২০০৭ সালের এদিনে অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছিলেন মালিঙ্গা

২০০৭ সালের আজকের এইদিনে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নেমে গড়েছিলেন এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড। যা আজ পর্যন্ত ছুঁতে পারেনি কেউ।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সিপারামাদু লাসিথ মালিঙ্গা স্বর্ণজিৎ
সিপারামাদু লাসিথ মালিঙ্গা স্বর্ণজিৎ |নয়া দিগন্ত

হ্যাট্রিক ম্যান— শব্দযুগল শোনামাত্র হয়তো আপনার চোখে লিওনেল মেসি বা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠবে! মনে আসতে পারে অন্য কোনো ফুটবলারের নাম। অবশ্য আসাটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু আপনি যদি ক্রিকেটের দিক দিয়ে ভাবেন, তবে আপনাকে এমন একজনের সম্পর্কে ভাবতে হবে যিনি কিনা ২০০৭ সালের আজকের এইদিনে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নেমে গড়েছিলেন এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড। যা আজ পর্যন্ত ছুঁতে পারেনি কেউ।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ হ্যাট্রিকধারী ওই খেলোয়াড় ক্যারিয়ারে ৫টি হ্যাট্রিকের মালিক। যার ২টাই আবার ডাবল হ্যাট্রিক! এখন প্রশ্ন হতে পারে, কে তিনি?

উত্তরে ঝাঁকড়া কোঁকড়ানো চুল আর ভিন্ন ধাঁচের বোলিং আক্রমণে মাঠ মাতানো একজনকে মনে পড়বে। যিনি দীর্ঘ ১৬ বছর বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মাতিয়েছেন, বাইশ গজে উঠিয়েছেন ব্যাটসম্যানদের নাভিশ্বাস! দুর্দান্ত সব ইয়র্কারে ভেঙেছেন অসংখ্য উইকেট; গড়েছেন রেকর্ড, ঠাঁয় নিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়।

হ্যাঁ ঠিকই ধরতে পেরেছেন, তিনি হলেন সিপারামাদু লাসিথ মালিঙ্গা স্বর্ণজিৎ। যাকে ক্রিকেট বিশ্ব চিনে ‘স্লিঙ্গা মালিঙ্গা’ নামে!

ক্যারিয়ারে অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তি ক্রিকেটার মালিঙ্গা! তবে নিজের প্রথম বিশ্বকাপে (২০০৭) যা করেছেন; তা তাকে তুলে রাখবে অনন্য উচ্চতায়। হয়তো তার নিজেরও প্রিয় রেকর্ডের তালিকায় সেটিই থাকবে সেরা হয়ে।

২০০৭ বিশ্বকাপে প্রথম আত্মপ্রকাশেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টানা চার বলে শন পোলক, অ্যান্ড্রু হল, জ্যাক কালিস ও এনটিনিকে আউট করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন মালিঙ্গা। ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত টানা ৪ বলে ৪ উইকেট ওই একটিই।

অবশ্য টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪ বলে ৪ উইকেট শিকারের কীর্তি আছে আফগানিস্তানের রশিদ খানের। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২ বার ৪ বলে ৪ উইকেট নেয়ার কৃতীত্ব একমাত্র মালিঙ্গারই।

২০০৭ সালের আজকের এই দিনে অর্থাৎ ২৮ মার্চ সুপার এইটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হয় শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কার ছুঁড়ে দেয়া ২১০ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে ৪৪.৪ ওভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ২০৬ রান।

শেষ ৩২ বলে দরকার মাত্র ৪ রান আর হাতে আছে ৫ উইকেট। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রোটিয়াদের জয় তখন একপ্রকার নিশ্চিতই ছিল। এমনকি অনেকে ম্যাচ শেষ ভেবে স্টেডিয়াম ছাড়তেও শুরু করে।

এমন সময়ে জাদু দেখান লাসিথ মালিঙ্গা। ৪৪তম ওভারের শেষ দুই বলে শন পোলক ও অ্যান্ড্রু হলকে আউট করেন তিনি। তখনো মনে হচ্ছিল এই দুই উইকেট ম্যাচের ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

চামিন্দা ভাসের পরের ওভার থেকে আসে মাত্র এক রান। তবে চমকের তখনো বাকি। ৮৬ রানে অপরাজিত ক্যালিসের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের আশায় ৪৬তম ওভার করতে আসেন মালিঙ্গা। এবার দ্রুত গতির এক বলে ক্যালিসকে কট বিহাইন্ডের ফাঁদে ফেলে তুলে নেন হ্যাটট্রিক। স্টেডিয়ামের বাকি দর্শকরা তখন নড়েচড়ে ওঠেন।

অবিশ্বাস্য কিছু কি তবে ঘটতে চলেছে? এমন প্রশ্ন যখন সবার মনে, তখন ইতিহাস রচনা করেন মালিঙ্গা। দুর্দান্ত এক ইয়র্কারে এনটিনিকে বোল্ড করেন তিনি। অর্থাৎ টানা ৪ বলে ‍তুলে নেন ৪ উইকেট।

২০৬/৫ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা পরিণত হয় ২০৭/৯ এ। তবে শেষপর্যন্ত দলকে জয় এনে দিতে পারেননি তিনি, ১ উইকেটে ম্যাচটা হেরে যায় শ্রীলঙ্কা। ম্যাচ হারলেও মালিঙ্গা ঠিকই জানান দেন নিজের অবস্থান।