চুয়াডাঙ্গায় ‘কথিত’ মাজারে মাদকের আস্তানা, জমি দখলের অভিযোগ

Printed Edition

চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার শিবনগর এলাকায় পীর একদিল শাহর নামে কথিত একটি মাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে মাদক ব্যবসার আস্তানা, এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। প্রকৃত মাজারের প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে গড়ে তোলা এই মাজারকে ঘিরে জমি দখল ও মাদক বাণিজ্যের অপতৎপরতা চলছে বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের কয়েকজন ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীরা শিবনগর গ্রামের একটি আমবাগানে রাতের আঁধারে মাজার সদৃশ স্থাপনা নির্মাণ করেন। সেখানে একদিল শাহর দাফন না থাকলেও একটি পাকা কবর তৈরি করে মাজার হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এই স্থানকে কেন্দ্র করে মাদক সেবন, পাচার ও বেচাকেনা চলছে প্রকাশ্যেই। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মাদক ব্যবসা নির্বিঘœ রাখতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটিকে ব্যবহার করছে। বাধা দিতে গেলে ভয়ভীতি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

জানা গেছে, পীর একদিল শাহর প্রকৃত মাজারটি আলমডাঙ্গা উপজেলার দক্ষিণ গোবিন্দপুর ও বেতবাড়িয়া গ্রামের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত। প্রায় ৮০০ বছর আগে তার ইন্তেকালের পর সেখানে তাকে সমাহিত করা হয় বলে জনশ্রুতি রয়েছে। প্রতি বছর ২০ চৈত্র সেখানে ওরস অনুষ্ঠিত হয় এবং দেশ-বিদেশ থেকে ভক্তরা অংশ নেন।

অন্য দিকে, শিবনগরে গড়ে ওঠা কথিত মাজারের পাশের জমির মালিক বাহালুল হক অভিযোগ করেন, তার পৈতৃক ১৮ বিঘা আমবাগানের গাছ কেটে জবরদখলের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখানে আগে কখনো কোনো মাজার ছিল না। সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে আতঙ্ক সৃষ্টি করে রাতারাতি এই স্থাপনা গড়ে তোলে।’

তার দাবি, সীমান্তসংলগ্ন এলাকা হওয়ায় ভারত থেকে গাঁজা, ফেনসিডিল ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য আনা-নেয়া ও বিপণনের জন্য এই স্থানকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি মাজারের আশপাশে গাঁজা গাছ লাগানোরও অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নাটুদহ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য খলিলুর রহমান বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। কিছু বখাটে ও মাদকাসক্ত ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে এই মাজার দাঁড় করিয়েছে।’ তিনি অবিলম্বে কথিত মাজারটি উচ্ছেদের দাবি জানান। এদিকে প্রকৃত মাজারের খাদেম ইউনুস আলী জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আলমডাঙ্গার মূল মাজারে দায়িত্ব পালন করছেন এবং সেখানে নিয়মিত ওরসসহ ধর্মীয় কার্যক্রম চলে আসছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে অবৈধ মাজার উচ্ছেদ ও মাদক ব্যবসা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।