ডিআরইউ সদস্যদের সাত দিনের এআই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

‘গুজব, অপতথ্য ও ডিপফেইকের এই সময়ে সাংবাদিকদের এআই ও ফ্যাক্ট-চেকিং সম্পর্কে দক্ষ হওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ডিআরইউর সাত দিনের এআই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন
ডিআরইউর সাত দিনের এআই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন |নয়া দিগন্ত

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সদস্যদের সাত দিনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণ আজ সম্পন্ন হয়েছে।

শুক্রবার (৮ মে) ডিআরইউ’র শফিকুল কবির মিলনায়তনে সাত দিনব্যাপী ‘এআই-পাওয়ারড জার্নালিজম : অপরচুনিটিজ, রিস্কস অ্যান্ড ডিজিটাল সিকিউরিটি’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় গত সাত দিনে বিভিন্ন ব্যাচে মোট ৬০০ সদস্য অংশ নেন। কর্মশালাটি আয়োজন করে ডিআরইউ, সহযোগিতায় ছিল এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশ ও গেমপ্লিফাই।

এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, গুজব, অপতথ্য ও ডিপফেইকের এই সময়ে সাংবাদিকদের এআই ও ফ্যাক্ট-চেকিং সম্পর্কে দক্ষ হওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, শুধু সংবাদ সংগ্রহ নয়, তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতাও এখন সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমেই সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া সম্ভব।

সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন।

মিল্টন বলেন, তিনি সবসময় ডিআরইউর পাশে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকরা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে তাকে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলায় সহায়তা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তথ্য বিকৃতি ও অপতথ্য প্রতিরোধে সাংবাদিকদের আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে আবু সালেহ আকন বলেন, এআই-এর ব্যবহার ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুইভাবেই হতে পারে। তাই সাংবাদিকদের দায়িত্ব হবে এই প্রযুক্তির সঠিক ও কল্যাণমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করা। সমাজ ও মানুষের কল্যাণে এআইকে কাজে লাগাতে পারলেই সাংবাদিকতা আরো শক্তিশালী ও কার্যকর হয়ে উঠবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, বর্তমান সাংবাদিকতায় এআই শুধু একটি প্রযুক্তি নয়, এটি কাজের গতি, নির্ভুলতা ও বিশ্লেষণক্ষমতা বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। তাই সাংবাদিকদের সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতেই হবে।

ডিআরইউ’র তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল বলেন, ডিআরইউর ইতিহাসে এই প্রশিক্ষণটি অন্যতম সেরা আয়োজন হিসেবে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরাও স্বীকৃতি দিয়েছেন। অংশগ্রহণকারী সদস্যদের আগ্রহ ও সম্পৃক্ততার কারণেই সাত দিনের আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সদস্যদের জন্য সময়োপযোগী ও আধুনিক প্রশিক্ষণের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

গেমপ্লিফাইয়ের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান ভিডিও বার্তায় বলেন, সাংবাদিকরা শুধু পেশাজীবী নন, তারা সমাজের বিশ্বাসযোগ্য তথ্যনেতা। ফেক নিউজ ও ভুয়া ভিডিওর এই সময়ে বিশ্বস্ত সাংবাদিকতার গুরুত্ব আরো বেড়েছে। তাই সাংবাদিকদের প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে এবং এআই ব্যবহারে দক্ষ হতে হবে।

গেমপ্লিফাইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজুর রহমান বলেন, এআই যুগে অপতথ্য ও ডিপফেইকের ঝুঁকি মোকাবেলায় সাংবাদিকদের এআই জানা অপরিহার্য। বিগডাটা বিশ্লেষণ, গবেষণা ও তথ্য উপস্থাপনায় এআই এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউ’র সহ-সভাপতি মাসুম, অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এ এম জসিম, দফতর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজানুর রহমান, সংস্কৃতি সম্পাদক মনোয়ার হোসেন, নারী বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, কার্যনির্বাহী সদস্য আক্তার হোসেন, আল আমিন আজাদসহ অন্য নেতারা। এছাড়াও প্রশিক্ষক ও অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সাত দিনের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের হাতে-কলমে শেখানো হয় চ্যাটজিপিটি, জেমিনি, গুগল এআই স্টুডিও এবং নোটবুকএলএমসহ বিভিন্ন আধুনিক এআই টুলের ব্যবহার। প্রশিক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব পায় কার্যকর প্রম্পটিং, ডেটা সাংবাদিকতা, তথ্য বিশ্লেষণ, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় এআই-এর ব্যবহার, ডিজিটাল স্টোরিটেলিং, ফ্যাক্ট-চেকিং এবং ডিপফেইক শনাক্তকরণ।

প্রশিক্ষকরা দেখান, কিভাবে দীর্ঘ অডিও, ভিডিও কিংবা পিডিএফ ফাইল থেকে দ্রুত তথ্য ও ইনসাইট বের করে সংবাদ প্রস্তুত করা যায়। অংশগ্রহণকারীরা গবেষণা, স্ক্রিপ্ট লেখা, অনুবাদ, শিরোনাম তৈরি ও তথ্য যাচাইয়ের মতো কাজে এআই ব্যবহারের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গেমপ্লিফাইয়ের কর্মকর্তা ইমাম হাসান সোহেল।