ধোনিকে কি খোঁচা মারলেন গম্ভীর?

বছরের পর বছর ধরে নির্দিষ্ট কয়েকটা ইনিংস বা পারফরম্যান্স নিয়েই আলোচনা চলে এসেছে। কিন্তু এটা দলগত খেলা।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
২০১১ বিশ্বকাপের ফাইনালে দুজনের অনবদ্য জুটি
২০১১ বিশ্বকাপের ফাইনালে দুজনের অনবদ্য জুটি |সংগৃহীত

সঞ্জু স্যামসনের ৯৭ রানের দুরন্ত ইনিংসে ভর করে টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে ভারত। তারপরই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন ভারতীয় দলের হেডকোচ গৌতম গম্ভীর। তার কথায়, বহু দিন ধরে নির্দিষ্ট কিছু ইনিংস নিয়েই চর্চা হয়। ম্যাচ জেতানোর নেপথ্যে থাকা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসগুলো একেবারে হারিয়ে যায়। গম্ভীরের এই মন্তব্যের পর ক্রিকেটমহলে চর্চা, মহেন্দ্র সিং ধোনিকে বিঁধেই কি এমনটা বলছেন গম্ভীর?

রোববার (১ মার্চ) ইডেনে মরণবাঁচন ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারত। ৯৭ রানে অপরাজিত থাকা সঞ্জু ম্যাচের সেরা হন। তবে ভারতের রান তাড়ার সময়ে চাপ বাড়তে দেননি শিবম দুবে। দু’টি বাউন্ডারি মারেন।

ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গম্ভীর বলেন, ‘সঞ্জুর ইনিংসের মতোই গুরুত্বপূর্ণ দুবের ওই দুটো বাউন্ডারি। বড় রানের ইনিংস সবসময় হেডলাইনে আসে, কিন্তু ছোট ছোট কনট্রিবিউশনগুলোও কিন্তু দলকে জেতায়। তাই সেগুলো ভুলে গেলে চলবে না।’

গম্ভীর আরো বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে নির্দিষ্ট কয়েকটা ইনিংস বা পারফরম্যান্স নিয়েই আলোচনা চলে এসেছে। কিন্তু এটা দলগত খেলা।’

তারপর থেকেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে চর্চা চলছে গম্ভীরের এই বক্তব্য নিয়ে। নির্দিষ্ট কিছু ইনিংস বলতে কাকে নিশানা করছেন তিনি? অনেকেরই মনে পড়ছে ২০১১ বিশ্বকাপের ফাইনাল। ক্রিজের অপর প্রান্তে পরপর উইকেট পতনের মধ্যেও রান করেছিলেন গম্ভীর। ৯৭ রান করে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রানআউট হয়ে যান। তারপরে ছক্কা মেরে ভারতকে বিশ্বকাপ এনে দেন ধোনি। ৯১ রান করা ভারত অধিনায়কই ম্যাচের সেরা হন। ক্রিকেট রূপকথার পাতা থেকে গম্ভীরের ৯৭ অনেকটাই ফিকে হয়ে যায়। ধোনির ছক্কা এবং ৯১ রান নিয়ে আজও চর্চা চলে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে।

তাহলে কি নির্দিষ্ট ইনিংস বলতে ধোনিকেই নিশানা করলেন গম্ভীর? উত্তর অজানা। তবে রোববারের ম্যাচ শেষে গম্ভীর জানিয়েছেন, যতদিন তিনি কোচ থাকবেন ততদিন পর্যন্ত দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারের অবদান স্বীকৃতি পাবে। কারোর পারফরম্যান্সকে আলাদা করে মহিমান্বিত করা হবে না। তার মতে, যদি দুবের ওই দু’টি বাউন্ডারি না থাকত তাহলে হয়তো সঞ্জুর ৯৭ রানের ইনিংস বৃথা যেত।