ময়মনসিংহের ত্রিশাল—যে মাটি আজও বহন করে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর স্মৃতি—সেই জনপদে দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ পর আবারো ফিরছে জাতীয় পর্যায়ের নজরুল জন্মজয়ন্তীর জৌলুস। সময় যেন ঘুরে দাঁড়িয়েছে, ইতিহাস যেন আবার নতুন করে লেখা হতে চলেছে।
আগামী ২৫ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ) জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার হাত ধরেই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে নতুন এক অধ্যায়—ত্রিশালের সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের।
হারানো ঐতিহ্যের প্রত্যাবর্তন :
ত্রিশাল শুধু একটি উপজেলা নয়—এটি নজরুল স্মৃতির এক জীবন্ত ভাণ্ডার। অথচ দীর্ঘ বছর ধরে জাতীয় পর্যায়ের আয়োজন থেকে বঞ্চিত ছিল এই ঐতিহাসিক স্থান। সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে আবারো জাতীয়ভাবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত স্থানীয় মানুষের মাঝে সৃষ্টি করেছে উচ্ছ্বাস, গর্ব এবং প্রত্যাশার ঢেউ।
এই আয়োজন বাস্তবায়নের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা: মাহবুবুর রহমান লিটন। জাতীয় সংসদে তার জোরালো প্রস্তাবের ফলেই সরকার ত্রিশালে এই আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেয়—যা স্থানীয়দের কাছে এক বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পাঁচ দিনের উৎসবমুখর আয়োজন :
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির কারণে সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন এনে আগামী ২১ মে থেকে শুরু হচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি, সংগীতানুষ্ঠানসহ নানা আয়োজনে মুখর থাকবে পুরো ত্রিশাল।
সরকারি নজরুল অ্যাকাডেমি মাঠে ইতোমধ্যেই বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণ, দৃষ্টিনন্দন মঞ্চসজ্জা এবং আলোকসজ্জার কাজ চলছে পুরোদমে। ঐতিহ্যবাহী নজরুল মঞ্চ যেন নতুন সাজে প্রস্তুত—প্রিয় কবিকে বরণ করে নিতে।
উৎসবের আমেজে ত্রিশাল :
উৎসবকে কেন্দ্র করে ত্রিশালজুড়ে এখন আনন্দঘন পরিবেশ। স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছে অনুষ্ঠান সফল করতে। ত্রিশাল উপজেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সংগঠনের সক্রিয় অংশগ্রহণ এই আয়োজনকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমানসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক তদারকিতে রয়েছেন—যাতে কোনো ঘাটতি না থাকে এই জাতীয় আয়োজনে।
নতুন প্রজন্মের কাছে নজরুল :
এই আয়োজন শুধু একটি জন্মজয়ন্তী উদযাপন নয়—এটি নতুন প্রজন্মের কাছে নজরুলকে নতুন করে তুলে ধরার এক বিরল সুযোগ। বিদ্রোহ, প্রেম, মানবতা আর সাম্যের কবিকে ঘিরে আবারো জেগে উঠছে ত্রিশাল।
দুই যুগের অপেক্ষা শেষে, ত্রিশালের আকাশে আবারো বাজবে নজরুলের গান— ‘আমি চির বিদ্রোহী বীর…’ আর সেই সুরেই হয়তো জেগে উঠবে নতুন বাংলাদেশ, নতুন প্রজন্ম।



