নিজস্ব প্রতিবেদক
বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ও অটোগ্যাসের দাম বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জনজীবন এবং শিল্প-কলকারখানার উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে এলপিজি একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। এর মূল্যবৃদ্ধি জনগণের জীবনযাত্রায় গভীর প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য জ্বালানির এই বাড়তি ব্যয় বহন করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়বে। সরকার জনগণের ক্রয়মতার কথা চিন্তা না করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী।
তিনি আরো বলেন, সরকারের এমন সিদ্ধান্তের ফলে এক দিকে যেমন জনজীবনে ভোগান্তি বাড়বে, তেমনি ভারী ও মাঝারি শিল্প-কারখানায় উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনকে সঙ্কটে ফেলবে। এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে প্রয়োজনীয় আমদানি নিশ্চিত করা কিংবা উৎপাদন বৃদ্ধিতে কার্যকর পদপে নিতে তিনি সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে পরিসংখ্যান তুলে ধরে সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের এলপিজির দাম প্রতি কেজিতে একলাফে ৩২ টাকা ৩০ পয়সা বাড়ানো নজিরবিহীন। এর ফলে বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম এক হাজার ৩৪১ টাকা থেকে বেড়ে এক হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারে দাম বেড়েছে ৩৮৭ টাকা।
একইভাবে অটোগ্যাসের দামও বড় ব্যবধানে বাড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চলতি এপ্রিল মাসের জন্য অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটারে ১৭ টাকা ৯৪ পয়সা বাড়িয়ে ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত মার্চ মাসে ছিল ৬১ টাকা ৮৩ পয়সা।
মিয়া গোলাম পরওয়ার সতর্ক করে বলেন, অটোগ্যাসের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন খাতে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। সাধারণ মানুষ ঘরে ও বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই আর্থিক চাপের মুখে পড়বে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং জনজীবনকে স্বস্তিদায়ক রাখতে দ্রুত বর্ধিত দাম প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।



