আগামীর তারকা রোনান সুলিভান

Printed Edition
দুই ভাই রোনান সুলিভান ও ডেক্লান সুলিভান (ডানে)
দুই ভাই রোনান সুলিভান ও ডেক্লান সুলিভান (ডানে)

ক্রীড়া প্রতিবেদক

অপরাজিত থেকেই অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষ সাফের শিরোপা পুনরুদ্ধার করল বাংলাদেশ। পরশু মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অনূর্ধ্ব-২০ সাফের ফাইনালে ভারতকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে এই চ্যাম্পিয়ন হওয়া লাল-সবুজ যুবাদের। দলের প্রত্যেক সদস্যের অবদানের ফলেই ২০২৪ সালের এবার ফের বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন হওয়া। নেপালের কাঠমান্ডুর পর মালদ্বীপের মালেতে লাল-সবুজ পাতাকার উল্লাস। এই সাফল্যে বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন স্ট্রাইকার রোনান সুলিভান। যুক্তরাষ্ট্র্রের ফিলাডেলফিয়ার এই খেলোয়াড়ের সব গুণই আছে। গোল করতে পারেন। গোল করাতে পারেন। ফিল্ড গোলের সাথে স্পট কিকেও দক্ষ। পরশু তিনি যখন শেষ টাইব্রেকার শটটি নিতে এলেন তখন পুরো বাংলাদেশ তার দিকে তাকিয়ে। তার শট জালে গেলেই ট্রফি জয়। সেই কাজই করেছেন নানীর সূত্রে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এই। তিনি যে স্টাইলে শটটি নিলেন তা সাধারণত বড় বড় তারকা নেন। ভারতের গোলরক্ষককে ডান দিকে ফেলে আস্তে শট নেন সোজা। সেই বলই জালে। প্রথম আসরেই তিনি যেভাবে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তাতে তার মধ্যে আগামীর তারকা হওয়ার ইঙ্গিত।

এবারের সাফে বাংলাদেশ দলে তিন প্রবাসী ফুটবলারের মধ্যে রোনানই নিয়মিত খেলেছেন। তার ভাই ডেক্লান সুলিভানকে বদলি হিসেবে দুই ম্যাচে নামানো হয়েছিল কয়েক মিনিটের জন্য। তবে রাইট ব্যাক পজিশনে এই ডেক্লান সুলিভান যে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন, তাতে প্রশ্ন কেন তাকে এই অল্প গেম প্লেন দেয়া হলো। অবশ্য সেই উত্তর কোচ পিটার কক্সের কাছেই। ইব্রাহিম নেওয়াজ অবশ্য সুযোগই পাননি।

রোনানের প্রথম ম্যাচ ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে। ডেব্যু সেই ম্যাচেই প্রতিভার ঝলক। দূর থেকে নেয়া ডান পায়ের বাঁকানো ফ্রি-কিকে পরাস্ত করেন পাকিস্তানি গোলরক্ষককে। এরপর দ্বিতীয় গোলটি ঠাণ্ডা মাথার হেডে। স্বল্প পাওয়ারের ড্রপ থেকে বোকা বানান বিপক্ষ কিপারকে। পরের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে তার পক্ষে জালের দেখা পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে গোল করিয়েছেন। তার নেয়া মাপা কর্নার থেকেই ফাহিম গোল করে বাংলাদেশকে খেলায় ফেরান। ১-১-এ শেষ হয় ম্যাচ।

সেমিতে নেপালের বিপক্ষেও তিনি গোল পাননি। তবে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন নেপালের রক্ষন প্রাচীরে। আর পরশু ফাইনালে তাকে আটকাতেই ব্যস্ত ছিল ভারতের ডিফেন্স লাইন। অবশ্য ফাইনালে তিনটি গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। প্রথমার্ধে দু’টি। পরেরটি ৯০ মিনিট শেষে ইনজুরি টাইমে। তিনি তখন গোল পেলে খেলা আর টাইব্রেকারে গড়াতো না। অবশ্য তা তিনি পুষিয়ে দিয়েছেন টাইব্রেকারে শেষ শটে।

সিনিয়র জাতীয় দলে হামজা চৌধুরী, শমিত শোম, জায়ান আহমেদ, ফাহামিদুলদের মতো প্রবাসীদের নিয়ে মাতামাতি। এবার অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে রোনান যা করেছেন তা ধরে রাখতে পারলে সিনিয়র জাতীয় দলে স্ট্রাইকিং পজিশনটা তিনিই দখলে নেবেন। তবে কাবরেরার মতো কোচরা না থাকলেই তা সম্ভব।