আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে ভারত। তৃতীয়বার টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের পর যখন দেশটি জুড়ে উৎসবের মেজাজ, ঠিক তখনই দানা বাঁধল বিতর্ক। রোববার রাতে বিশ্বজয়ের ট্রফি নিয়ে আহমেদাবাদের হনুমান মন্দিরে পূজা দিতে গিয়েছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব, কোচ গৌতম গম্ভীর এবং আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ। আর এই ঘটনা নিয়েই তীব্র সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এবার তাদের সাথে সরব হলেন তৃণমূল সংসদ সদস্য ও ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য কীর্তি আজাদ।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে একটি দীর্ঘ পোস্টে ক্ষোভ উগরে দেন কীর্তি আজাদ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘কেন মসজিদে যাওয়া হলো না? কেন গির্জা বা গুরুদ্বারে যাওয়া হলো না? এই ট্রফি ১৪০ কোটি ভারতীয়র, প্রতিটি ধর্মের মানুষের। এটি কেবল একটি ধর্মের বিজয় উৎসব হতে পারে না!’
কীর্তি আজাদ আরো মনে করিয়ে দেন যে, ১৯৮৩ সালে যখন কপিল দেবের নেতৃত্বে ভারত বিশ্বকাপ জিতেছিল, সেই দলেও হিন্দু, মুসলিম, শিখ এবং খ্রিস্টান ধর্মের ক্রিকেটাররা ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ট্রফিকে আমাদের মাতৃভূমি ভারতে এনেছিলাম, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের জয়গান করতে নয়।’
তৃণমূল সংসদ সদস্য এদিন মোহাম্মদ সিরাজ ও সঞ্জু স্যামসনের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘এই দল ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে, সূর্যকুমার বা জয় শাহের পরিবারের নয়। সিরাজ কখনো ট্রফি নিয়ে মসজিদে যাননি, সঞ্জু স্যামসন কখনো গির্জায় প্যারেড করেননি। অথচ সঞ্জু টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়ে জয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন।’
বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র মাস কয়েক বাকি। এমন পরিস্থিতিতে কীর্তি আজাদের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি ক্রিকেটের মতো খেলাকেও হিন্দুত্বের রঙ দিয়ে সাম্প্রদায়িক রূপ দেয়ার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, পাল্টাপাল্টি আক্রমণে বিজেপি একে তৃণমূলের ‘মুসলিম তোষণ’ বলে তকমা দিয়েছে।
স্বাগতিক দেশ হিসেবে প্রথমবার টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের যে নজির টিম ইন্ডিয়া গড়েছে, সেই খবরের চেয়েও এখন জয় শাহ ও গম্ভীরদের মন্দির দর্শন ঘিরে শুরু হওয়া এই বিতর্কই শিরোনামে বেশি জায়গা করে নিচ্ছে।
সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস



