সাক্ষাৎকার : দিলারা চৌধুরী

জিয়া ও খালেদার আদর্শ ছাড়লে বিএনপির রাজনীতি থাকবে না

বিএনপির ওপর মানুষের একটা ধারণা জন্মেছে যে ভারতের সাথে একটা আঁতাত করে দলটি ক্ষমতায় আসতে চাচ্ছে। সে ধারণা তারেক জিয়ার কথায় ও কাজে দূর করা প্রয়োজন। শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়ার যে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ছিল সেটা অনুসরণ করা দরকার। কারণ সবাই বলছে জিয়া ও খালেদার রাজনীতি থেকে বিএনপি সরে গেছে। এটা সত্যি হলে আবার একটা ওয়ান ইলেভেনের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। ভারত এখন অবশ্য খুবই আগ্রহ দেখাচ্ছে; কিন্তু আমাদেরকেও সতর্ক থাকতে হবে।

রাশিদুল ইসলাম
Printed Edition

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা জামান চৌধুরী বলেছেন, বিএনপিকে লাইনে আনতে হবে। জিয়া ও খালেদার আদর্শ থেকে বিএনপি যেন সরে না যায়; সরে গেলে বিএনপির রাজনীতিটা আর থাকবে না। ১৯৯১ সালে বিএনপি এ ধরনের ভুল করেনি। ওই সময় আওয়ামী লীগের সাথে সরকার গঠন করলে হার্ম পার্লামেন্ট হতো। সংসদকে অকার্যকর করে তুলতো হাসিনা। যেটি জামায়াতের সাথে বিএনপি সরকার গঠনের পর লাগাতার হরতাল ও আন্দোলন করে হাসিনা করেছে।

বেগম খালেদা জিয়া এবং জিয়াউর রহমানকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণকারী রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়া কেবল তার দলের জন্যই নয়; দেশের জন্যও একজন ‘অভিভাবক ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে কাজ করেছেন এবং তার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন সিনিয়র স্থিতিশীল উপস্থিতির ক্ষতির প্রতিনিধিত্ব করে। তারেক জিয়াকে এ শূন্যতা পূরণে অনেক পরিশ্রম করতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপির ওপর মানুষের একটা ধারণা জন্মেছে যে, ভারতের সাথে একটা আঁতাত করে দলটি ক্ষমতায় আসতে চাচ্ছে। সে ধারণা তারেক জিয়ার কথায় ও কাজে দূর করা প্রয়োজন। শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়ার যে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ছিল সেটা অনুসরণ করা দরকার। কারণ সবাই বলছে জিয়া ও খালেদার রাজনীতি থেকে বিএনপি সরে গেছে। এটা সত্যি হলে আবার একটা ওয়ান ইলেভেনের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। ভারত এখন অবশ্য খুবই আগ্রহ দেখাচ্ছে; কিন্তু আমাদেরকেও সতর্ক থাকতে হবে।

তবে তিনি যুক্তি দেন যে, তারেকের দেশে ফিরে আসার ফলে দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের আশঙ্কা কমেছে এবং তার সাম্প্র্রতিক বক্তৃতা- বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে পুনর্ব্যক্ত করা, কর্তৃত্ববাদকে প্রত্যাখ্যান করা এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের সম্মান জানানো- দলীয় সমর্থকদের আদর্শিক ধারাবাহিকতা সম্পর্কে আশ্বস্ত করেছে।

নয়া দিগন্তকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। অধ্যাপক দিলারা বলেন, বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ উভয়ই ব্যক্তিত্ব-কেন্দ্রিক দল, খালেদা জিয়ার পর বিএনপির ভেতরে তারেক রহমানের স্থান দখল করা স্বাভাবিক। রাজনৈতিকদলগুলো মুখোমুখি অবস্থানে থাকলে পরিস্থিতি পয়েন্ট অব নো রিটার্নে চলে যাবে- এমন শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাইরের শক্তির জন্যে এ দেশের অনেক নাগরিক ফিফথ কলামিস্ট হিসেবে কাজ করছে। এ দেশের নাগরিক কিন্তু রাজনৈতিক ঘোলাটে অবস্থা সৃষ্টির জন্যে কাজ করে।

নয়া দিগন্ত : শোককে শক্তিতে পরিণত করার জন্যে আমরা বেগম খালেদার জিয়ার শিক্ষাকে কিভাবে কাজে লাগাতে পারি?

