তানজিদ হাসান তামিমের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানকে ২৯১ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। আজ সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি রূপ নিয়েছে সিরিজ নির্ধারণী লড়াইয়ে। যেখানে মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৯০ রান সংগ্রহ করেছে স্বাগতিকরা।
টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। তবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ক্রিকেট খেলতে থাকে বাংলাদেশের দুই ওপেনার তানজিদ তামিম ও সাইফ হাসান। তাদের ব্যাটে গড়ে ওঠে ১০৫ রানের উদ্বোধনী জুটি, যা দলের ইনিংসের শক্ত ভিত তৈরি করে দেয়। ইনিংসের ১৯তম ওভারে শাহিন আফ্রিদির বল এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে লাইন মিস করলে বোল্ড হয়ে ফেরেন সাইফ হাসান। সাজঘরে ফেরার আগে ৫৫ বলে ৩৬ রান করেন তিনি।
উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর ক্রিজে আসেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তানজিদের সাথে মিলে তিনি দ্বিতীয় উইকেটে আরো ৫৩ রান যোগ করেন। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি শান্ত। হারিস রউফের বলে আউট হওয়ার আগে তিনি করেন ২৭ রান।
অন্যদিকে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যেতে থাকেন তানজিদ হাসান তামিম। মাত্র ৪৭ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করার পর ধৈর্য ধরে ইনিংস এগিয়ে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৯৮ বলে শতকে পৌঁছান এই বাঁহাতি ওপেনার, যা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। তবে সেঞ্চুরির পর বেশি সময় ক্রিজে থাকতে পারেননি তিনি। আবরারের কিছুটা খাটো লেংথের বলে কাট করতে গিয়ে কাভারে শাহিন আফ্রিদির হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তানজিদ। ১০৭ বলে ১০৭ রান করা তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৭টি ছক্কা।
তানজিদের বিদায়ের পর ইনিংসের হাল ধরেন তাওহীদ হৃদয়। চতুর্থ উইকেটে লিটন কুমার দাসকে সাথে নিয়ে তিনি গড়েন গুরুত্বপূর্ণ ৬৮ রানের জুটি, যা দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে দেয়। হারিস রউফের বলে আউট হওয়ার আগে ৪১ রান করেন লিটন। এরপর ক্রিজে এসে কোনো রান না করেই প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে ফেরেন রিশাদ হোসেন।
ইনিংসের শেষদিকে বড় রান তোলার সুযোগ থাকলেও তা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। ৪৯তম ওভারে আসে ৫ রান এবং শেষ ওভারে ৮ রান। ফলে শেষ দুই ওভারে মাত্র ১৩ রান যোগ হওয়ায় তিন শ’র মাইলফলক ছোঁয়া হয়নি। নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে বাংলাদেশ থামে ৫ উইকেটে ২৯০ রানে। তাওহীদ হৃদয় ৪৪ বলে ৪৮ রান এবং আফিফ হোসেন ৮ বলে ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন।
বাংলাদেশের ইনিংসটি গড়ে উঠেছে মূলত তানজিদ হাসান তামিমকে ঘিরেই। উদ্বোধনী জুটিতে সাইফ হাসানের সাথে ১০৫ রান এবং দ্বিতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্তর সাথে ৫৩ রানের জুটি গড়ে ইনিংসের ভিত্তি তৈরি করেন তিনি। পরে মাঝের ওভারে লিটন ও হৃদয়ের জুটিতে দল বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যায়। শেষ দশ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে ৭৭ রান যোগ করে বাংলাদেশ, যা সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে পাকিস্তানের সামনে দাঁড় করিয়েছে ২৯১ রানের লক্ষ্য।


