ভিআইপি বন্দীদের ঘিরে দেশের কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার

নিরাপত্তাজনিত কারণে কিছু বন্দী কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে এবং নারী ভিআইপি বন্দীরা কাশিমপুর মহিলা কারাগারে রয়েছেন। ভিআইপি বন্দীদের ক্ষেত্রে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। তবে সব সময়ই এসব বন্দীর ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়ে থাকে।

জিলানী মিলটন
Printed Edition

ভিআইপি ও ঝুঁকিপূর্ণ বন্দীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশজুড়ে কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঢাকার কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারসহ দেশের প্রায় ৬৮টি কারাগারে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি ও সতর্কতা।

কারা অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের কারাগারগুলোতে বর্তমানে ভিআইপি বন্দীর সংখ্যা ১৮২ জন। এ ছাড়া বর্তমানে ঢাকাসহ দেশের ৬৮টি কারাগারে বন্দী ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৩ হাজার হলেও সেখানে বন্দী রয়েছেন ৭৩ হাজার ১৯৬ জন। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বন্দী অবস্থান করছেন কারাগারগুলোতে।

কারা অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন মামলায় হাজিরা ও নিরাপত্তা বিবেচনায় ভিআইপি বন্দীদের কয়েকজন চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন কারাগারে রাখা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে কিছু বন্দী কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে এবং নারী ভিআইপি বন্দীরা কাশিমপুর মহিলা কারাগারে রয়েছেন। ভিআইপি বন্দীদের ক্ষেত্রে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। তবে সব সময়ই এসব বন্দীর ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়ে থাকে।

ভিআইপি ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বন্দীদের জন্য গত বছরের ২১ জুন ঢাকার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার-৬ এ বিশেষ কারাগারের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। বর্তমানে সেখানেই বেশির ভাগ ভিআইপি বন্দীদের রাখা হয়েছে।

কারা সূত্র জানায়, ডিভিশনপ্রাপ্ত মোট বন্দী ১৮২ জন। তাদের একটি বড় অংশ ধাপে ধাপে বিশেষ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। বিশেষ কারাগারে থাকা উল্লেখযোগ্য বন্দীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ একাধিক আলোচিত ব্যক্তি। তারা কারা আইন অনুযায়ী সব সুবিধা ভোগ করছেন।

ভিআইপি বন্দীদের মধ্যে রয়েছেন- পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাণিজ্য ও শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, সাবেক গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন, সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু, সাবেক উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব:) এ বি তাজুল ইসলাম, সাবেক হুইপ আ স ম ফিরোজ, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, সাবেক নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান, সাবেক দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ডা: এনামুর রহমান, সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামীম, সাবেক মন্ত্রী উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, সাবেক রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন, সাবেক বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান সরকার, সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুস শহীদ ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, সাবেক এমপি সাদেক খান, সাবেক এমপি ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন, সাবেক এমপি হাজী সেলিম, সাবেক এমপি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, কাজী জাফর উল্যাহ, সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, সাবেক এমপি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল জ্যাকব ও ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু।

কারা অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে কোনো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা হুমকি না থাকলেও পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের নির্দেশনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে- বন্দীদের চলাচলে সীমাবদ্ধতা, নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা বৃদ্ধি, দর্শনার্থী প্রবেশে কড়াকড়ি এবং কারা অভ্যন্তরে নজরদারি বৃদ্ধি।

কারা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে হামলার ঘটনার পর থেকেই দেশের সব কারাগারে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। যেসব কারাগারে ভিআইপি ও ঝুঁকিপূর্ণ বন্দী রয়েছেন, সেসব স্থানে বিশেষ কারাগারের মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ বন্দীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।