দিলারা চৌধুরী : বেগম খালেদা জিয়াকে মানুষ যে আজ এত বেশি শ্রদ্ধা করছে তার কারণটাই হলো ওনার দেশপ্রেম। ওনার দৃঢ়তা। উনি সব সময় বলেছেন এ আমার মাতৃভূমি, এটাই আমার দেশ। এ জনগণ, এ স্বাধীনতা আমাদের। ওনার দেশপ্রেম ওনাকে এ উচ্চতায় নিয়ে গেছে। দল-মত নির্বিশেষে ওনাকে সবাই এ কারণেই শ্রদ্ধা দেখাচ্ছে। সবাই তার জন্যে শোকাহত, আপ্লুত। ওনার পদক্ষেপ বা ওনার রেখে যাওয়া দৃঢ়তা আমাদের দেখাতে হলে, ওনার আদর্শ অনুসরণ করতে হলে আমাদের দেশপ্রেম দেখাতে হবে। রাজনৈতিক মত-পার্থক্য থাকবেই, তারপর দেশের স্বার্থ, দেশের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এখন জরুরি। খালেদা জিয়ার যে রাজনৈতিক দর্শন ছিল তা হচ্ছে ভারতের আধিপত্য না মানা।

নয়া দিগন্ত : বেগম জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এর ওপর আস্থা রাখতে না পারলে, বিএনপি তা অনুসরণ না করতে পারলে, এমনকি দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার শঙ্কা বোধ করছেন অনেকে?

দিলারা চৌধুরী : তারেক জিয়ার ওপর দায়িত্বটা ভীষণভাবে এসে পড়ল। এতদিন উনি বিদেশে ছিলেন, ওনার অনুপস্থিতিতে দলের লোকেরা অনেক কথা বলেছেন; যার কারণে বিএনপির ওপর মানুষের একটা ধারণা জন্মেছে যে, ভারতের সাথে একটা আঁতাত করে এ দলটা ক্ষমতায় আসতে চাচ্ছে। সে ধারণা তারেক জিয়ার কথায় ও কাজে দূর করা প্রয়োজন। শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়ার যে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ছিল সেটা অনুসরণ করা। কারণ সবাই বলছে জিয়া ও খালেদার রাজনীতি থেকে বিএনপি সরে গেছে; এটা সত্যি হলে আবার একটা ওয়ান ইলেভেনের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। ভারত এখন অবশ্য খুবই আগ্রহ দেখাচ্ছে; কিন্তু আমাদেরকেও সতর্ক থাকতে হবে। আবেগে একটুতেই গলে যাই, ইমোশনাল হয়ে পড়ি। এমন যেন না হয়।

নয়া দিগন্ত : চির বৈরী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পার্লামেন্টের স্পিকার ঢাকায় এলেন বেগম জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে, এটা কি ভূকৌশলগত স্বার্থের কারণে নাকি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টার সাথে এ দুই দেশ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাচ্ছে সে কারণে?

দিলারা চৌধুরী : এটাকে আমাদের জয় হিসেবে দেখছি। এ জন্যে কৃতিত্ব দেবো তরুণদের, জুলাই যোদ্ধাদের। আমরা বুড়োরা কিছু করতে পারিনি। ওরা মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। ওরা গান গায় না যে, বল বীর উন্নত মম শির, আমরা মাথা তুলে দাঁড়িয়েছি। যে মুহূর্তে কোনো দেশ মাথা তুলে দাঁড়ায় তখন তাকে সবাই সম্মান করতে শুরু করে। বাংলাদেশের ভূকৌশলগত অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ লোকেশনটাকে আমরা আমাদের অ্যাডভান্সে ব্যবহার করতে পারি, তাহলে আমরা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে পারব। বেগম জিয়া ও জিয়াউর রহমান এত বেশি পপুলার তো ওই জন্যেই যে, ওনারা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন।

নয়া দিগন্ত : আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে গেলেও তো বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বা ব্যক্তিগতভাবে ফ্যাসিস্ট সরকারের কাছে চরম মূল্য দিতে হয়েছে?

দিলারা চৌধুরী : সেটা দিতে হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেকে আমাদের রাজাকার বলেছে। অনেকের বাড়ি-সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছে। অনেকের চাকরি চলে গিয়েছে; কিন্তু আমরা পথ ছাড়িনি। আমরা মনে করেছি আমাদের দেশ সবার আগে। রাসুল সা: বলেছেন, দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ।

নয়া দিগন্ত : তরুণদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে রাজনৈতিক শক্তির দেশ গড়ে তোলার ওপর, রাজনৈতিক দলগুলো তরুণদের কিভাবে ব্যবহার করে তার ওপর বা তরুণরা কিভাবে তাদের দেশ গড়ার অনুশীলন ধরে রাখতে পারে?

