কাবুলের হাসপাতালে বিমান হামলা, ক্ষেপেছেন রশিদ-নবি

মানবজীবনের প্রতি এমন অবহেলা, বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে, অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি শুধু বিভাজন ও ঘৃণাই বাড়াবে। আমি জাতিসঙ্ঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই, এই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করা হোক। দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
রশিদ খান ও মোহাম্মদ নবি
রশিদ খান ও মোহাম্মদ নবি |ইন্টারনেট

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের এক হাসপাতালে ভয়াবহ বিমান হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে। হামলায় কমপক্ষে চার শ’ জন নিহত ও ২৫০ জনের বেশি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আফগান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামিদুল্লাহ ফিতরাত জানান, স্থানীয় সময় সোমবার রাত প্রায় ৯টার দিকে একটি মাদক পুনর্বাসন হাসপাতালে এই হামলা হয়। তাতে প্রায় দুই হাজার শয্যার ওই হাসপাতালের বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

এই ঘটনার পর অন্য সবার মতো মর্মাহত আফগানিস্তানের ক্রিকেটাররা, বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে এমন হামলার ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন। মোহাম্মদ নবি-রশিদ খানরা প্রকাশ করেছেন ক্ষোভ।

আফগানিস্তানের তারকা ক্রিকেটার রশিদ খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘কাবুলে পাকিস্তানি বিমান হামলায় বেসামরিক মানুষের হতাহতের খবর শুনে আমি গভীরভাবে শোকাহত। বেসামরিক ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা চিকিৎসা অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা করা- ইচ্ছাকৃত হোক বা ভুলবশত, এটি যুদ্ধাপরাধ।’

তিনি আরো বলেন, ‘মানবজীবনের প্রতি এমন অবহেলা, বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে, অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি শুধু বিভাজন ও ঘৃণাই বাড়াবে। আমি জাতিসঙ্ঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই, এই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করা হোক। দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।’

সাবেক আফগান অধিনায়ক মোহাম্মদ নবিও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আজ রাতে কাবুলে একটি হাসপাতালে আশা নিভে গেছে। চিকিৎসা নিতে আসা তরুণদের বোমা হামলায় হত্যা করা হয়েছে। মায়েরা হাসপাতালের গেটে দাঁড়িয়ে তাদের ছেলেদের নাম ধরে ডাকছিলেন। রমজানের ২৮তম রাতে তাদের জীবন থেমে গেল।’

এদিকে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ হাসপাতালে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী কেবল নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনায় নিখুঁত বিমান হামলা চালিয়েছে।