নয়া দিগন্ত ডেস্ক
- রাফাহ সীমান্ত আগামী সপ্তাহে দুই দিকে চলাচলের জন্য খুলছে
- গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় ৩ সাংবাদিকসহ ১১ জন নিহত
- পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইহুদি সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণের বাইরে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে তার উচ্চাভিলাষী সংস্থা ‘বোর্ড অব পিস’ এর যাত্রা শুরু করেছেন। প্রাথমিকভাবে গাজা যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে এটি গঠন করা হলেও, ট্রাম্প এখন একে আরো ব্যাপক বৈশ্বিক ভূমিকায় দেখতে চান। তবে ইউরোপসহ বিশ্বের অনেক দেশ আশঙ্কা করছে যে, এই নতুন সংস্থাটি জাতিসঙ্ঘের সমান্তরাল বা এর প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে।
রয়টার্স ও আলজাজিরা জানায়, সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে এই বোর্ড গঠনের দলিলে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, এই বোর্ড জাতিসঙ্ঘের পাশাপাশি কাজ করবে এবং অনেক দেশই এতে যোগ দিতে আগ্রহী। তবে সমালোচকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই উদ্যোগ সরাসরি জাতিসঙ্ঘের কার্যকারিতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
ট্রাম্প এই বোর্ডের আজীবন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমানে এর মূল কাজ গাজা যুদ্ধ বিরতি তদারকি করা হলেও, ট্রাম্প ভবিষ্যতে অন্যান্য বৈশ্বিক সঙ্ঘাত নিরসনেও একে ব্যবহার করতে চান। তিনি জানান, প্রায় ৩৫টি দেশ এতে যোগ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে-সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, তুরস্ক ও বেলারুশ। মরক্কো ও বাহরাইন প্রথম দেশ হিসেবে এই সনদে স্বাক্ষর করেছে।
বোর্ডের সনদে একটি বিতর্কিত শর্ত রয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, বোর্ডের স্থায়ী সদস্য হতে চাইলে প্রতিটি দেশকে ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলার অনুদান দিতে হবে। যারা এই অর্থ দেবেন না, তাদের সদস্যপদ হবে তিন বছর মেয়াদি। রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তারা এই প্রস্তাবটি বিবেচনা করছে, তবে ফ্রান্স ও ব্রিটেন এখনই এতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। চীন এখনো তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেনি।
ইউরোপের অনেক দেশ মনে করছে, ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে এমন একটি শক্তিশালী সংস্থা গড়তে চাইছেন যা জাতিসঙ্ঘের প্রভাব কমিয়ে দেবে। ট্রাম্প এর আগে একাধিকবার জাতিসঙ্ঘের সমালোচনা করে বলেছিলেন যে, সংস্থাটি বৈশ্বিক সঙ্ঘাত নিরসনে যথেষ্ট কার্যকর নয়। অন্য দিকে জাতিসঙ্ঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা শুধু গাজা শান্তি পরিকল্পনার পরিপ্রেক্ষিতেই এই বোর্ডের সাথে সহযোগিতা করবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ‘বোর্ড অব পিস’-এ তার জামাতা জ্যারেড কুশনার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিরা যুক্ত রয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বিশ্ব কূটনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের জন্ম দিতে পারে।
স্বাক্ষরের আগে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যা করছি, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি সত্যিই এখানে এসে এটি করতে চেয়েছিলাম। এর চেয়ে ভালো জায়গা আর হতে পারে না।’ এরপর ট্রাম্প একটি কলম হাতে নিয়ে একগুচ্ছ নথিতে স্বাক্ষর করেন। হাসিমুখে সেগুলো ক্যামেরার সামনে তুলে ধরেন তিনি। এরপর জোড়ায় জোড়ায় অন্য বিশ্বনেতারাও এগিয়ে এসে শান্তি সনদে স্বাক্ষর করতে থাকেন।
ডব্লিউইএফের বার্ষিক অধিবেশন উপলক্ষে বর্তমানে শতাধিক দেশের নেতা ও শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা দাভোসে অবস্থান করছেন। এদিন ডব্লিউইএফের এক ফাঁকে শান্তি সনদসংক্রান্ত সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, ‘অভিনন্দন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এই সনদ এখন পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে। আর শান্তি পর্ষদ এখন একটি আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক সংস্থা।’
যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা পুনর্গঠনের জন্য সম্প্রতি শান্তি পরিষদ গঠনের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এতে যোগ দেয়ার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে স্থায়ী সদস্য হতে প্রতি দেশকে ১০০ কোটি ডলার দিতে হবে বলে সূত্রের দাবি অনুযায়ী অনেকে প্রতিবেদন করেছেন।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মিসর, তুরস্ক, বেলারুশ, ইসরাইল, পাকিস্তানসহ প্রায় ৩৫টি দেশ শান্তি পরিষদে যোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। জাতিসঙ্ঘের পাঁচটি স্থায়ী সদস্যের মধ্যে এখনো কেউ শান্তি পর্ষদে যোগ দেয়ার কথা নিশ্চিত করেনি। ফ্রান্স সরাসরি জানিয়েছে যে তারা এতে যোগ দেবে না। বুধবার রাশিয়া বলেছে, তারা প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখছে। গতকাল ব্রিটেন জানিয়েছে, এই মুহূর্তে তারা এতে যোগ দেবে না। অন্য দিকে চীন এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
গাজার রাফাহ সীমান্ত আগামী সপ্তাহে দুই দিকে চলাচলের জন্য খুলছে
গাজা ও মিসরের মধ্যে রাফাহ সীমান্ত আগামী সপ্তাহে দুইমুখী চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার ঘোষণা দিয়েছেন গাজার নতুন ট্রানজিশন কমিটির প্রধান। খবর আলজাজিরার। আলি শাথ বলেন, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, আগামী সপ্তাহে রাফাহ সীমান্ত গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য দুই দিকেই খুলে দেয়া হবে।’ তিনি এ ঘোষণা দেন বোর্ড অব পিস চার্টার স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে। শাথ, যিনি আনুষ্ঠানিকভাবে গাজার প্রশাসনিক জাতীয় কমিটির প্রধান, রাফাহকে ‘জীবনরেখা ও সুযোগের প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এর পুনরায় খোলা ‘ইঙ্গিত দেয় যে গাজা আর ভবিষ্যতের জন্য বন্ধ নয়।’ হোয়াইট হাউজ শুক্রবার গাজার ক্ষমতা হস্তান্তর তদারকির জন্য নতুন ‘প্রযুক্তিবিদ কমিটি’র সদস্যদের ঘোষণা দিয়েছে। এটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য ইসরাইলের গণহত্যামূলক যুদ্ধের অবসান ঘটানো। শাথ পূর্বে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় ৩ সাংবাদিকসহ ১১ জন নিহত
গাজায় গত বুধবার ভোর থেকে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দু’টি শিশু ও তিনজন সাংবাদিক রয়েছেন। এদিন পৃথক হামলায় আরো অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। খবর আলজাজিরার। মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আলবুরশ আলজাজিরাকে বলেন, গতকাল যাদের গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে এবং যারা নিহত হয়েছেন, তারা সবাই ফটোসাংবাদিক ছিলেন। তারা গাজার জন্য মিসরের ত্রাণ কার্যক্রম তদারককারী সংস্থা ‘ইজিপশিয়ান কমিটি ফর গাজা রিলিফ’ এর হয়ে কাজ করতেন। নিহত তিন ফটোসাংবাদিক হলেন আনাস গুনাইম, আবদুল রাউফ শাথ ও মোহাম্মদ কেশতা। সহকর্মী ও চিকিৎসা কর্মকর্তাদের বরাতে আলজাজিরা জানায়, মধ্য গাজার নেতজারিম করিডরের কাছে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতির তথ্য সংগ্রহ করছিলেন তারা। এ সময় ইসরাইল তাদের ওপর হামলা চালায়। গাজায় থাকা আলজাজিরার প্রতিনিধিদল জানিয়েছে, ওই হামলায় চতুর্থ আরেক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সড়কের পাশে তাদের পুড়ে যাওয়া ও বোমায় বিধ্বস্ত গাড়িটি পড়ে আছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে তখনো ধোঁয়া উঠছিল। কমিটির মুখপাত্র মোহাম্মদ মানসুর বলেন, সাংবাদিকেরা বাস্তুচ্যুতদের জন্য তৈরি নতুন একটি আশ্রয়শিবিরের ছবি তুলছিলেন। ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে ওই হামলা হয়েছে। যে গাড়িতে হামলা হয়েছে, সেটি যে মিসরীয় কমিটির মালিকানাধীন, তা ইসরাইলি সেনাবাহিনীর জানা ছিল। ইসরাইলি আর্মি রেডিও ইসরাইলি নিরাপত্তাসূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেছে, ইসরাইলি বিমানবাহিনী মধ্য গাজায় একটি গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, গাড়ির যাত্রীরা সেনাবাহিনীর তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি ড্রোন ব্যবহার করছিলেন।
