- ৫ বছরের প্রকল্প এখন ৮ বছর অতিক্রম করছে
- খরচ বেড়েছে ৮৭ কোটি টাকা
অনুমোদনে এক বছর বিলম্ব এবং ঠিকাদারের কাজ বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে দেশে তিন পার্বত্য (রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি) জেলায় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটি চলছে ঢিমেতালে। ২০২৩ সালের জুনে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চলতি বছরেও শেষ হচ্ছে না। পাঁচ বছরের প্রকল্প এখন আট বছর অতিক্রম করছে। ৭৪৯ কোটি টাকার এই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন খরচ এখন ৮৩৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোগুলো আরো ক্ষতির শিকার হচ্ছে। সাড়ে সাত বছরে কাজ হয়েছে ৯১.৭৪ শতাংশ পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের তথ্য থেকে জানা গেছে। প্রকল্প পরিচালক জানান, অনুমোদন বিলম্ব ও ২০২৪ সালের আগষ্ট পরবর্তীতে ঠিকাদারের কাজে ধীরগতি। কাজ শেষ করতে মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানো দরকার।
স্থানীয় সরকার বিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক দুযোগে দেশে তিন পার্বত্য জেলায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগ ঝুঁকি কমিয়ে সড়ক, কালভার্ট এবং অন্যান্য অবকাঠামো মেরামত ও পুনর্বাসন করা। অতিবৃষ্টি, ভূমিধস, পাহাড়ি ঢলে এই অঞ্চলের সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি স্থানীয় জনগণের যাতায়াত ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে সহায়তা করতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পটি ২০১৮ সালে ৪ নভেম্বর অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ২০২৩ সালের জুনে প্রকল্প শেষ করার জন্য ৭৪৯ কোটি ১০ টাকা ব্যয় ধরা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২১ সালের মে মাসে একবার এবং ২০২৫ সালের ১৮ জুন আরেকবার। সর্বশেষ মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত করা হয়। বর্তমানে প্রকল্পের কাজের যে ধারা তাতে এই সময়ে শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিকল্পনা কমিশনের আইএমইডি বিভাগের কর্মকর্তারা।
খরচ ও মেয়াদ বাড়ল
প্রকল্পের সর্বশেষ অনুমোদিত প্রাক্কলিত ব্যয় ৮৩৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। যা সম্পূর্ণ বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে হচ্ছে। অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৭৪৯ কোটি টাকা। ফলে খরচ বেড়েছে ৮৭ কোটি টাকা। আর প্রকল্প ২০২৩ সালের জুনে শেষ না হওয়ায় এখন শেষ করতে তিন বছর বেশি সময় লাগছে।
অগ্রগতি ৭.৫ বছরে ৯১.৭৪ শতাংশ
গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর, পর্যন্ত সাড়ে ৭ বছরে ক্রমপুঞ্জিত অগ্রগতি ভৌত খাতে ৯১.৭৪ শতাংশ। যেখানে ৬৯৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বা ৮৩.৪২ শতাংশ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালকের তথ্য
প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে জানতে চাওয়া হলে প্রকল্প পরিচালক জানান, প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুমোদন পেতে প্রায় ১ (এক) বছর বিলম্ব হয়। এতে করে স্কিমগুলো যথাসময়ে শুরু করা সম্ভব হয়নি। ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তীতে দেশের সার্বিক পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী ঠিকাদারদের মাঠ পর্যায়ে কাজ বাস্তবায়নে ধীরগতি হওয়ায় কিছু পূর্ত কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পের সব কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পের মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি বলেন, প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত বানিয়াছড়া-গজালিয়া সড়ক (আইডি নম্বর ৪০৩৫১৩১০) চেইনেজ পাঁচ হাজার থেকে সাত হাজারের পরিবর্তে দুই হাজার থেকে ৪০৫০ মিটার করা প্রয়োজন। এ চেইনেজে রাস্তা খুবই জরাজীর্ণ তাই জরুরি ভিত্তিতে মেয়ামত করা দরকার। আশা করি বর্ধিত মেয়াদে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা হলে তারা জানান, যেহেতু প্রকল্পের কাজ সামান্য বাকি আছে তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে এই প্রকল্প শেষ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, প্রকল্পের গুণগত বজায় রেখে কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি প্রকল্পটি নির্ধারিত সময় ও ব্যয়ের মধ্যে প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ করতে হবে। এ ছাড়া প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত বানিয়াছড়া-গজালিয়া সড়ক (আইডি ৪০৩৫১৩১০) চেইনেজ কমিয়ে আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে।



