আলোচিত বন্দীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে

শেষ মুহূর্তে ফ্যাসিস্ট শাহজাহান খানসহ ডিভিশনপ্রাপ্তরা ভোটার নিবন্ধন তালিকায়

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে বন্দী আলোচিত এমপি-মন্ত্রীদের মধ্যে ফ্যাসিস্টদের দোসর হিসেবে চিহ্নিত সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী মো: শাহজাহান খান, খুলনার এমপি সালাম মুর্শেদী ও সাধারণ কয়েদিসহ মোট ৮৯ জন বন্দী শেষ মুহূর্তে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন। যদিও কারা কর্মকর্তাদের কাছে মৌখিকভাবে পোস্টাল ব্যালট অ্যাপসে নিবন্ধন করবেন না বলে সাফ জানালেও শেষ মুহূর্তে কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী ও এমপি নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত নেন। তবে তারা ভোট দেবেন কি না তা একান্ত তাদের ব্যক্তিগত মর্জির ওপর নির্ভর করছে বলে জানান কারাগার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গতকাল মঙ্গলবার নয়া দিগন্তের প্রথম পাতায় কারা অধিদফতরের ঊর্র্ধ্বতন কারা কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে কেরানীগঞ্জের ‘বিশেষ কারাগারে বন্দী ফ্যাসিস্ট এমপি-মন্ত্রীরা ভোট দেবেন না’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপরই কারা কর্মকর্তারা সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খানসহ কয়েকজনের নাম ভোট দেয়ার লক্ষ্যে নিবন্ধন তালিকায় উঠানোর কথা জানান।

গতকাল বিশেষ কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো: তায়েফ উদ্দিন মিয়া এ প্রসঙ্গে নয়া দিগন্তকে বলেন, প্রথমে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি-মন্ত্রীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করবেন না এবং ভোটও দিবেন না বলে আমাদেরকে মৌখিকভাবে বলেছিলেন। কিন্তু নিবন্ধনের শেষ দিনে হঠাৎ কয়েক মন্ত্রী-এমপিসহ ডিভিশনপ্রাপ্ত ৩৯ বন্দীসহ মোট ৮৯ জন ভোট দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে নিবন্ধন সম্পন্ন করেন। এর মধ্যে ২২ জন সাবেক এমপি ও মন্ত্রী। ১১ জন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা, পাঁচ জন সাবেক সচিব এবং একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। এমপি-মন্ত্রীদের মধ্যে কারা নিবন্ধন করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে সিনিয়র জেল সুপার তায়েফ উদ্দিন বলেন, আলোচিতদের মধ্যে একমাত্র সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খানও রয়েছেন। অন্যদের মধ্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সালমান এফ রহমান, ড. আব্দুর রাজ্জাক, হাজী সেলিম করেননি। এর বাইরে যে ক’জন করেছেন তাদের মধ্যে সাবেক এমপি ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, সাবেক এমপি সাদেক খান, সাবেক এমপি ড্ক্তাার আব্দুল আজিজ, সালাম মুর্শেদী, হাজী রহিমুল্লাহ, ডাক্তার এনামুর রহমান রয়েছেন। অপর দিকে ডিভিশনপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে অর্নিবার্ন চৌধুরী ও ইফতেখার মাহমুদ রয়েছেন। বাকি ৫০ জন সাধারণ কয়েদি ভোটার নিবন্ধন করেছেন।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তারা কখন কী সিদ্ধান্ত নেবেন সেটি একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। আমরা শুধু তাদেরকে কারাবিধি অনুযায়ী যতটুকু প্রাপ্য তা নিশ্চিত করছি। একই সাথে আইজি প্রিজন স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক আলোচিত এসব বন্দীদের দেখা-সাক্ষাৎ থেকে শুরু করে সার্বক্ষণিক চলাফেরা ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখা হচ্ছে।