শেরপুর প্রতিনিধি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আমরা চেয়েছিলাম সাংবিধানিক পরিবর্তন। কেন এটা চেয়েছিলাম? শেখ হাসিনা এমন এক রাষ্ট্র কাঠামো বানিয়েছিল, ওই কাঠামোর মধ্যে যে প্রধানমন্ত্রী হবে সেই-ই দুর্নীতিবাজ হবে, ফ্যাসিস্ট হবে, অত্যাচারী হবে, কর্তৃত্ববাদী হবে। সেজন্য বিএনপিসহ সবাই আমরা বলেছিলাম- রাষ্ট্রের কাঠামো বদলাতে হবে। আর বদলানো কাঠামোতে যেই-ই ক্ষমতায় যাবে সে যেন দুর্নীতি, অত্যাচার করার সুযোগ না পায়। অথচ বিএনপি ক্ষমতায় যেয়ে সেই রাষ্ট্র কাঠামো বদলানোর অঙ্গীকারই ভুলতে বসেছে।
গতকাল শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার মিনি স্টেডিয়ামে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের নির্বাচনী জনসভায় তিনি একথা বলেন। এ সময় তিনি শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মো: মাসুদুর রহমানের হাতে আমিরে জামায়াতের পক্ষ থেকে নির্বাচনী প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে নানাভাবে হুমকি ও প্রচারণা চালাচ্ছেন। এজন্য সিভিল প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলতে চাই, নির্বাচনে কোনো দুর্নীতি ও ইঞ্জিনিয়ারিং হলে জনগণ এর দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, চাচীর ছালুনে জায়গায় জায়গায় লবণ। সংবিধানের যেইটুকু তাদের ভালো লাগে সেইটুকু নেয়। বিএনপি গোশত খাবে; কিন্তু গোশতের ঝোল খাবে না।
তিনি উপস্থিত সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রেজাউল করিমের রক্তের উপর বসে আমরা এ সভা করছি, এত দ্রুত শহীদ রেজাউলের রক্তের স্মৃতি ও নুরুজ্জামান বাদলকে হারানোর শোকাবহ স্মৃতি ভুলে গেলে চলবে না। তাই সৎ ও খোদাভীরু মাসুদুর রহমানকে আপনাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠাতে হবে।
ঝিনাইগাতী থানা আমির মাওলানা নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে নির্বাচনী জনসভায় আরো বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যাপক শাহাব উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম ভূইয়া, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, শেরপুর জেলা জামায়াত আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান, জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল বাতেন, জেলা মজলিশে শূরার সদস্য ডা: মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন প্রমুখ। এ সময় মঞ্চে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



