আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীদের টার্গেট ব্যবসায়ী-শিল্পপতি

অতিরিক্ত আইজিপি রফিকুল

৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও আত্মগোপনে চলে যায়। ওই সময় দেশের শীর্ষসন্ত্রাসী ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীও জেল থেকে বেরিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। এরপর থেকেই তারা আত্মগোপনে থেকে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাদের বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে গুলি করে হত্যার ঘটনাও ঘটিয়েছে।

এস এম মিন্টু
Printed Edition

  • গুলি করে আতঙ্ক ছড়িয়ে চাঁদা আদায়-ঝুট দখলের চেষ্টা
  • চাঁদা না দিলে হত্যার পরিকল্পনা
  • প্রতিটি ঘটনায় পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত করছে :

প্রায় হাজারখানেক রোজাদার ব্যক্তিদের নিয়ে মসজিদে প্রতিদিনই ইফতার করে আসছিলেন টঙ্গীর সাতাশ এলাকার বাসিন্দা শিল্পপতি মো: কামরুজ্জামান। মসজিদের পাশে অফিস থাকায় ইফতার শেষে অফিসে গিয়ে লোকজন নিয়ে বসেন। গত ৭ মার্চ রাত পৌনে ৮টায় চার যুবক বাগানবাড়ি এলাকায় শিল্পপতি কামরুজ্জামানের অফিসের দোতলায় উচ্চবাক্য করতে থাকে। একপর্যায়ে কর্মচারীদের সাথে বাগি¦তণ্ডার পর তিন রাউন্ড গুলি করার পর একটি ককটেল নিক্ষেপ করে। ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান এই যাত্রায় অল্পের জন্য বেঁচে গেলেও এলাকাজুড়ে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় আতঙ্ক কমেনি। এই ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও কারা এই পূর্বপরিকল্পিভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলির ঘটনা ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত হতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঈদকে সামনে রেখে অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। তবে গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, শুধু এই ঘটনাই নয়, আরো কয়েকটি ঘটনার নেপথ্যে চাঁদাবাজি ও শিল্পপতিদের প্রতিষ্ঠানের ঝুট বা অন্যান্য মালামাল দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা বা গডফাদাররা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও আত্মগোপনে চলে যায়। ওই সময় দেশের শীর্ষসন্ত্রাসী ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীও জেল থেকে বেরিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। এরপর থেকেই তারা আত্মগোপনে থেকে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাদের বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে গুলি করে হত্যার ঘটনাও ঘটিয়েছে।

এরই মধ্যে দুই একটি ঘটনায় আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে। অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরায় আবুল হাসেম নামে এক গার্মেন্ট মালিকের বাসার সামনে দুই রাউন্ড গুলি করে সন্ত্রাসীরা। এর আগে গাজীপুরের বাসন এলাকায় ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়া হয়। ওই ঘটনা ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে করানো হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এছাড়াও চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ীর বাসায় প্রকাশ্যে গুলি ছোঁড়ার ঘটনায় তিনজন গ্রেফতার হয়েছে। চট্টগ্রাম নগরে এক ব্যবসায়ীর বাসায় গুলির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি সাবমেশিনগান (এসএমজি), ব্রাজিলের তৈরি ৯ এমএম টরাস পিস্তল ও পয়েন্ট ৩২ বোরের একটি বিদেশী রিভলবার উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া এই তিনজন হলো- আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ওরফে ইমন, মোহাম্মদ মনির ও মোহাম্মদ সায়েম। পুলিশ বলছে, তারা বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’-এর সহযোগী।

এই প্রসঙ্গে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, প্রতিটি ঘটনায় পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত করছে। সন্ত্রাসীদের গুলির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, যারা অস্ত্রধারী তারাই গডফাদার। আর যেসব সন্ত্রাসী জেলে যান তারাই আন্ডারওয়ার্ল্ড কানেক্টেড হয়ে যান। আর এই চিন্তা থেকেই পুলিশ সন্ত্রাসী এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে কাজ করছে। তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীর বাসায় গুলির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। টঙ্গীর সাতাশের ব্যবসায়ী কামরুজ্জামানের ঘটনায় পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুরুত্বের সাথে কাজ করছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান মো: শফিকুল ইসলাম গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, উত্তরার ঘটনাটি ঘটেছে দোকান ভাড়ার দ্বন্দ্ব নিয়ে। আমাদের লোকজন সেখানে ওই ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলেছে। আমরা সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, চাঁদাবাজির জন্য যারা অস্ত্র হাতে নিয়েছে তারাই সন্ত্রাসী-গডফাদার। অস্ত্রধারী এবং সন্ত্রাসীদের ধরতে এরই মধ্যে আমরা জিরো ট্রলারেন্স নীতিতে কাজ করছি।

