রংপুরে রিলাই বাণিজ্য মেলায় হস্তশিল্পের নয়া জাগরণ

Printed Edition

রংপুর ব্যুরো

রংপুরে রিলাই বাণিজ্য মেলায় প্রান্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের হস্তশিল্পের পণ্য প্রদর্শন ও বাজারজাতের নয়া জাগরণ তৈরি হয়েছে।

শনিবার সকাল থেকেই জমজমাট ছিল মেলাপ্রাঙ্গণ। অর্থ-মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত “রেজিলিয়েন্স এন্টারপ্রেনিওয়শীপ অ্যান্ড লাইভলিহুড ইমপ্রভমেন্ট প্রজেক্টের (আরইএলআই) আওতায় রংপুর, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ) এই মেলার আয়োজক। এতে নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর ও লালমনিরহাটের ৬২৫টি গ্রাম সমিতির মাধ্যমে ৯২টি উৎপাদনকারী দলের হস্তশিল্প, কৃষিপণ্য ও ক্ষুদ্র শিল্পের নানাবিধ সামগ্রী ৪০টি স্টলে প্রদর্শন ও বিক্রয় কার্যক্রম চলছে।

মেলায় স্টল দিয়েছেন রংপুরের বেতগাড়ি শেরপুর গ্রামের রিলাই পল্লী কারুশিল্প মালিক শিল্পী আখতার। তিনি জানালেন, নিজের পাশাপাশি গ্রামের আরো কয়েকজন নারী এই কাজে সম্পৃক্ত। আমরা গ্রামের হাটবাজারে পণ্য সাপ্লাই দেই। এখানে এসে আমরা পরিচিতি পেলাম। বেচাবিক্রিও ভালো হয়েছে। এই মেলার মাধ্যমে আমাদের অনেক গ্রাহক সৃষ্টি হলো। অনেকেই মোবাইল নম্বর এবং ঠিকানা নিয়েছেন।’

মেলায় দিনাজপুর থেকে বড় সুলতানপুর থেকে এসে স্টল দিয়েছেন রিলাই পোশাক হাউজ নামে আকলিমা বেগম। তিনি জানান, ‘নিজের হাতে আমরা পোশাক তৈরি করি। তাতে বিভিন্ন ধরনের নকশাও করি। হাতের কাজ। এলাকায় আমরা মার্কেটিং করে বিক্রি করি। এখানে মেলায় এসে অনেক গ্রাহক ক্রয় করছেন। আমাদের ঠিকানা সংগ্রহ করছেন। আমরা মনে করি এই মেলার মাধ্যমে আমাদের ব্যবসার সম্প্রসারণ হবে।

মেলার ক্রেতা কলেজ শিক্ষিকা সাবিকুন্নাহার স্মৃতি জানালেন, ‘প্রান্তিক নারীরা নিজ এবং দলগত হয়ে বাঁশ, বেত, পাটসহ বিভিন্ন হস্তশিল্প এখানে এনেছেন। সবই পছন্দ করার মতো। বেশ কয়েকটা পাটপণ্য আমি ক্রয় করলাম। বাজার তৈরি হলে প্রান্তিক নারীরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে।’

বৃহস্পতিবার নগরীর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে এই মেলার উদ্বোধন করেছিলেন ডিসি মোহাম্মদ এনামুল আহসান। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন এডিসি (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ) মোছা: রোকসানা বেগম, এসডিএফের প্রধান কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (জীবিকায়ন) মো: সাইদুর রহমান, রংপুর অঞ্চল পরিচালক মো: সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।