ব্রিটিশ আমলে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ১৩টি জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠা হয়। এরপর পাকিস্তান আমলে কুষ্টিয়া ও বরগুনা জেলাতেও দু’টি জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে দেশ স্বাধীনের পর এই প্রথমবারের মতো নতুন করে বাকি জেলাগুলোতে এরকম ৪৯টি স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
গতকাল এমন উদ্যোগের ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. অ ন ম এহছানুল হক মিলন নিজেই। আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রস্তুতি বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত অবহিতকরণ এবং মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এই উদ্যোগের কথা জানান।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, স্বাধীনতার পরবর্তী দীর্ঘ সময়ে সাহসী উদ্যোগ এবং সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবেই মূলত এই জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে অগ্রগতি হয়নি। তবে এখন যেসব জেলায় এই স্কুল নেই সেখানে নতুন করে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে বর্তমান সরকার এগিয়ে যাবে। প্রয়োজনে একাধিক বছরে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করে হলেও এটা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, জিলা স্কুলগুলো প্রথম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত অর্থাৎ উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের আদলে হবে, যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী ও সমন্বিত করবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশে বর্তমানে উল্লেখযোগ্য ও ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত জিলা স্কুলের সংখ্যা ১৫টি। এর মধ্যে ১৩টি ব্রিটিশ আমলে এবং বাকি দু’টি (কুষ্টিয়া ও বরগুনা) পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমানে সারা দেশে সরকারি ও জাতীয়করণকৃত মিলিয়ে মোট ৬৯১টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে।
সূত্র আরো জানায় ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত প্রধান ১৩টি জিলা স্কুল হচ্ছে- রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল (১৮২৮ সাল), বরিশাল জিলা স্কুল (১৮২৯), রংপুর জিলা স্কুল (১৮৩২), ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল (১৮৩৫), চট্টগ্রাম জিলা স্কুল (১৮৩৬), কুমিল্লা জিলা স্কুল (১৮৩৭), যশোর জিলা স্কুল (১৮৩৮), ফরিদপুর জিলা স্কুল (১৮৪০), নোয়াখালী জিলা স্কুল (১৮৫০), ময়মনসিংহ জিলা স্কুল (১৮৫৩), পাবনা জিলা স্কুল (১৮৫৩), বগুড়া জিলা স্কুল (১৮৫৩), দিনাজপুর জিলা স্কুল (১৮৫৪), খুলনা জিলা স্কুল (১৮৮৫) এবং সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় (১৮৮৬)। এই স্কুলগুলো মূলত ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গঠনশৈলীর দিক দিয়েও বিশেষ বৈশিষ্ট্যের। বিশেষ করে লাল-ইট বা ঔপনিবেশিক স্থাপত্যশৈলী এগুলোর অনন্য বৈশিষ্ট্য। এ ছাড়া এই স্কুলগুলোর রয়েছে বিশাল খেলার মাঠ এবং প্রশাসনিক ভবন । একইসাথে এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষা এবং মানসম্মত শিক্ষা দানের বিষয়টিও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এসব স্কুল থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতেও সেবা দিয়ে অবদান রাখছে।
এদিকে গতকালের সভায় শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে নকল প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
সভায় মন্ত্রী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬-এর সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন এবং ঝুঁঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো আবার তদন্ত করে হালনাগাদ তালিকা তৈরির নির্দেশনা দেন। সেই সাথে পরীক্ষায় যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও নকল প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে নকল প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢোকার সময় পরীক্ষার্থীদের যথাযথভাবে দেহতল্লাশি নিশ্চিত করতে হবে এবং শিক্ষকদের সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে নকল প্রতিরোধ জোরদার করতে হবে। পরীক্ষা চলাকালে কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রশ্ন বা প্রশ্নসংক্রান্ত কোনো কনটেন্ট আপলোড হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। মেধাভিত্তিক জাতিগঠনের জন্য পরীক্ষার পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে। অটোপাসের আর কোনো সুযোগ দেয়া হবে না। ব্যবহারিক পরীক্ষায় গড় নম্বর দেয়ার প্রচলিত প্রথা থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত মূল্যায়নকে গুরুত্ব দিতে হবে।



