ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে বার্সেলোনা তারকা ইয়ামালের প্রতিবাদ

ইনস্টাগ্রামে দেয়া এক পোস্টে প্রতিবাদ জানিয়ে ইয়ামাল বলেন, ‘আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ। স্টেডিয়ামে ‘যদি তুমি লাফ না দাও, তবে তুমি মুসলিম’—এমন স্লোগান দেয়া হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইয়ামাল
ইয়ামাল |সংগৃহীত

নিজ ধর্মের অবমাননা মানতে পারছেন না লামিনে ইয়ামাল। ইসলামবিদ্বেষী মনোভাবের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তিনি, জানিয়েছেন কড়া প্রতিবাদ।

গত মঙ্গলবার মিশরের বিপক্ষে গোলশূন্য প্রীতি ম্যাচে গ্যালারিতে উঠা ইসলামবিদ্বেষী স্লোগানের অভিযোগে সরব হয়েছেন স্পেন জাতীয় দলের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল।

ম্যাচ চলাকালে স্টেডিয়ামে শোনা এমন স্লোগানকে ‘অসম্মানজনক’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে সমর্থকদের প্রতি ধর্মীয় সংবেদনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইনস্টাগ্রামে দেয়া এক পোস্টে প্রতিবাদ জানিয়ে ইয়ামাল বলেন, ‘আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ। স্টেডিয়ামে ‘যদি তুমি লাফ না দাও, তবে তুমি মুসলিম’—এমন স্লোগান দেয়া হয়েছে।

‘এটি সরাসরি আমার বিরুদ্ধে না হলেও একজন মুসলিম হিসেবে এটি অসম্মানজনক ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’ তিনি আরো বলেন- ‘ফুটবল উপভোগের জায়গা, সমর্থনের জায়গা—ধর্ম বা পরিচয়কে বিদ্রূপ করার জায়গা নয়।’

নিজের ধর্মীয় পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি বুঝি সব সমর্থক এমন নয়। তবে যারা এ ধরনের স্লোগান দেয়, তারা ধর্মকে উপহাস করে এবং নিজেদের অজ্ঞতা ও বর্ণবাদী মানসিকতা প্রকাশ করে।’

ফুটবলকে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে ইয়ামাল বলেন, ‘ফুটবল উপভোগ ও সমর্থনের জন্য, কারও পরিচয় বা বিশ্বাসকে অসম্মান করার জন্য নয়।

বার্তার শেষাংশে সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘বিশ্বকাপে দেখা হবে।’

উল্লেখ্য, বার্সেলোনার আরসিডিই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হলেও মাঠের বাইরের ঘটনাই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

যেখানে খেলা চলাকালীন সময়ে গ্যালারির একাংশ থেকে ইসলামবিদ্বেষী গান ও স্লোগান শোনা যায়। এমনকি মিশরের জাতীয় সঙ্গীতের সময় শিস দেয়া হয় ও কিছু খেলোয়াড় সেজদা দিলে তাতেও কটূক্তি করা হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বিরতিতে স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় এবং ঘোষণার মাধ্যমে দর্শকদের সতর্ক করা হলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। উগ্র দর্শকদের থামানো যাচ্ছিল না।

এমন ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে ফুটবল পাড়ায়। পুরো ঘটনায় স্পেন ফুটবলে আবারো বর্ণবাদ ও বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও বার্সেলোনার আঞ্চলিক পুলিশ ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।

পাশাপাশি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা-ফিফাও ম্যাচের বিভিন্ন প্রতিবেদন পর্যালোচনা করছে। রেফারি, ম্যাচ কমিশনার ও নিরাপত্তা সংস্থার রিপোর্ট এবং ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে।