দ্য গার্ডিয়ান
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃতদের বহনকারী একটি বিমান উগান্ডায় পৌঁছেছে। ট্রাম্প প্রশাসন এমন মানুষদের বহিষ্কার করছে যাদের সাথে উগান্ডার কোনো সম্পর্ক নেই। একজন উগান্ডার সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বহিষ্কৃতরা আপাতত উগান্ডায় থাকবে এবং পরবর্তীতে অন্য দেশে পাঠানো হতে পারে। উগান্ডা ল’ সোসাইটি জানিয়েছে, বিমানে ১২ জন ছিলেন। এটি আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে করা চুক্তির অধীনে প্রথম বহিষ্কার। তবে তাদের জাতীয়তা প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে এসওয়াতিনি, ঘানা, রুয়ান্ডা ও দক্ষিণ সুদানসহ কয়েকটি আফ্রিকান দেশে মানুষ বহিষ্কার করেছে। এসব দেশে কিউবা, জ্যামাইকা, ইয়েমেন, ভিয়েতনাম, লাওস ও মিয়ানমার থেকেও মানুষ পাঠানো হয়েছে।
উগান্ডা ল’ সোসাইটি বলেছে, তারা আদালতে এই বহিষ্কারের বিরুদ্ধে মামলা করবে। তারা এটিকে অমানবিক ও অপমানজনক প্রক্রিয়া বলে আখ্যা দিয়েছে। উগান্ডায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জানিয়েছে, সব বহিষ্কার উগান্ডা সরকারের সহযোগিতায় হচ্ছে। তবে ব্যক্তিগত কারণে বিস্তারিত জানানো হয়নি। আগস্টে উগান্ডা জানিয়েছিল, তারা তৃতীয় দেশের মানুষ গ্রহণ করবে যারা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পায়নি কিন্তু নিজ দেশে ফিরতে অনিচ্ছুক। তবে অপরাধী বা একাকী শিশুদের গ্রহণ করবে না। উগান্ডা ইতোমধ্যে প্রায় ২০ লাখ শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে, যাদের বেশির ভাগই কঙ্গো, ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া ও সুদান থেকে এসেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, শত শত আশ্রয়প্রার্থীকে উগান্ডায় পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়েছে। তবে উগান্ডার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ওরিয়েম ওকেলো বলেছেন, এখনো যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেউ আসেনি। তিনি বলেন, কয়েকজনকে পাঠানো কার্যকর নয়, পুরো বিমানে পাঠানোই সবচেয়ে কার্যকর।
যুক্তরাষ্ট্র এসওয়াতিনিকে ৫.১ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে ১৬০ জন বহিষ্কৃত গ্রহণের জন্য। জুলাই ও অক্টোবরে সেখানে কয়েকজন পাঠানো হয়েছে। কেউ কেউ পরে জ্যামাইকা ও কম্বোডিয়ায় ফেরত গেছেন, বাকিরা কারাগারে রয়েছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১২ মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ৬৩ হাজারের বেশি মানুষ অভিবাসন আটক কেন্দ্রে বন্দী ছিল। টেক্সাসের ডিলি শহরের একটি আটক কেন্দ্রে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫৬০০ জন বন্দী ছিল, যাদের মধ্যে শিশু ও নবজাতকও ছিল।



