প্রার্থিতা চূড়ান্ত হলে অভ্যুত্থানের পক্ষের দলগুলো ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জোরেশোরে মাঠে নামবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টার মর্যাদায়) অধ্যাপক আলী রীয়াজ। গতকাল সন্ধ্যায় দৈনিক নয়া দিগন্তের সাথে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসা অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, বরিশাল থেকে তিনি ঢাকায় ফিরছেন।
তিনি বলেন, সকালে বরিশালে দু’টি প্রোগ্রাম করেছি। সকালে ইমাম সম্মেলন ছিল, সেখানে আমি কথা বলেছি। অন্যান্য কর্মকর্তাও কথা বলেছেন। বিকেলে বরিশাল বিভাগের জেলা ও উপজেলাপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে মিটিং করেছি। আগামীকাল (আজ সোমবার) রাজশাহী যাবো।
প্রশ্ন : আপনি এখন কোথায় আছেন? সাম্প্রতিক কর্মসূচি সম্পর্কে জানাবেন?
অধ্যাপক আলী রীয়াজ : বরিশাল থেকে আমি ঢাকায় ফিরছি। সকালে বরিশালে দু’টি প্রোগ্রাম করেছি। সকালে ইমাম সম্মেলন ছিল, সেখানে আমি কথা বলেছি, অন্যান্য কর্মকর্তাও বক্তব্য দিয়েছেন। বিকেলে বরিশাল বিভাগের জেলা ও উপজেলাপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে একটি মিটিং করেছি। আগামীকাল (আজ সোমবার) রাজশাহী যাবো।
প্রশ্ন : আপনারা তো সরকারের পক্ষ থেকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার-প্রচারণা নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?
অধ্যাপক আলী রীয়াজ : রাজনৈতিক দলগুলো এখন মূলত তাদের প্রার্থী ঠিক করা নিয়েই ব্যস্ত। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়া, প্রত্যাহার, বাতিল হওয়া, আপিল করা, অন্যান্য দলগুলোর সাথে সমঝোতা করা- এই কাজগুলোতেই তারা ব্যস্ত। ফলে তারা এখনো জোরালোভাবে প্রচারণা করছে না- এতে আমি খুব বেশি বিস্মিত নই।
তবে এটা ঠিক নয় যে, তারা একেবারেই প্রচার করছে না। যেমন জামায়াতের পক্ষ থেকে আগেই বলা হয়েছে যে, তারা গণভোটের পক্ষে। ইসলামী আন্দোলন বা ওই জোটের মধ্যেও ‘হ্যাঁ’ ভোটের বাইরে কেউ নেই। সে দিন নুরকেও (ভিপি নুরুল হক নুর) আমি ফেসবুকে বা কোথাও দেখলাম সে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলেছে। আবার সাকীও (জুনায়েদ সাকী) মনে হয় এ বিষয়ে পোস্ট দিয়েছেন। আর মির্জা ফখরুল সাহেব (বিএনপি মহাসচিব) তো পরশুদিন সুস্পষ্ট করে বলেছেন যে, গণভোটে ‘না’ বলার সুযোগ নেই।
তাদের সক্রিয়ভাবে প্রচারণা না করার অন্যতম কারণ হচ্ছে- তারা এখন প্রার্থিতা নিয়ে ব্যস্ত। এখন তো তাদের প্রধান অগ্রাধিকার সেটিই। আমরা আশা করছি, তারা প্রচারণায় নামবেন।
প্রশ্ন : সরকার কেন এত জোর দিয়ে প্রচারণা করছে?
অধ্যাপক আলী রীয়াজ : একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জুলাই সনদ প্রণয়ন হয়েছে। তার ভিত্তিতেই একটি গণভোট হবে। এটা আমাদের দায়িত্ব জনগণকে জানানো ও বোঝানো। শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নির্ভর করলে তো হবে না, এটা সরকারের দায়িত্বেরও অংশ। সে জায়গা থেকেই আমরা এই কাজ করছি।
প্রশ্ন : প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পর দলগুলো প্রচারণায় নামবে- এ নিয়ে দলগুলোর সাথে কি আপনারা কথা বলছেন?
অধ্যাপক আলী রীয়াজ : এই মুহূর্তে আমরা দেখছি রাজনৈতিক দলগুলো খুব ব্যস্ত। তাদের সাথে একধরনের যোগাযোগ আমাদের আছে। আমরা বুঝতে পারছি তারা কী নিয়ে ব্যস্ত আছে। অনেকের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে, আপিল করতে হচ্ছে- এসব বিষয়েই তারা এখন ব্যস্ত।
আমরা হঠাৎ করে তাদের এই ব্যস্ততাকে গুরুত্বহীন বলে বিবেচনা করতে পারি না। আমরা অপেক্ষা করছি, পর্যবেক্ষণ করছি। যোগাযোগ আছে। আমরা আশা করছি, যখন তাদের প্রার্থিতা বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে চূড়ান্ত হবে, তখন তারা প্রচারণায় যাবেন এবং তাদের প্রার্থীরাও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলবেন।
প্রশ্ন : রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আবার আনুষ্ঠানিকভাবে বসার কোনো সম্ভাবনা আছে কি?
অধ্যাপক আলী রীয়াজ : আলাদা করে আনুষ্ঠানিকভাবে বসার আর তেমন সুযোগ নেই। আমরা একধরনের যোগাযোগের মধ্যেই আছি। আমরা কথাবার্তা বলব আলাদাভাবে; কিন্তু আলাদা কোনো বৈঠকের প্রয়োজন দেখছি না।
প্রশ্ন : ‘না’ ভোটের পক্ষে ফ্যাসিস্ট সমর্থকদের একটি অংশ প্রচারণা চালাচ্ছে- এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
অধ্যাপক আলী রীয়াজ : এই মুহূর্তে নির্বাচন কমিশনে যাদের নিবন্ধন নেই, যারা বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ, তাদের নিয়ে আমি আলোচনা করব কেন?
প্রশ্ন : সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক বা ম্যাসিভ প্রচারণা কবে থেকে শুরু হবে?
অধ্যাপক আলী রীয়াজ : আমরা তো ইতোমধ্যে প্রচারণা শুরু করেছি। ভোটের গাড়ি জেলা-উপজেলায় যাচ্ছে। উপদেষ্টাদের কেউ কেউ বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন। প্রচারণায় আরো কিছু পরিকল্পনা আছে।
যেমন- কিছুদিন আগে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সাথে বৈঠক করেছি। কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রায় ১৭ হাজার কর্মকর্তার সাথে বৈঠক করেছি। এনজিওদের সাথে কথা বলেছি। বিভিন্ন জায়গায় বিলবোর্ডে প্রচারণা চলছে- ঢাকায়ও নিশ্চয়ই দেখেছেন।
প্রচারণা চলছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলো যেভাবে ব্যাপক প্রচারণা করে, ঠিক সেই ধরনের প্রচারণা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা আমাদের দিক থেকে যতটুকু সম্ভব, সেটুকুই করছি।