দিলারা চৌধুরী : ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি যে কথা বলে গেছেন, বাংলাদেশ কারো আধিপত্য মানবে না। বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত একটি দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। হাদির এসব কথা আমাদের মনের কথা। আমরা একটা সার্বভৌম জাতি, আমাদের সাথে ডিল করতে হলে ‘গিভ এন্ড টেক’-এর মধ্য দিয়ে করতে হবে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে সততা আসতে হবে, তাদের সিনসিয়ারিটির সাথে কাজ করতে হবে। তরুণরা যাতে দুর্নীতির মধ্যে জড়িয়ে পড়ে ধংস হয়ে না যায়। মাঝে মাঝে শুনি যে, এরা কিছু করছে, তখন খুব খারাপ লাগে।

নয়া দিগন্ত : বিশ্ব পরিস্থিতি পাল্টে যাওয়ার বিষয়টি তরুণরা যতটা সহজে ধরতে পারছে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব কি তা উপলব্ধি করতে পারছে?

দিলারা চৌধুরী : না পারে না। প্রত্যেক জেনারেশন অন্য জেনারেশনের চেয়ে আলাদা। আমাদের বাবা-মা’রা আমাদের সম্পর্কে বলত যে, এরা ঠিক করছে না, একদম বেপথে চলে যাচ্ছে; কিন্তু নতুন জেনারেশন যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলে। সেটা বুঝতে হবে, তরুণ প্রজন্মকে সব সময় তুচ্ছ-তাচ্ছিল্ল করলে চলবে না। টক শো’তে অনেকে এ তরুণদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্ল করে, তোমরা হাঁটুর বয়সী, বাপের চেয়ে আগে- এ সব আজেবাজে কথা বলে, এটা ঠিক না। ইয়াংরাতো আমাদের চেয়ে ডিফারেন্স হবেই। ওরা নতুন এক দুনিয়ায় বাস করে। আমরা এক দুনিয়ায় বাস করেছি। আমাদের পলিটিশিয়ানদের এটা অনুধাবন করতে হবে। তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করলে চলবে নাতো।

নয়া দিগন্ত : পুরাতন ও নতুনের মধ্যে তাহলে সঙ্ঘাত কি অনিবার্য?

দিলারা চৌধুরী : অনিবার্য হওয়া উচিত না। পুরাতন জেনারেশনের বুঝা উচিত ইয়াং জেনারেশন আলাদাই হবে। ওদের চিন্তাভাবনা সবকিছুই আমাদের চাইতে আলাদাই হবে। আমরা একটা এনভায়রনমেন্টে বড় হয়েছি, ওরা আরেকটা, আমরা কি এ রকম ইন্টারনেটের সাথে কানেক্টেড ছিলাম নাকি। গ্লোবাল ওয়ার্ল্ডে তো আমরা ছিলাম না। ওরা তো গ্লোবাল। তারপরও মনে রাখতে হবে রাজনীতি কিন্তু আমাদের হাতে নাই। রাজনীতি অনেক ক্ষেত্রে নির্ভর করে বিদেশী শক্তির ওপর। সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন প্রশ্ন রয়েছে যে, আমেরিকা কী চায়, ভারত কী চায়, সাধারণ মানুষ কী চায়- তার সাথে বিদেশী শক্তির চাওয়ায় মিল রয়েছে কি না- এটাও এক বড় প্রশ্ন। বাইরের শক্তি বাংলাদেশের রাজনীতিকে বহুলাংশে প্রভাবিত করে। অনেকে বাংলাদেশকে করদ রাজ্যে পরিণত করতে চায়।

নয়া দিগন্ত : তাহলে ওদের ওপরতো আমরা আস্থা রাখতেই পারি?

দিলারা চৌধুরী : ব্যক্তিগতভাবে এ ছেলেমেয়েদের ওপর আমার আস্থা রয়েছে। আনলেস যারা ক্ষমতায় যাবে, পলিটিশিয়ানরা আবার যদি এটাকে বিপথে নিয়ে না যায়। আমার ভয়, যারা এলিট শ্রেণি, অলিগার্ক; তাদের অনেকে ফ্যাসিস্টের সহযোগী। তারপর সিভিল মিলিটারি, আমলাতন্ত্র এরা একটা সাংঘাতিক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ওদের সাথে ইয়াং জেনারেশেনের একটা ক্ল্যাশ হওয়ার শঙ্কা আছে। যে দলই ক্ষমতা নিক না কেন, যারা পলিটিশিয়ান তাদের এটা বুঝতে হবে। নতুন জেনারেশন কী চায়? সেটা বুঝে তাকে রাজনীতিটা করতে হবে। তাহলে সঙ্ঘাতটা হবে না। এ ক্ষেত্রে মিডিয়ার একটা বড় ভূমিকা রয়েছে, যা তারা পালন করতে পারছে না। মিডিয়া এখনো সে সুশীলদের কব্জায় রয়েছে। আমাদের সবাইকে মিলে বিএনপিকে লাইনে আনতে হবে। জিয়া ও খালেদার আদর্শ থেকে বিএনপি যেন সরে না যায়। সরে গেলে বিএনপির রাজনীতিটা আর থাকবে না। ১৯৯১ সালে বিএনপি এ ধরনের ভুল করেনি। ওই সময় আওয়ামী লীগের সাথে সরকার গঠন করলে হার্ম পার্লামেন্ট হতো। সংসদকে অকার্যকর করে তুলত হাসিনা। যেটি জামায়াতের সাথে বিএনপি সরকার গঠনের পর লাগাতার হরতাল ও আন্দোলন করে হাসিনা করেছে।

