দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে বিদেশে পাচার হওয়া জনগণের আমানতের অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ঋণের নামে বিদেশে সরিয়ে নেয়া এই অর্থ মূলত সাধারণ আমানতকারীদের টাকা। তাই যেকোনো উপায়ে তা উদ্ধার করতে হবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আইনি লড়াইতেও যেতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, অনেক সময় বড় প্রভাবশালী গোষ্ঠী বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত চলার কারণে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোকে পিছিয়ে না গিয়ে সরাসরি গভর্নরকে অবহিত করতে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
স্টোলেন অ্যাসেট রিকোভারি টাস্কফোর্স : পাচার হওয়া অর্থ ফেরৎ আনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক একাধিক কমিটি গঠন করেছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান কমিটি হলো স্টোলেন অ্যাসেট রিকোভারি টাস্কফোর্স, যার চেয়ারম্যান করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে।
নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার গভর্নর মো: মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়।
“সিভিল অ্যাসেট রিকোভারি স্ট্যাটাস আপডেট” শীর্ষক ওই বৈঠকে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ও উপপ্রধান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং ঋণের অর্থ বিদেশে পাচারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ফোকাল পয়েন্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে গভর্নর ব্যাংকগুলোর প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। আমানতকারীদের অর্থ বিদেশে চলে যাওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব অর্থ উদ্ধার করে তা আমানতকারীদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য ব্যাংকগুলোকে সক্রিয় উদ্যোগ নিতে হবে।
রাজনৈতিক চাপ এলে সরাসরি গভর্নরের কাছে যাওয়ার নির্দেশ
বৈঠকে গভর্নর স্পষ্টভাবে জানান, পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। তিনি বলেন, অনেক সময় প্রভাবশালী গোষ্ঠী বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত চলার কারণে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোকে পিছিয়ে না গিয়ে সরাসরি গভর্নরের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
গভর্নর ব্যাংক প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করে বলেন, “যদি কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়, তা মোকাবিলার দায়িত্ব আমি নিজেই নেব। ব্যাংকগুলোকে শুধু সৎভাবে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে।”
তার এই বক্তব্যকে ব্যাংকিং খাতের অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন। কারণ অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব বা ক্ষমতাবান গোষ্ঠীর কারণে অনেক বড় ঋণ কেলেঙ্কারি বা অর্থ পাচারের অভিযোগের তদন্ত কার্যকরভাবে এগোয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
দুই পথে চলছে অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগ
বৈঠকে গভর্নরের উপদেষ্টা এবং অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্সের পরামর্শক ফারহানুল গনি চৌধুরী বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন।
তার উপস্থাপনায় জানানো হয়, বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার জন্য বর্তমানে দু’টি পৃথক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে-
প্রথমটি ক্রিমিনাল প্রসিডিংস। এই প্রক্রিয়া সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সরকারের সহযোগিতায় অপরাধ তদন্ত এবং সম্পদ জব্দের চেষ্টা চলছে।
দ্বিতীয়টি সিভিল প্রসিডিংস। এক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলো নিজেদের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক অ্যাসেট রিকভারি প্রতিষ্ঠান এবং লিটিগেশন ফান্ডারদের সহায়তায় বিদেশি আদালতে মামলা করছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদেশে থাকা সম্পদের অবস্থান শনাক্ত করা, আদালতের মাধ্যমে তা জব্দ করা এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রথম ধাপে ছয়টি বড় গ্রুপ নির্বাচন
বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দা তথ্য এবং সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের পরিমাণ বিবেচনায় নিয়ে অ্যাসেট রিকোভারি কার্যক্রমের প্রথম ধাপে ছয়টি বড় গ্রুপ বা কেস নির্বাচন করা হয়েছে। এসব গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তারা ব্যাংক ঋণের অর্থ বিদেশে সরিয়ে নিয়েছে এবং বিভিন্ন দেশে সম্পদ গড়ে তুলেছে।
পরামর্শকের উপস্থাপনায় বলা হয়, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করার জন্য ইতোমধ্যে ১০টি ব্যাংক ৯টি আন্তর্জাতিক অ্যাসেট রিকভারি প্রতিষ্ঠানের সাথে মোট ৩৬টি নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষর করেছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ শতাংশ এনডিএ স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে।
তবে সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এ প্রক্রিয়ায় তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, সরকারি ব্যাংকগুলো দ্রুত এনডিএ স্বাক্ষর সম্পন্ন করে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে।
আন্তর্জাতিক ফার্মের মাধ্যমে তদন্ত শুরু
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় কিছু ব্যাংক ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অ্যাসেট রিকোভারি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ শুরু করেছে।
এসব প্রতিষ্ঠানের কাজ হলো- বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের উৎস ও অবস্থান শনাক্ত করা; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদের তালিকা তৈরি করা; আদালতের মাধ্যমে সম্পদ জব্দের ব্যবস্থা করা। এ ছাড়া প্রয়োজন হলে বিদেশী আদালতে মামলা করে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আইনি প্রক্রিয়াও পরিচালনা করা হবে।
দ্বিতীয় ধাপে আসছে ১০০টির বেশি কেস
