অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাবে ডাকসুর প্রতিবাদ

Printed Edition

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাবে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। শুক্রবার রাতে দেয়া এক বিবৃতিতে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ এবং এজিএস মুহা: মহিউদ্দিন খান এ প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার গণভোট, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাব করেছে। জাতীয় সংসদের গঠিত বিশেষ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত সরকারি দলের সদস্যদের পক্ষ থেকে এ সুপারিশ এসেছে।

ডাকসু নেতৃবৃন্দ বলেন, জুলাই বিপ্লবের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার লক্ষ্যে এসব অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের স্পষ্ট বিজয়ের মাধ্যমে জনগণ সংস্কারের পক্ষে তাদের অবস্থান জানিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ জনগণের রায়ের প্রতি সরাসরি অবজ্ঞা বলেও মন্তব্য করেন তারা।

বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, অতীতে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা গুম, নির্যাতন ও ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন। স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের অভাবে এসব ঘটনার সঠিক বিচার হয়নি।

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে ডাকসু নেতারা বলেন, অতীতে এসব নির্যাতনের শিকার হওয়া রাজনৈতিক শক্তিগুলোই এখন ক্ষমতায় এসে কাঠামোগত নিপীড়ন বন্ধের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যা জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এসব অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ গুম, নির্যাতন ও ক্রসফায়ারের মতো ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতিকে পুনরায় রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত বহন করে। এটি জনগণ, ভুক্তভোগী পরিবার এবং আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী শহীদদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, জনরায় ও জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের পথে এগিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় জনগণের ম্যান্ডেট উপেক্ষা করলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে।

দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বজায় রাখতে এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনার প্রতি সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে কার্যকর সংস্কার পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান ডাকসু নেতারা।