এসবের নেপথ্যে কারা : টঙ্গীর সাতাশ এলাকায় যে নিরাপত্তাকর্মীর সাথে সন্ত্রসীদের বাগি¦তণ্ডা শুরু হয় তার নাম নান্টু মিয়া। নান্টু বলেন, তারা প্রথমে এসে অসভ্য ভাষায় কোম্পানির নাম নিয়ে কথা বলা শুরু করে। এরপরই তারা গুলি ছুড়তে শুরু করে। নান্টু বলেন, দেখে মনে হচ্ছে ওরা কোনো সাধারণ সন্ত্রাসী না। সবার কাছেই অস্ত্র ছিল। গাড়িতে ছিল আরো তিনজন। এ ঘটনা ঘটিয়ে এখান থেকে পালানোর সুযোগ খুব কম। তার পরও তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

ব্যবসায়ী মো: কামরুজ্জামান বলেন, আমার পুরনো শত্রুরাই আমাকে হত্যা করতে চেয়েছে। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে সেদিন বেঁচে গেছি। তিনি বলেন, আমার ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠছে কয়েকটি গ্রুপ। তাদের পরিকল্পনায় আমাকে হত্যা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, টঙ্গীর হাউজিং ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি কামরুজ্জামানের বাড়ি থেকে শুরু করে সন্ত্রাসীদের গাড়ি কোন কোন জায়গায় গেছে, সেগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে। তবে সন্ত্রাসীদের এই গ্রুপটি ঢাকার মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডি এলাকার মনে হচ্ছে। তারা আন্ডারওয়ার্ল্ডেও কানেক্টেড। যারা বিদেশে বসে ঢাকায় নিয়ন্ত্রণ করছে তাদেরই কেউ এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে গোয়েন্দারা খুব নিবিড়ভাবে কাজ করছে। এর সাথে স্থানীয়রা কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঝুট ব্যবসার দ্বন্দ্বে গোলাগুলি : গত ৭ মার্চ ঝুটের দখল নিয়ে গাজীপুরে বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষের নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর এক তথ্য পাওয়া গেছে। গত শনিবারের সেই ঘটনায় স্বয়ং গার্মেন্ট মালিক-ই স্থানীয় আওয়ামী লীগকে আর্থিক সুবিধা দিতে বিএনপির দুই প্রতিপক্ষকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। যার কারণে বারবার একই প্রতিপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। ককটেল, গুলি এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পাশাপাশি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের এই ঘটনাটি গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার ম্যানাল ফ্যাসন কারখানায়।

জানা গেছে, বাসন থানার ভিটিপাড়া এলাকায় অবস্থিত ম্যানাল ফ্যাসন কারখানার মালিক রাশিদুল হাসান চাঁদ। বাড়ি চাঁদপুরে। আওয়ামী আমলের সুবিধাভোগী এই ব্যবসায়ী ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান কচির ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। মান্নান কচির বিজিএম-ই-এর সভাপতি নির্বাচনের পেছনের অন্যতম কারিগর ছিলেন ম্যানাল ফ্যাসন মালিক রাশিদুল হাসান চাঁদ। কচি সভাপতি নির্বাচিত হলে বিজিএম-ই-এর তৎকালীন সময়কার অনেক সাধারণ ব্যবসায়ী তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ব্যবসায়ী বলেন, কচির প্রভাবে রাশিদুল চাঁদ ধরাকে সরা জ্ঞান করতেন। তবে পট পরিবর্তনের পর নিজেকে সাধারণ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেন। এমন একজন ব্যবসায়ী স্বাভাকিভাবেই আওয়ামী লীগকে সুবিধা দেবেন, এমনটিই জানিয়েছেন বিজিএম-ই-এর একজন সদস্য। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যবসায়ী বলেন, ম্যানাল ফ্যাসনে ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপে দ্বন্দ্বের পেছনে মূলত মালিকের কারসাজির তথ্য রয়েছে তাদের কাছে। উল্লেখ্য, আওয়ামী সরকারের পট পরিবর্তনের পর তার গার্মেন্টে দুই দফা ঝুট নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শিল্প পুলিশের করা গোপন তালিকা অনুযায়ী গাজীপুর মহানগরে প্রায় আশি ভাগ কারখানার মালিক আওয়ামী সমর্থক। যারা গোপনে আওয়ামী লীগকে নানা সুবিধা দেন।