এক পরিবারের তিনজন নিহত
মধ্য গাজায় পৃথক আরেকটি হামলায় একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন-এক ফিলিস্তিনি বাবা, তার ছেলে এবং তাদের আরেক স্বজন। দক্ষিণ গাজার খান ইউনুসে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরকে গুলি করে হত্যা করেছেন ইসরাইলি সেনারা। ইউনিসের পাশে পৃথক আরেকটি হামলায় ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। উত্তর গাজায় ইসরাইলের হামলায় আরো দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা ওয়াফা। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলেছেন, ইসরাইল গত বছর ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওই যুদ্ধবিরতি হয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে বিবিসি বলেছে, ১০ অক্টোবর থেকে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর গাজায় অন্তত ৪৬৬ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে। তা ছাড়া ইসরাইল এখনো গাজায় খাদ্য, চিকিৎসা সহায়তা ও আশ্রয়সামগ্রী প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। ত্রাণ প্রবেশে সীমাবদ্ধতার কারণে গাজায় প্রায় ২২ লাখ মানুষ ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় চরম মানবিক সঙ্কটে রয়েছেন।
পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইহুদি সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণের বাইরে
পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইহুদি সন্ত্রাস দ্রুত বেড়ে চলেছে এবং এটি এখন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এতে গুরুতর নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রভাব পড়তে পারে। এ প্রবণতা ফিলিস্তিনি উপস্থিতি দুর্বল করার উদ্দেশ্যে চালানো হচ্ছে এবং বড় ধরনের সহিংসতার ঢেউ সৃষ্টি করতে পারে। একই সাথে ইসরাইলের আন্তর্জাতিক অবস্থানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে মিডল ইস্ট মনিটর।
গত মঙ্গলবার তেলআবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ (আইএনএসএস) এ রিপোর্ট প্রকাশ করে। এতে বলা হয়েছে, বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইহুদিদের দ্বারা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার মাত্রা ও তীব্রতা বেড়েছে। এসব হামলাকে ‘জমি দখলের লড়াই’ এবং ‘ফিলিস্তিনি উপস্থিতি দুর্বল করার প্রচেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, বিশেষ করে এরিয়া সি অঞ্চলে।
ইসরাইলি সেনা ও আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্যানুযায়ী, এ ধরনের হামলা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের হিসাব বলছে, ২০২৫ সালে ‘জাতীয়তাবাদী অপরাধ’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ ঘটনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। মোট ৮৭০টি অপরাধ রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে ১২০টি গুরুতর ঘটনা। ২০২৪ সালে গুরুতর ঘটনার সংখ্যা ছিল ৮৩। জাতিসঙ্ঘের তথ্য আরো ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। ২০২৪ সালে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে প্রায় এক হাজার ৪২০টি হামলা নথিভুক্ত হয়েছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি এবং ২০০৬ সালে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ। এসব হামলায় পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৩৫০ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ৩০০টির বেশি পরিবার- প্রায় এক হাজার ৭০০ মানুষ বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। প্রতিবেদন বলছে, এ প্রবণতা ২০২৫ সালেও অব্যাহত রয়েছে। এ বছর হামলার সংখ্যা এক হাজার ৭৭০ ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ডকেও অতিক্রম করেছে।