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, প্রথম ধাপের কাজ শেষ হওয়ার পর অ্যাসেট রিকভারি কার্যক্রম আরো বিস্তৃত করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপে ১০০টিরও বেশি কেস নিয়ে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এই কেসগুলোর বেশির ভাগই বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ এবং বিদেশে অর্থ পাচারের সাথে সম্পর্কিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আধুনিক তদন্ত পদ্ধতি ব্যবহার করা গেলে এসব অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উদ্ধার করা সম্ভব।
বিভিন্ন দেশে শনাক্ত পাচার হওয়া অর্থ
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশে পাচার হওয়া অর্থের অবস্থান আংশিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আরো কয়েকটি দেশ।
তদন্তে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে পাচার হওয়া অর্থ দিয়ে বিদেশে বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে অফশোর কোম্পানি বা ট্রাস্টের মাধ্যমে সম্পদের মালিকানা গোপন রাখা হয়েছে।
ভুয়া আমদানি বিল ও শেল কোম্পানির ব্যবহার
বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থ পাচারের জন্য বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পদ্ধতি হলো- ওভার ইনভয়েসিং : বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির সময় প্রকৃত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্য দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ বিদেশে পাঠানো। ভুয়া আমদানি বিল : বাস্তবে কোনো পণ্য আমদানি না করেও কাগজেকলমে আমদানির বিল দেখিয়ে অর্থ স্থানান্তর করা। শেল কোম্পানি : বিদেশে কাগুজে কোম্পানি খুলে সেখানে অর্থ স্থানান্তর করা। ভুয়া বিনিয়োগ : বিদেশে বিনিয়োগের নামে অর্থ পাঠিয়ে পরে তা ব্যক্তিগত সম্পদে রূপান্তর করা।
প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তদন্ত
জানা গেছে, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের ব্যাংকিং খাতে এক ধরনের লুটেরা শ্রেণী তৈরি হয়েছিল বলে বিভিন্ন তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠিত ব্যাংক- বিশেষ করে ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলো- চট্টগ্রামের বিতর্কিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলম মাসুদের (এস আলম) নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর জনগণের আমানতের অর্থ ঋণের নামে বিদেশে পাচারের অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বিভিন্ন মহলে অবহিত থাকলেও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে তখন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাংকিং খাত থেকে কী পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে তা অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে দেখা গেছে, ১০টি শিল্প গ্রুপ দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় চার লাখ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচার করেছে। এর মধ্যে এস আলম গ্রুপ একাই প্রায় সোয়া দুই লাখ কোটি টাকা পাচারের সাথে জড়িত বলে তথ্য উঠে এসেছে।
তদন্ত অনুযায়ী- ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণের নামে নেয়া হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা; ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের আমানতের প্রায় ৯০ শতাংশ একই গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়; ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা; সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে এস আলম গ্রুপ একাই সোয়া দুই লাখ কোটি টাকা বের করে নেয়। এর বাইরে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান বাবু, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সামিট গ্রুপসহ আরো কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়েছে।
তদন্ত সূত্র জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে বিদেশে সম্পদ এবং ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কারো বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযোগ ঘোষণা করেনি।
ব্যাংক বোর্ড ও এমডিদের বাড়তি দায়িত্ব
বৈঠকে গভর্নর ব্যাংকগুলোর বোর্ড অব ডিরেক্টরস এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের বিশেষভাবে সতর্ক করে বলেন, অ্যাসেট রিকভারি প্রক্রিয়ায় তাদের সক্রিয় নেতৃত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো যেহেতু এই আইনি প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় অংশ, তাই বোর্ড ও এমডিদের দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে- বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য সংগ্রহ; আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ; মামলা পরিচালনা- এসব বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার বার্তা
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ ও অর্থ পাচারের ঘটনায় দেশের ব্যাংকিং খাত বড় ধরনের আস্থার সঙ্কটে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা বিদেশে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে এবং শেষ পর্যন্ত এর চাপ পড়েছে সাধারণ আমানতকারীদের ওপর।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নতুন উদ্যোগকে তাই অনেকেই ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
ব্যাংকিং খাতে কঠোর বার্তা
সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি শক্ত বার্তা বহন করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করে দিয়েছে- ঋণের অর্থ বিদেশে পাচার করে পার পাওয়া যাবে না। যেকোনো উপায়ে সেই অর্থ উদ্ধার করা হবে এবং আমানতকারীদের কাছে তা ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে শুধু পাচার হওয়া অর্থ ফেরতই নয়, ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের ঘটনাও অনেকটাই কমে আসতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি আন্তর্জাতিক আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থের উল্লেখযোগ্য অংশ উদ্ধার করা যায়, তবে তা দেশের ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



