অবিশ্বাস্য হারে সমীকরণ কঠিন হলো বাংলাদেশের

৬৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ এগিয়েও শেষ ১৫ মিনিটে ৩ গোল খেয়ে থাইল্যান্ডের কাছে ৩-২ হারে বাংলাদেশ, ফলে পরের ম্যাচগুলোতে কঠিন সমীকরণে পড়ে দল।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

অবিশ্বাস্যভাবে হেরে গেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। জয়ের খুব কাছে গিয়েও একরাশ আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা। মাত্র ১৫ মিনিটেই যেন বদলে গেল সব, উবে যায় লাল-সবুজ দলের হাসি।

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবলের মূল পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বুধবার মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। তবে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা বাংলাদেশ হেরে গেছে ৩-২ ব্যবধানে।

অথচ ৬৮ মিনিট নাগাদ ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এশিয়ান ফুটবলের বড় মঞ্চে পয়েন্ট পাওয়ার স্বপ্ন যখন ডানা মেলছিল, ঠিক তখনই যেন সব এলোমেলো হয়ে যায়।

শেষ মুহূর্তে রক্ষণভাগের ভুলে মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে ৩ গোল হজম করে হার মানতে হয়েছে। অথচ রাতটি হতে পারত বাংলাদেশের নারী ফুটবলের এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী।

কিছুদিন আগে বড়দের এশিয়ান কাপ থেকে খালি হাতে ফিরেছিল বাংলাদেশ। করতে পারেনি কোনো গোলও। সেই আক্ষেপ কাটাতে যুবা নারীরা শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক।

সুবাদে ম্যাচের ৩১ মিনিটেই আসে কাঙ্ক্ষিত মাহেন্দ্রক্ষণ। মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে প্রায় ৪৫ গজ দৌড়ে এসে তিন থাই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ঠান্ডা মাথায় লক্ষ্যভেদ করেন সাগরিকা।

এশিয়ান মঞ্চে প্রথম গোলের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় গোলের স্বাদ পেতেও দেরি হয়নি। সাগরিকাই দ্বিতীয়ার্ধে করেন নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল। ৫০ মিনিটে উমহেলা মারমার পাস থেকে নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে উদযাপনে মাতে বাংলাদেশের মেয়েরা।

থাইল্যান্ড অবশ্য ২ গোল হজম করেও দমে যায়নি। সুযোগের সন্ধানে লড়েছে নিয়মিত। তবে বারবার তাদের রুখে দিয়েছেন গোলকিপার মিলি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

টানা আক্রমণ চালিয়ে থাই নারীরা ভেঙে দেন রক্ষণভাগ। ৬৮ মিনিটে সুরুভী আরফিনের ভুলে পেনাল্টি পেয়ে যায় থাইল্যান্ড। আর স্পট কিক থেকে গোল করে ব্যবধান কমান কুরিসারা লিম্পাওয়ানিচ।

তবুও জয়ের পাল্লা বাংলাদেশের দিকেই ঝুঁকে ছিল। তবে বড়সড় ধাক্কাটা লাগে ৭৬ মিনিটে স্বাগতিকরা আবার পেনাল্টি পেলে। ডি-বক্সে ফাউল করে এবার পেনাল্টি উপহার দেন নবিরন খাতুন।

থাইদের হয়ে এবার স্পট কিক থেকে গোল করেন রিনিয়াফাত। স্কোর তখন সমতায়; ২-২। যেখান থেকে আর বের হতে পারেনি বাংলাদেশ।

উল্টা আর তিন মিনিট পর আরো এক গোল হজম করে বসে। ওপেন প্লে থেকে পিচায়াতিদা মানোওয়াঙ্গের গোল করলে থাইল্যান্ড ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

পিছিয়ে পড়ার পর লড়াইয়ে ফেরার সুযোগ থাকলেও থাইল্যান্ডের জালে আর বল জড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে অবিশ্বাস্য হার মেনে নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় পিটার বাটলার শিষ্যদের।

প্রতিযোগিতায় ৪ এপ্রিল পরের ম্যাচে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে চীনের। ৭ এপ্রিল গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ভিয়েতনামের বিপক্ষে। এই দুই ম্যাচ দিয়ে অন্তত সেরা তিনে থাকতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার একটা সুযোগ থাকবে তাদের।