জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নির বিরুদ্ধে চলা তদন্তে এসেছে নতুন মোড়। ভিনিসিউস জুনিয়রকে কটূক্তি করার অভিযোগ মেনে নিয়েছেন তিনি। তবে ‘বানর’ নয়, ভিনিকে ‘পুরুষত্বহীন’ বলেছিলেন বলে দাবি তার।
মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদ ও বেনফিকা ম্যাচে ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে বর্ণবাদী গালি দেয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে।
অভিযুক্ত আর্জেন্টাইন ফুটবলার জানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি বর্ণবাদের অভিযোগ অস্বীকার করলেও অন্য এক আপত্তিকর গালি দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
খেলাধুলাভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএন জানিয়েছে, উয়েফার তদন্ত কমিটির কাছে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন প্রেস্তিয়ান্নি। সেখানে তিনি দাবি করেন, তিনি ভিনিসিউসকে ‘বানর’ (মোনো) বলেননি।
এর বদলে তিনি অত্যন্ত অপমানজনক শব্দ (মারিকোন) ব্যবহার করেছিলেন। স্প্যানিশ ভাষায় ‘মারিকোন’ শব্দটি দিয়ে কাউকে ‘পুরুষত্বহীন’ বা ‘দুর্বল’ বোঝায়।
যা সেখানে অত্যন্ত নোংরা গালি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার চুয়ামেনিও জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই প্রেস্তিয়ান্নি মাঠের ভেতর একই ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন।
যদিও রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে তিনি নিজ কানে প্রেস্তিয়ান্নিকে পাঁচবার ভিনিসিয়াসকে ‘বানর’ বলতে শুনেছেন।
তবে ঘটনা যাইহোক, প্রেস্তিয়ান্নি বর্ণবাদের বদলে সমকামীবিদ্বেষী গালি দেয়ার কথা স্বীকার করলেও পার পাওয়ার সুযোগ কম। উয়েফার আইন অনুযায়ী, যেকোনো ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণের শাস্তি একই।
উয়েফার নিয়ম অনুযায়ী, এমন অপরাধ প্রমাণিত হলে ওই খেলোয়াড়কে কমপক্ষে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে হতে পারে। ফলে বলাবাহুল্য যে, প্রেস্তিয়ান্নির ওপর বড় শাস্তি আসতে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার লিসবনে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফের ম্যাচে ভিনিসিউসের করা গোলের পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ভিনির অভিযোগ ছিল, প্রেস্তিয়ান্নি তাকে ‘বানর’ বলে গালি দিয়েছেন। এর জেরে প্রায় ১০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। তবে শেষ পর্যন্ত এই ভিনির একমাত্র গোলেই ম্যাচটা ১-০ ব্যবধানে জিতে রিয়াল মাদ্রিদ।



