বাংলাদেশকে বড় হারের স্বাদ দিলো ভিয়েতনাম

দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় বাংলাদেশ দল বেশ ভালোভাবেই সামাল দিতে পেরেছে রক্ষণ। তাতে এই সময়ে আর কোনো গোল হজম করতে হয়নি। হাভিয়ার কাবরেরার জন্য এটাই ছিল তাদের সামান্য স্বস্তির।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ভিয়েতনামের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ
ভিয়েতনামের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ |সংগৃহীত

সবদিক থেকে পিছিয়ে থেকেই ভিয়েতনামের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। চাওয়া ছিল অবিশ্বাস্য কিছুর। তবে তেমন কিছু ঘটেনি। বড় হার নিয়েই মাঠ ছেড়েছেন হামজা চৌধুরীরা।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) হ্যানয়ের হ্যাং ডে স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই স্বাগতিকদের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। যা ভেঙে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। হেরে যায় ৩-০ গোলের ব্যবধানে।

মূলত প্রথমার্ধেই তিন গোল হজম করে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে হাভিয়ের কাবরেরার দল। বিরতির পর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও স্কোরলাইনে আর কোনো পরিবর্তন আসেনি।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৭৮ ধাপ এগিয়ে থাকা ভিয়েতনাম চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে দো হোয়াং হেনের পায়ে বল তুলে দেন তারিক কাজী।

তবে তিনি বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আগেই স্লাইড করে তার শট ব্লক করেন সাদ উদ্দিন।

অষ্টম মিনিটে লিড নেয় ভিয়েতনাম। এ গোলেও দায় ছিল বাংলাদেশের ডিফেন্সের। কর্নার থেকে আসা বলে পা ছোঁয়ান ফাম তুয়ান হাই। তার শট জায়ানের পায়ে লেগে পোস্টে জড়িয়ে যায়।

১৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে হোয়াং হেনের কোনাকুনি শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক শ্রাবণ। পরের মুহূর্তেই হোয়াং দুয়ের দুর্দান্ত ভলি ফিস্ট করে দলকে রক্ষা করেন তিনি।

এর দুই মিনিট পরই দ্বিতীয় গোল হজম করে বাংলাদেশ। আবারো রক্ষণভাগের ভুলে। সতীর্থের নেয়া লম্বা ফ্রি-কিকে ফাম জুয়ান মানের হেড জালে জড়ায়। ডিফেন্ডারদের অফসাইড ফাঁদ ভেঙে গোলটি করেন ভিয়েতনাম ফরোয়ার্ড।

দুই গোল হজমের পর কিছুটা খোলস ছেড়ে বের হওয়ার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। ২০ মিনিটে ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের ডান পায়ের জোরালো ভলি ভিয়েতনাম গোলরক্ষক ড্যাং ভ্যান দাম বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকান।

২৬ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে ভালো জায়গায় বল পেয়েও এলোমেলো শটে সুযোগ নষ্ট করেন সোহেল রানা। এরপর ৩২ মিনিটে ভিয়েতনামের আরেকটি আক্রমণ থেকে নিশ্চিত গোল বাঁচান শ্রাবণ।

তবে ৩৮ মিনিটে আর শেষ রক্ষা হয়নি। ব্যবধান ৩-০ করেন হাই লং। দুই ডিফেন্ডারের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে তারিক কাজীর পায়ের ফাঁক দিয়ে দূরের পোস্টে বল পাঠান তিনি।

প্রথমার্ধের প্রায় পুরোটা সময় রক্ষণাত্মক খেলে যায় বাংলাদেশ। মাঝে মাঝে আক্রমণে উঠে কয়েকটি শট নিলেও, সেগুলো জাল খুঁজে নিতে পারেনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মিরাজুল ইসলাম ও ফাহমেদুলকে বদলি করে মাঠে নামানো হয় মোরসালিন ও শাহরিয়ার ইমনকে। কিছুক্ষণ পর বদলি হিসেবে নামেন জামাল ভূঁইয়াও। তবে একাধিক পরিবর্তন এনেও খুব একটা সুবিধা আদায় করতে পারেনি বাংলাদেশ।

র‌্যাঙ্কিংয়ের ১০৩ নম্বরে থাকা দলটি বারবারই আক্রমণে আধিপত্য দেখিয়ে গেছে। যে কয়েকটি সুযোগ বাংলাদেশ পেয়েছিল, সেগুলো খুঁজে নিতে পারেনি জাল। তবে আর কোনো গোলও হজম করেনি।

দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় বাংলাদেশ দল বেশ ভালোভাবেই সামাল দিতে পেরেছে রক্ষণ। তাতে এই সময়ে আর কোনো গোল হজম করতে হয়নি। হাভিয়ার কাবরেরার জন্য এটাই ছিল তাদের সামান্য স্বস্তির।