‘কেউ দেখেনি’ এমন দৃশ্য দেখার কথা জানালেন আর্টেমিস-২ নভোচারীরা

নভোচারী কমান্ডার রিড উইসম্যান বলেন, ‘আমরা এমন সব দৃশ্য দেখেছি, যা আগে কোনো মানুষ দেখেনি- এমনকি অ্যাপোলো অভিযানের সময়ও নয়।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আর্টেমিস-২ এর চার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কচ, ভিক্টর জে. গ্লোভার ও জেরেমি হ্যানসেন ওরিয়ন
আর্টেমিস-২ এর চার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কচ, ভিক্টর জে. গ্লোভার ও জেরেমি হ্যানসেন ওরিয়ন |সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক প্রশ্নের জবাবে আর্টেমিস-২ এর নভোচারী কমান্ডার রিড উইসম্যান বলেন, ‘আমরা এমন সব দৃশ্য দেখেছি, যা আগে কোনো মানুষ দেখেনি- এমনকি অ্যাপোলো অভিযানের সময়ও নয়। আমাদের জন্য তা ছিল সত্যিই বিস্ময়কর।’

ট্রাম্প জানতে চেয়েছিলেন, ‘এই ঐতিহাসিক দিনের সবচেয়ে অবিস্মরণীয় অংশ কোনটি?’

সেই প্রশ্নেই এই কথা জানান উইসম্যান।

পৃথিবীর বাইরে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে মানুষের যাওয়ার নতুন রেকর্ড গড়লেন আর্টেমিস-২ এর নভোচারীরা।

সোমবার গ্রিনিচ সময় বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে চার নভোচারী চাঁদের পেছন দিকে সবচেয়ে দূরবর্তী জায়গায়টিতে পৌঁছান।

তখন পৃথিবী থেকে তারা প্রায় চার লাখ ছয় হাজার ৭৭১ কিলোমিটার বা দুই লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল দূরে অবস্থান করছিল বলে জানিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

এর আগে মহাকাশে এত দূরে কোনো মানুষ যেতে করেনি। নতুন এই রেকর্ড গড়ার সময় পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন নভোচারীরা।

প্রায় ৪০ মিনিট যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর পুনরায় সংযোগটি স্থাপিত হয়।

এসময় পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে যাওয়ার নতুন রেকর্ড গড়ার জন্য নভোচারীদের অভিনন্দন জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

পুনরায় সংযোগ স্থাপিত হওয়ার পর নভোচারীদের সাথে সরাসরি কথাও বলেন তিনি। জানতে চান, কেমন ছিল পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিজ্ঞতা।

ট্রাম্প প্রশ্ন করেন, ‘হঠাৎ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর আপনাদের কেমন লাগছিল?’

জবাবে চার নভোচারীর একজন ভিক্টর গ্লোভার বলেন, সংযোগ চলে যাওয়ার পর তিনি ‘কিছুক্ষণ প্রার্থনা’ করেছিলেন। কিন্তু তখনও চাঁদের দূরবর্তী অংশের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও প্রাপ্ত তথ্যগুলো লিপিবদ্ধ করা লেগেছিল বলে জানান।

ট্রাম্পকে বলেন গ্লোভার, ‘আমরা এখানে বেশ ব্যস্ত ছিলাম এবং কঠোর পরিশ্রম করছিলাম। আর বলতেই হয়, ব্যাপারটা আসলে বেশ ভালোই ছিল।’

উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৭০ সালের এপ্রিলে নাসার অ্যাপোলো-১৩ অভিযানে অংশ নেয়া নভোচারীরা পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী জায়গায় ভ্রমণ করেছিলেন। ওই সময় তারা পৃথিবী থেকে প্রায় চার লাখ ১৭১ কিলোমিটার বা প্রায় দুই লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল দূরে ভ্রমণ করেছিলেন। এতদিন সেটাই ছিল পৃথিবী থেকে মহাকাশের সবচেয়ে দূরবর্তী জায়গায় মানুষের যাওয়ার রেকর্ড।

সোমবার সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন আর্টেমিস-২ এর চার নভোচারী।

আর্টিমিসের সকল নভোচারীর উদ্দেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলে, ‘আপনারা যা করছেন, এর আগে মানুষ সত্যিই এ ধরনের কিছু দেখেনি। এটা সত্যিই বিশেষ কিছু।’

চার নভোচারীসহ চন্দ্রাভিযানের সাথে যুক্ত নাসার পুরো দলকে পুনরায় অভিনন্দন জানান ট্রাম্প।

সেইসাথে, মিশন শেষ করে পৃথিবীতে ফেরার পর নভোচারীদের হোয়াইল হাউসে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান তিনি।

সূত্র : বিবিসি