নিজস্ব প্রতিবেদক
ভাই তার শিশু বোনকে পুতুল ও প্লাস্টিকের ফুল কিনে দেয়ায় ভাবীর হাতে খুন হয় পাঁচ বছরের আরিফা আক্তার। রাজধানীর ভাটারার কুড়িল মৃধাবাড়ি একটি দোতলা বাসার নিচতলায় পানির ট্যাঙ্কির ভেতর থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল ভোরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ভাই মোহাম্মদ হাসান জানান, আমার বোনকে একটি পুতুল ও প্লাস্টিকের ফুল কিনে দিয়েছিলাম। এটা নিয়ে আমার স্ত্রী খাদিজা ভীষণ রেগে যায়। পরে হিংসা করে আমার বোনকে হত্যা করেছে। আমাদের বাড়ি শরীয়তপুরের ড্যামুড্ডা থানার সিদুলকুড়া গ্রামে, বাবার নাম মোহাম্মদ রাজীব। বর্তমানে ভাটারার কুড়িল মৃধাবাড়ী একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করি, আমরা দুই ভাই এক বোন, আরিফা সবার ছোট ছিল। আরিফা প্লেতে পড়াশোনা করত।
ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মওদুদ কামাল জানান, আমরা খবর পেয়ে বুধবার রাতে ভাটারার কুড়িল মৃধাবাড়ী দুই তলা বাসার নিচতলায় পানির টাঙ্কির ভেতর থেকে ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। জানতে পেরেছি ওই মেয়ের ভাবী খাদিজা আক্তার (১৯) তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পরে পানির ট্যাঙ্কিতে ফেলে রাখে। আমরা খাদিজাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছি। তবুও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
এ দিকে রাজধানীর মুগদা থানাধীন আনন্দনগর ব্রিজ এলাকার একটি বাসা থেকে মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম সাজিদ (২২) নামের এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে হায়দার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষ ছাত্র ছিল। বৃহস্পতিবার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
মুগদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আবু তারেক দিপু জানান, খবর পেয়ে আনন্দনগর ব্রিজ এলাকার একটি বাসা থেকে ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করি। পরিবারে কাছে থেকে জানতে পারি রাতের খাবার খেয়ে সবাই আমরা শুয়ে পড়লে কোনো এক সময় সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় গামছা প্যাঁঁচিয়ে ফাঁস দেয়। পরে আমরা দরজা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করি। কী কারণে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। নিহতের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের উত্তর মতলবে বাবার নাম আব্দুল জলিল।
অন্য দিকে রাজধানী বিমানবন্দর এলাকার ফ্লাইওভারের ঢালে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারের সাথে ধাক্কা লেগে মোহাম্মদ বেলাল দেওয়ান (৬৯) নামের এক বাসচালক নিহত হয়েছেন। বুধবার রাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে হেলপার মোহাম্মদ জুবায়দুল আকন্দ জানান, বেলাল দেওয়ান গাইবান্ধাগামী ওরিন এন্টারপ্রাইজের বাসচালক ছিলেন। সন্ধ্যার দিকে মহাখালী থেকে কয়েকজন যাত্রী নিয়ে গাইবান্ধার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। র্যা ব-১ অফিসের কাছে ফ্লাইওভারে হয়ে উত্তরে দিকে নামার সময় ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি ডিভাইডারে ধাক্কা লাগে। এতে বেলাল স্টেয়ারিংয়ে আটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢামেক নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ছাড়াও রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় বাসের ধাক্কায় আনোয়ার হোসেন (৪০) নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। বুধবার রাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ভাই ফজলুল হক জানান, আনোয়ার পেশায় একজন সৃজনশীল ব্যবসায়ী ছিলেন।
রাতে যাত্রাবাড়ী এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগামীর একটি বাস তাকে ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে উদ্ধার করে ঢামেকে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আমাদের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থানার আনদি-দিল পশ্চিমপাড়া গ্রামে, বাবার নাম লাল মিয়া।



