কঠিন হয়ে উঠছে পেট্রলপাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করা

জ্বালানি তেল সংগ্রহে ভোগান্তি কমাতে সরকারের পক্ষ থেকে অ্যাপসের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও সার্ভার জটিলতায় তা বন্ধ রয়েছে। গত ৯ তারিখ থেকে দু’টি পাম্পে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হলেও রোববার থেকে সার্ভার জটিলতা দেখা যায়। এ দিকে জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলছে, স্বাভাবিক সময়ে দিনে সাড়ে ১২ হাজার টন জ্বালানি সরবরাহ করা হতো। সেখানে বর্তমানে ১৪ হাজার টনের বেশি তেল দিয়েও সামাল দেয়া যাচ্ছে না। গ্রাহকরা বলছেন, স্বাভাবিক সময়ে যে সাড়ে ১২ হাজার টন তেল দেয়া হতো সেটি একদিনেই শেষ হতো না। এখন প্রায় দুই হাজার টন তেল বেশি দেয়ার পরও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাহলে বাকি তেল কিনছে কারা। কোথাও চলে যাচ্ছে দুই হাজার টন তেল।

আমিনুল ইসলাম
Printed Edition

  • প্রশাসনের নমনীয় ভূমিকাকে দায়ী করছে গ্রাহকরা
  • কাজ করছে না পরীক্ষামূলক ফুয়েল পাস অ্যাপস

কঠিন হয়ে উঠছে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করা। দীর্ঘ হচ্ছে গ্রাহকের লাইন। চার থেকে ১০ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না কাক্সিক্ষত তেল। গ্রাহকদের অনেকেই বলছেন, সরকার দাবি করছে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। আবার পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা যে তেল পাচ্ছে তা পর্যাপ্ত নয়। তাহলে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী বাকি তেল যাচ্ছে কোথায়? ভুক্তভোগীদের অভিযোগ প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকায় কালোবাজারির মাধ্যমে তৃতীয়পক্ষের কাছে মজুদ হচ্ছে জ্বালানি। বিশেষ সুবিধার লোভে এই মজুদদারিতে সহযোগিতা করছে প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তারা।

এ দিকে জ্বালানি তেল সংগ্রহে ভোগান্তি কমাতে সরকারের পক্ষ থেকে অ্যাপসের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও সার্ভার জটিলতায় তা বন্ধ রয়েছে। গত ৯ তারিখ থেকে দু’টি পাম্পে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হলেও রোববার থেকে সার্ভার জটিলতা দেখা যায়। এ দিকে জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলছে, স্বাভাবিক সময়ে দিনে সাড়ে ১২ হাজার টন জ্বালানি সরবরাহ করা হতো। সেখানে বর্তমানে ১৪ হাজার টনের বেশি তেল দিয়েও সামাল দেয়া যাচ্ছে না। গ্রাহকরা বলছেন, স্বাভাবিক সময়ে যে সাড়ে ১২ হাজার টন তেল দেয়া হতো সেটি একদিনেই শেষ হতো না। এখন প্রায় দুই হাজার টন তেল বেশি দেয়ার পরও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাহলে বাকি তেল কিনছে কারা। কোথাও চলে যাচ্ছে দুই হাজার টন তেল।

গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর কয়েকটি তেলের পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, তেলের জন্য লাইন আরো দীর্ঘ হচ্ছে। আগের মতোই লাইন ধরে তেলের জন্য আপেক্ষা করছেন গ্রাহকরা। যুদ্ধ বিরতির বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়েনি তাদের মধ্যে। যানবাহনের ট্যাংকে তেল থাকা সত্ত্বেও আবারো তেল নিতে ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন।

এ দিকে জ্বালানি তেলের সরবরাহে অস্থিরতা কমাতে সরকার ৯ এপ্রিল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে ‘ফুয়েল পাস’ উদ্যোগ। তেজগাঁওয়ের ট্রাস্টসহ দু’টি ফিলিং স্টেশনে শনিবার থেকে সেটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়। কিন্তু রোববার ট্রাষ্ট ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় কাজ করছে অ্যাপে। পাম্পের কর্মচারীরা বলছেন, সার্ভার জটিলতার কারণে ফুয়েল পাস বন্ধ রয়েছে। তাই আগের নিয়মেই তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। পাম্পে তেল নিতে আসা ক্রেতারা বলছেন, ফুয়েল পাসের অ্যাপে প্রবেশ করা যাচ্ছে না, তাই আগের নিয়মেই তেল নিতে হচ্ছে।

ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী শাহরিয়ার বলেন, গতকাল পর্যন্ত আমরা ফুয়েল পাসের মাধ্যমে তেল দিয়েছি। আজ (রোববার) সকাল থেকে সমস্যা দেখা দেয়ায় অ্যাপের মাধ্যমে দিতে পারছি না, সার্ভার বন্ধ হয়ে আছে। পাম্পটিতে তেল নিতে আসা আবুল বাশার বলেন, অ্যাপে নিবন্ধন করেছিলাম। ভাবলাম আজ তেল নেবো, এখন দেখি অ্যাপ আর কাজ করছে না। এখন দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে।

ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে সারিতে থাকা মোটরসাইকেল চালকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর তারা তেল নিতে পারছেন। মোটরসাইকেল চালক আবুল বাশার বলেন, সকাল ৮টায় এসে জাহাঙ্গীর গেটের ওখানে দাঁড়িয়েছি। গাড়ি ঠেলতে ঠেলতে মাত্র পাম্পের সামনে এলাম। তেল নিতে পাঁচ ঘণ্টা গেল। আরেক মোটরসাইকেল চালক শুভ বিশ্বাস বলেন, তেল নিতে এত ভোগান্তিতে পড়তে হবে আগে কোনো দিন ভাবিনি। সরকার বলছে তেল আছে, তাহলে তেল যাচ্ছে কোথায়? এর মাঝে নিশ্চিই অসাধু চক্রের কালো থাবা রয়েছে। যাদের সহায়তা করছে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তি। তারা যদি অবৈধ সুযোগ না নিয়ে কঠোর অবস্থানে থাকতেন তাহলে দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীরা মজুদ করতে পারতেন না। তার সুরে সুর মেলান অন্য গ্রাহকরাও। ট্রাষ্ট ফিলিং ষ্টেশনে গ্রাহকদের চাহিদার কাছাকাছি তেল দিলেও অন্য পাম্পগুলোতে দেয়া হচ্ছে খুবই কম পরিমাণের তেল। শনিবার রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি মোটরসাইকেলকে দেয়া হচ্ছে ২০০ টাকার অকটেন। আর প্রাইভেট কারে দেয়া হচ্ছে মাত্র ৮০০ টাকার। যা নিয়ে বাগি¦তণ্ডা হচ্ছে গ্রাহক ও বিক্রেতাদের মাঝে।

সেখানে প্রাইভেট কার চালক আসিফ রহমান বলেন, প্রায় চার ঘণ্টা লাইনে থেকে ৮০০ টাকার তেল দিচ্ছে। অথচ এই চার ঘণ্টা গাড়ি সামনে আনতে কমপেক্ষ ১০ থেকে ১৫ বার ইঞ্জিন চালু করতে হয়েছে। এতে তেল খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লিটার। বাসা থেকে আসা যাওয়া করতে আরো প্রায় দুই লিটার তেল খরচ। ৮০০ টাকায় পাওয়া যাবে প্রায় ৬ লিটার। বাকি সাড়ে ৩ লিটার তেল দিয়ে কি কাজ করা যাবে। তবে পাম্প কর্মচারীরা বলছেন, এই পাম্প থেকে স্লিপের মাধ্যমে পুলিশের লোকজন বেশি তেল নিয়ে থাকেন। তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী তেল দিয়ে বাকি যেটুকু থাকে তাই সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে দেয়া হয়।

এ দিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) উদ্যোগে গত ৯ এপ্রিল থেকে চালু হয় ফুয়েল পাস। প্রাথমিকভাবে রাজধানীর ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন এবং আসাদগেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে এই কার্যক্রম চালু হয়েছিল। তবে ফুয়েল পাস নিতে অ্যাপ ডাউনলোড করে নিবন্ধন করতে পারছেন না অনেকেই। তারা বলছেন, অ্যাপের চাওয়া সব তথ্য দেয়ার পরও বলছে আবার চেষ্টা করুন। চালু না হতেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।