টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের সেমিফাইনালের দৌড়ে ভালোভাবে টিকে থাকার লক্ষ্যে আগামীকাল সুপার এইট পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ড। এ ম্যাচে জয়ী দলের সেমিতে খেলার আশা বেঁচে থাকবে। আর হেরে যাওয়া দলের সেমিতে খেলার পথ কঠিন হয়ে পড়বে।
কলম্বোতে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মাঠে নামবে শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ড।
হার দিয়ে সুপার এইট পর্ব শুরু করে শ্রীলঙ্কা। পাল্লেকেলে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ইংল্যান্ডের কাছে ৫১ রানে হারে লঙ্কানরা। প্রথমে ব্যাট করতে নামা ইংল্যান্ডকে ১৪৬ রানে আটকে রাখে শ্রীলঙ্কার বোলাররা।
এরপর ইংল্যান্ডের বোলারদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করে শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা। ১৬.৪ ওভারে ৯৫ রানে গুটিয়ে যায় লঙ্কানরা। উপরের সারির ছয় ব্যাটারের কেউই ২০ রানের কোটা স্পর্শ করতে পারেননি। এই ব্যাটারদের নৈপুন্যেই গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৮২ রানের টার্গেট স্পর্শ করেছিল শ্রীলঙ্কা। ৫২ বলে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস খেলে অসিদের বিপক্ষে জয়ের নায়ক হয়েছিলেন ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা।
সুপার এইটে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে চায় শ্রীলঙ্কা। সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকতে হলে এ ম্যাচে লঙ্কানদের জন্য জয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এমনটা জানেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন শানাকাও। তিনি বলেন, ‘প্রথম ম্যাচে নিজেদের ভুলেই আমরা ম্যাচ হেরেছি। ১৪৭ রান করা উচিত ছিল ব্যাটারদের। কিন্তু আমরা বাজে শট খেলে আউট হয়েছি। আশা করছি, পরের ম্যাচে দল ঘুরে দাঁড়াবে এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়বে।’
গ্রুপ পর্বে ৪ ম্যাচে ৩ জয় ও ১ হারে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থেকে সুপার এইটে খেলার টিকিট পায় নিউজিল্যান্ড। সুপার এইটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের সাথে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে কিউইরা। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামতে মুখিয়ে আছে নিউজিল্যান্ড। সেমিফাইনালের আশা ভালোভাবে বাঁচিয়ে রাখতে এ ম্যাচের জয়ের লক্ষ্য ব্ল্যাক-ক্যাপসদেরও। দলের মারকুটে ওপেনার ও উইকেটরক্ষক টিম সেইফার্ট বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে প্রথম ম্যাচ খেলতে না পারা হতাশার। তবে প্রকৃতির উপর তো কারও হাত নেই। পরের ম্যাচেই মাঠে নামতে মুখিয়ে আছি আমরা। এ ম্যাচ জিতলে সেমির দৌড়ে টিকে থাকতে পারব আমরা। দলের সবাই ম্যাচ জয়ের জন্য নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত।’
টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৮ ম্যাচ খেলে ১৬টিতে জিতেছে নিউজিল্যান্ড। শ্রীলঙ্কার জয় ৯ ম্যাচে। দু’টি ম্যাচ টাই ও একটি পরিত্যক্ত হয়। টাই হওয়া ২ ম্যাচেই সুপার ওভারে জয় পায় লঙ্কানরা।
২০২২ সালে বিশ্বকাপের মঞ্চে সর্বশেষ দেখা হয়েছিল শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের। সিডনিতে লঙ্কানদের বিপক্ষে ৬৫ রানে জিতেছিল নিউজিল্যান্ড।
শ্রীলঙ্কা দল : দাসুন শানাকা (অধিনায়ক), পাথুম নিসাঙ্কা, কামিল মিশারা, কুশল মেন্ডিস, কামিন্দু মেন্ডিস, কুশল পেরেরা, চারিথ আসালাঙ্কা, জানিথ লিয়ানাগে, পাভান রাত্নায়েকে, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, দুনিথ ওয়েলালাগে, মাহিশ থিকশানা, দুশমান্থা চামিরা, মাথিশা পাথিরানা, ইশান মালিঙ্গা।
নিউজিল্যান্ড দল : মিচেল স্যান্টনার (অধিনায়ক), ফিন অ্যালেন, মাইকেল ব্রেসওয়েল, মার্ক চ্যাপম্যান, ডেভন কনওয়ে, জ্যাকব ডাফি, লকি ফার্গুসন, ম্যাট হেনরি, ড্যারিল মিচেল, জেমস নিশাম, গ্লেন ফিলিপস, রাচিন রবীন্দ্র, টিম সেইফার্ট, ইশ সোধি, কাইল জেমিসন। বাসস