নয়া দিগন্ত : অনেক সময় দেখা যায় রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে বিভক্তি কোনো দলকে সময়ের প্রয়োজনে সঠিক ভূমিকা পালন করতে দেয় না?

দিলারা চৌধুরী : উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, খালেদা জিয়াকে সবচেয়ে বেশি লেটডাউন করেছে ওনার দলের নেতারা। ইউনাইটেড ন্যাশনের কনভেনশন অনুযায়ী রাজনৈতিক বন্দীকে কারাগারে নেয়ার সময় তার স্ট্যাটাস, বয়স অনুযায়ী তাকে স্থানান্তর করতে হয়। সোকল্ড এতিমের টাকা আত্মসাতের নামে খালেদা জিয়াকে যেভাবে কারাগারে নেয়া হয় তার কোনো প্রতিবাদ দলের ভেতর থেকে দেখা যায়নি। আন্দোলন দেখি নাই। হাসিনাকে এমন করলে আওয়ামী লীগের ফলোয়াররা কী করত দেখতেন। ওনার বাসভবনের চারপাশে যখন বালুর ট্রাক দিয়ে আটকে দেয়া হয়, তখন কিন্তু ঢাকার আশপাশে বিভিন্ন হোটেলে বিএনপির অজস্র নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছিলেন। তারা রাস্তায় বের হওয়ার জন্যে নেতাদের ডাকের অপেক্ষায় ছিলেন; কিন্তু কেউ ডাক দেয়নি। আমরা শুনেছি, কারা বোরকা পড়ে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আসছিল। যাতে ওই কর্মসূচি সফল না হয়। খালেদা নিজেই বলে গেছেন, অনেকের অনেক কিছু ছিল না। তাদেরকে পার্টিতে অনেক কিছু দিয়েছি, তারা এখন অনেক কিছু হয়েছে; কিন্তু সবগুলো বেইমান।

নয়া দিগন্ত : অনেকে এখনো ইনক্লুসিভ রাজনীতির কথা বলেন?

দিলারা চৌধুরী : বিরোধী দলে থাকার সময় খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ক্ষমতায় যখন আসব তখন ৭২-এর সংবিধান ছুড়ে ফেলে দেবো। কেন বলেছিলেন, কারণ ওই সংবিধান ভারতের ছায়ায় তৈরি করা হয়েছে। ওতে আর্টিক্যাল সেভেনটি-সহ যেটা থাকবে সেটা বাংলাদেশে কোনো দিনও ইন্ডিয়ার প্রভাব থেকে আমরা বের হতে পারব না; কিন্তু ওনার পার্টির লোকেরা আজ বলছে ওটা মুক্তিযুদ্ধের ফসল।

নয়া দিগন্ত : আগামী নির্বাচনের পর নির্বাচিত দল কি সংস্কার করবে?

দিলারা চৌধুরী : আশাবাদী হতে চাই। বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে, কিভাবে টিকে থাকবে দলটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে, সেটা নির্ভর করবে তারা এ সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করবে কি করবে না তার ওপর। যেকোনো রাজনৈতিক দল জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা বুঝতে না পারে, সেটা ধারণ করতে না পারে তথা বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াত তাদের বুঝতে হবে জুলাই আন্দোলনের পর বাংলাদেশের মানুষের মনোজগতে অনেক বড় পরিবর্তন হয়ে গেছে। মানুষ এখন অনেক ভোকাল, অনেক কিছু বুঝে, প্রতিবাদ করতে পারে। তারা ন্যায়-অন্যায়ের ব্যাপারটা পরিষ্কার বুঝতে পারে। এটা ধারণ করতে না পারলে কোনো রাজনৈতিক দল হয়তো একটা টার্ম ক্ষমতায় থাকতে পারবে, ভবিষ্যতে রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে কোনো রাজনৈতিক দল এ ধরনের ভুল করবে না বলে আমার মনে হয়।