশাসনের তৎপরতা
প্রশাসনের তৎপরতা |নয়া দিগন্ত

টানা বর্ষণে রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলার মুসলিমব্লক, করল্যাছড়ি ও আটারকছড়িসহ কয়েকটি এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে মাঠে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্যরা।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় লংগদুতে ১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে প্রশাসনের বারবার আহ্বান সত্ত্বেও অনেক বাসিন্দা এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনাগ্রহী। এ কারণে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেয়ার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তেতুলতলা ও মেরুন বাজার এলাকার নিচু সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় লংগদুর সাথে দূরপাল্লার সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

অবিরাম বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। কাজ বন্ধ থাকায় দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষের আয়-রোজগার প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহাঙ্গীর হোসাইন ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করে পাহাড়ের পাদদেশ এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রগুলো চালু থাকবে। ঝুঁকিতে থাকা প্রতিটি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।