সিংড়া (নাটোর) সংবাদদাতা
নাটোরের সিংড়া উপজেলার সুকাশ ইউনিয়নে ভিজিডি কর্মসূচির বরাদ্দকৃত ৭ দশমিক ৪১০ মেট্রিক টন চাল উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ না করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুয়া মাস্টাররোল ও প্রত্যয়নপত্র তৈরির অভিযোগও উঠেছে চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসারের বিরুদ্ধে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ মার্চ খাদ্যগুদাম থেকে ২৪৭ জন হতদরিদ্র নারীর জন্য বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলন করা হয়। তবে ওই চাল উপকারভোগীদের না দিয়ে বাজারে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পরে ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার সহযোগিতায় ১১ মার্চ চাল বিতরণ দেখিয়ে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা দেয়া হয়। সরেজমিন অন্তত একাধিক উপকারভোগী নারী জানান, তারা মার্চ মাসের কোনো চাল পাননি। বিনামূল্যে ব্যাংক হিসাব খোলার কথা থাকলেও জনপ্রতি এক হাজার টাকা নেয়া হয়েছে এবং মাসিক সঞ্চয়ের নামে ২২০ টাকা করে নেয়া হলেও কোনো রসিদ দেয়া হয়নি। তদন্তে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা সুমি আক্তার দেখতে পান, অনেক উপকারভোগীর কার্ডে ভুয়া স্বাক্ষর ও টিপসই দিয়ে একই মাসে দুইবার চাল বিতরণের তথ্য দেখানো হয়েছে। উপস্থিত নারীরাও স্বীকার করেন, তারা কোনো চাল পাননি এবং তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মিথ্যা বলতে বাধ্য করা হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক সদস্য ও কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মার্চ মাসে কোনো চাল বিতরণ হয়নি। তবে চেয়ারম্যান দাবি করেন, ঈদের আগে চাল বিতরণ করা হয়েছে, যদিও তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জানান, চাল উত্তোলন পর্যন্ত তাদের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ। অপরদিকে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত জানিয়েছেন, ঘটনার বিষয়ে জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে এবং বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।



