অবিশ্বাস্য এক ক্রিকেট ম্যাচের সাক্ষী হলো ক্রিকেট বিশ্ব। প্রতি পরতে ছিল যার টান টান উত্তেজনা আর রোমাঞ্চ। যেখানে ইংলিশদের হতাশ করে শেষ হাসি ভারতের। আবারো ফাইনালে ম্যান ইন ব্লুরা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। এবার আরো একবার শিরোপা জয়ের হাতছানি তাদের সামনে। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২৫ রানে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছে তারা।
রোববার আহমেদাবাদে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামবে ভারত। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হতে মুখিয়ে কিউইরা।
বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে লড়াইটা হয়েছে সেয়ানে সেয়ানে। ওয়াংখেড়েতে টসে হেরে আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৫৩ রান করে ভারত। নল আউট ম্যাচে আগে কখনো এতো রান দেখেনি বিশ্বকাপ।
ফাইনালে যেতে হলে তাই ইতিহাস গড়তে হতো ইংল্যান্ডকে। থ্রি লায়ন্সরা হাঁটছিল সেই পথেই। একটা সময় তো মনে হচ্ছিলো জয় হাতের মুঠোয়। তবে শেষ পর্যন্ত আর পারেনি, ৭ উইকেটে ২৪৬ রানে থামে দৌঁড়।
দুই দল মিলিয়ে এদিন করেছে মোট ৪৯৯ রান। যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের ম্যাচ, সব মিলিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচে এসেছিল ৫১৭ রান।
এদিন দুই দল গড়েছে ছক্কার রেকর্ডও। ভারত ও ইংল্যান্ড মিলে মেরেছে ৩৪টি ছক্কা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে যা সর্বোচ্চ। যেখানে ভারতের ছক্কা ১৯টি, ইংল্যান্ডের ১৫ টি। সব মিলিয়ে অবিস্মরণীয় এক ম্যাচ দেখল বিশ্ব।
ইংল্যান্ডকে এদিন লড়াইয়ে রেখেছিলেন জ্যাকব বেথেল। তরুণ এই ব্যাটার ওয়াংখেড়েকে আতঙ্কে ফেলে দেন। মাত্র ৪৫ বলে তুলে নেন সেঞ্চুরি। শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে করেন ৪৮ বলে ১০৫ রান।
অথচ বড় তারকাদের সবাই ছিলেন নিস্প্রভ। বড় রান তাড়ায় তাদের যেভাবে ব্যাট করার প্রয়োজন ছিল, তা পারেনি। পাওয়ার প্লেতেই হারিয়ে ফেলে ৩ উইকেট। এই সময় ৬৪ রান আসলেও ৯ বলে ২৬ রানই ছিল বেথেলের।
ফিল সল্ট ৫, হ্যারি ব্রুক ৭ ও অভিজ্ঞ জশ বাটলার আউট হন ১৭ বলে ২৫ রান নিয়ে। টম ব্যান্টনও ফেরেন দ্রুত (৫ বলে ১৭)। ৭.৩ ওভারে ৯৫ রানে ৪ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। এরপর উইল জ্যাকসে নিয়ে হাল ধরেন বেথেল।
এই জুটিতে ৩৯ বলে আসে ৭৭ রান। জ্যাকস ২০ বলে ৩৫ করে আউট হন। তবে ১৯ বলে ফিফটি তুলে নেন বেথেল। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে যা দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ড।
হাফ সেঞ্চুরির পর স্যাম কারানকে নিয়ে দলকে দুই শ’ পাড় করান তিনি। কারান আউট হন ১৪ বলে ১৮ করে। এরপর শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩০ রান। কঠিন, তবে অসম্ভব ছিল না।
কিন্তু শিবাম দুবের প্রথম বলেই ২ রান নিতে গিয়ে আউট হয়ে যান বেথেল। সেখানেই শেষ ইংল্যান্ডের স্বপ্ন। জফরা আর্চার শেষ ৩ বলে ছক্কা মারলেও তাই লাভ হয়নি। ফাইনালের টিকিট কাটে ভারত।
এর আগে, টসে হেরে আগে ব্যাট করে ভারত। তবে শুরুতেই অভিষেক শর্মার (৯) উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। তবে এরপরই ঘুরে যায় ইনিংসের মোড়।
সঞ্জু স্যামসন ও ইশান কিষান মিলে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। দুজন মিলে পাওয়ার প্লেতে নেন ৬৭ রান। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে মাত্র ৪৫ বলে ৯৭ রানের জুটি গড়েন তারা।১৮ বলে ৩৯ রান নিয়ে আউট হন ইশান।
স্যামসন একদিন আগলে খেলতে থাকেন নিজের মতো করে। অন্যদিক থেকে শিভাম দুবে দেন যোগ্য সঙ্গ। যখন মনে হচ্ছিলো, হয়তো সেঞ্চুরি পেয়ে যাবেন, তখন স্যামসন ফেরেন ৪২ বলে ৮৯ রান নিয়ে।
এরপর দুবের ২৫ বলে ৪৩, হার্দিক পান্ডিয়ার ১২ বলে ২৭ ও তিলক ভার্মার ৭ বলে ২১ রানে আড়াই শ’ পেরোয় ভারত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে নক আউট ম্যাচে যা সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০৫ রান করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এছাড়া আর কোনো দলেরই সেমিফাইনালে নেই দুইশ রানের রেকর্ড। ফলে ফাইনালে যেতে হলে অনেক নতুন রেকর্ড গড়তে হবে থ্রি লায়ন্সদের।
এদিকে ইংল্যান্ডের হয়ে দু’টি করে উইকেট নেন আদিল রশিদ ও উইল জ্যাকস। আর ৪ ওভারে ৬১ রান খরচ করেন জফরা আর্চার। যা ছিল নকআউট ম্যাচে সর্বোচ্চ রান খরচের রেকর্ড।
তবে ম্যাচ শেষে তাকে ছাপিয়ে যান বরুণ চক্রবর্তী। ভারতের হয়ে ৪ ওভারে ৬৪ রান দেন তিনি। তাতে লজ্জা থেকে মুক্তি মেলে আর্চারের। যদিও তার দল হেরে যায়।