তথ্য অনুযায়ী, ম্যানাল ফ্যাসন কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ছিল স্থানীয় সন্ত্রাসী মিনহাজ গ্রুপের হাতে। গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রিপন সরকারের অন্যতম হাতিয়ার মিনহাজ ওরফে টাকলা মিনহাজ ও তার বাহিনীর সদস্যরা পট পরিবর্তনের পর আত্মগোপনে যায়। তবে ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ছাড়েনি সন্ত্রাসী মিনহাজ। বিএনপির একটি গ্রুপের সাথে গোপন সমঝোতায় ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মূল ভূমিকা রাখেন গার্মেন্ট মালিক চাঁদ। এজন্য মিনহাজের দুই নিকটাত্মীয় বকুল ও হাতেমকে সামনে রেখে তাদের দিয়ে ঝুট নামাতেন। কিন্তু বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে স্থানীয় বিএনপির লোকজন বাধ সাধে। স্থানীয় বিএনপি বিষয়টি মানতে পারেননি। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি দফায় দফায় মালিকপক্ষের সাথে কথা বলে। গার্মেন্ট মালিক রাশিদুল হাসান চাঁদ আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত কথা রাখেনি। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের হয়ে থানা বিএনপির সভাপতি তানভীর সিরাজের লোকজন ঝুট নামাতে গেলে স্থানীয় বিএনপি বাধা দেয়। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঘটা সেই ঘটনায় বাসন থানায় দুটি মামলা রয়েছে। জাতীয় নির্বাচন এবং গার্মেন্ট মালিকের আশ্বাসে স্থানীয় বিএনপি প্রায় এক বছর চুপ থাকে। আর এই সুযোগে সেই পুরনো চক্রকে ঝুটের দখল দেয় মালিকপক্ষ। যা থেকে আয়ের একটি বড় অংশ সন্ত্রাসী মিনহাজ ও তার বাহিনীর কাছে পৌঁছে যেত। বিষয়টি আবারো ফাঁস হয়ে যায়। স্থানীয় বিএনপি আবারো মালিকের সাথে যোগাযোগ করে। এবার তাদেরকেই ঝুট নিতে বলা হয়। তবে গোপনে পুরনো চক্রের হয়ে ভিন্ন নামে নতুন একটি গ্রুপকে সামনে নিয়ে আসে গার্মেন্ট মালিকপক্ষ। কৌশিক এবং শরীফ আজাদ গ্রুপ হিসেবে এই গ্রুপকেও একইদিন মাল নামাতে বলে মালিক রাশিদুল হাসান চাঁদ। গত দেড় যুগ এই গ্রুপ শহরের একাধিক কারখানায় ঝুট ব্যবসা করে সুবিধা ভোগ করছে বলেও তথ্য রয়েছে। যারা সশস্ত্র অবস্থায় ঝুট নামাতে গেলে এলাকার বিএনপি এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ বাধা দেয়। এতেই মূলত সংঘর্ষের সূত্রপাত। এবারের সংঘর্ষে একটি মোটরসাইকেল পোড়ানো হয়। ককটেল এবং গুলির ঘটনাও ঘটে। তবে কেউ হতাহত হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির পক্ষে ১৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি নাজমুল এক ভিডিও বার্তায় বলেন, স্থানীয় বিএনপির ৭০ থেকে ৮০ জন লোক ব্যবসাটি করে আসছে। কিন্তু বিএনপি পরিচয়ধারী কৌশিক, শরীফ আজাদ, আশিক এবং বরিশাইল্যা মান্নানের নেতৃত্বে সশস্ত্র অবস্থায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে হামলা চালায়।

উত্তরায় গার্মেন্ট ব্যবসায়ীর বাসায় গুলি : গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরা এলাকায় এক গার্মেন্ট ব্যবসায়ীর বাড়িতে এসে মোটরসাইকেলে দুই হেলমেটধারী দুর্বৃত্ত গুলি চালিয়ে পালিয়ে গেছে। উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের ২১ নম্বর সড়কের ২ নম্বর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, চারতলা বাড়িটির নাম ‘জান্নাত’। বাড়িটির মালিক গার্মেন্ট ব্যবসায়ী আবুল কাশেম, যিনি এ কে এস বি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)।

বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে প্রথমে বাড়িটি ঘুরে দেখে। কিছুক্ষণ পর আশপাশে লোকজন কমে গেলে তারা আবার ফিরে এসে গুলি চালিয়ে পাশের গলি দিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনার বিষয়ে বাড়ির মালিক আবুল কাশেম বা তার পরিবারের কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো: মুনিরুজ্জামান বলেন, মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি বাড়িটির স্টিলের গেটে দুই রাউন্ড গুলি চালিয়ে দ্রুত সরে পড়ে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।