বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে শেষ ৯ ম্যাচে অপরাজিত থাকার কীর্তি নিয়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে নেমেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু সেই গৌরব ধুলোয় মিশেছে। ঘরের মাঠে হারের তিক্ত স্বাদ মিলেছে।
ছাদবন্ধ গ্যালারিতে শেষ হাসি বায়ার্নই হেসেছে। রিয়ালের দূর্গে তাদেরই গর্জন থামিয়ে দিয়েছে তারা। লুইজ দিয়াজ আর হ্যারি কেইনের গোলে রিয়ালকে হারিয়ে দিয়েছে ২-১ গোলে।
এই হারে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে যাওয়ার রাস্তাটা বেশ কঠিন হয়ে গেল রিয়ালের। বায়ার্নকে তাদের মাঠে হারিয়েই শেষ চারের টিকিট কাটতে হবে তাদের। যা বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে।
সব মিলিয়ে এক যুগেরও বেশি সময় পর রিয়ালের বিপক্ষে জয়ের দেখা পেল বায়ার্ন। এর আগে তারা মাদ্রিদের দলটির বিপক্ষে সবশেষ জিতেছিল ২০১১-১২ আসরে, সেমি-ফাইনালের প্রথম লেগে, ২-১ গোলে।
সেবার অবশ্য ফিরতি লেগে রিয়ালও একই ব্যবধানে জয় পায়। পরে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। যেখানে জিতে যায় বায়ার্ন। এমনকি ওই আসরে চ্যাম্পিয়নও হয় তারা।
এরপর স্প্যানিশ ক্লাবটির বিপক্ষে জয়ের পথটাই যেন ভুলে গিয়েছিল বায়ার্ন, আরো চারবার নকআউটে দেখায় মোট আট ম্যাচ খেলে জিততে পারেনি একটিও। সেই গেরো এবার কাটল অবশেষে।
মঙ্গলবার রাতের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে লড়াই হয়েছে সমানে সমানে। দু’দলই সুযোগ নষ্ট করেছে অসংখ্য, নয়তো স্কোরলাইন বড় হতে পারতো আরো। উভয় দলই গোলের জন্য শট নিয়েছে ২০টি করে।
৯ মিনিটের মাথায় রিয়াল গোলরক্ষক আন্দ্রে লুনিনকে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন উপমেকানো। পরের কয়েক মিনিটে পাল্টা আক্রমণে দারুণ দু’টি সুযোগ তৈরি করে রিয়ালও। হতাশ করেন ম্যানুলেয় নয়্যার।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের জমজমাট লড়াইয়ে ডেডলক ভাঙে ৪১তম মিনিটে। জিনাব্রির ছোট থ্রু পাস ডি-বক্সে ধরেই নিখুঁত শটে লুনিনকে পরাস্ত করেন লুইজ দিয়াজ।
পিছিয়ে পড়ে রিয়াল চেষ্টা করে ম্যাচে ফেরার। কিন্তু বিরতির আগে কাঙ্ক্ষিত সমতাসূচক গোলের দেখা পায়নি তারা। উল্টা বিরতির পর মাঠে নেমেই ফের গোল হজম করে বসে রিয়াল।
মাঠে নামার ২০ সেকেন্ডের মাঝে গোল করে বায়ার্নকে ২-০ গোলে এগিয়ে দেন হ্যারি কেইন। দারুণ ফিনিশিংয়ে গোলটি করেন ছন্দে থাকা কেইন। যা চলতি চ্যাম্পিয়নস লিগে তার ১১তম গোল।
দ্বিতীয় গোল খেয়ে যেন রিয়ালের আত্মবিশ্বাস নড়ে যায়। গড়বড় হতে থাকে তাদের পজিশন। বারবার হতাশ করতে থাকেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ভিনিসিউস জুনিয়র।
অনেক ব্যর্থতার পর, অবশেষে ৭৪তম মিনিটে সাফল্যের দেখা পায় লস ব্লাঙ্কোজরা। ম্যাচে প্রথমবার পরাস্ত হন নয়ার। ট্রেন্ট- অ্যালেকজ্যান্ডার আর্নল্ডের ক্রস পা বাড়িয়ে লক্ষ্যে পাঠান এমবাপ্পে।
এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এমবাপ্পের গোল হলো ১৪টি, মৌসুমে সব মিলিয়ে হলো ৩৯টি, ৩৭ ম্যাচে।
এদিকে এই গোলের পর রিয়াল শিবির যেন জ্বলে উঠে। কিন্তু জ্বলে উঠলেও বায়ার্নকে পুড়াতে পারেননি ভিনিসিউস-এমবাপ্পেরা। ২-১ গোলে হারের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় স্বাগতিকদের।
আগামী বুধবার আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় মাঠে গড়াবে ফিরতি লেগ। যা রিয়াল মাদ্রিদের জন্য বাঁচা-মরার লড়াই।



