ধুলায় ধূসর রাজধানী। মারাত্মক ভোগান্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছে নগরবাসীকে। বিশেষ করে রোজাদার মানুষগুলো ধুলার কারণে দারুণ কষ্টের মধ্যে পড়েছেন। যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলা, খোড়াখুঁড়ি, রাস্তার ওপর নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা, বেপরোয়া যানবাহন চলাচল, রোড ডিভাইডার সংস্কারের মাটি রাস্তায় ফেলে রাখা-ইত্যাদি কারণে রাজধানী এখন ধূসর নগরীতে পরিণত হয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলেছেন, এভাবে পথ চলতে গিয়ে অনেকেই নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। একটি পোশাক একদিনের বেশি পড়া যায় না। অনেক সময় এমন হয় পোশাক পরে বাসা থেকে বের হয়ে গন্তব্যে পৌঁছার আগেই ধুলার আস্তর পড়ে যায়।
রাজধানীর মুগদা এলাকার বাসিন্দা মোশাররফ জানান, এই এলাকা রাস্তা সংস্কারের কাজ চলছে দীর্ঘদিন ধরে। রাস্তার পাশে পড়ে আছে ময়লা-আবর্জনা। স্বাভাবিক গতিতেও যখন একটি গাড়ি যায় রাস্তা দিয়ে, তখন গাড়ির চাকায় আটকে ধুলা উড়তে থাকে। নাক ঢেকেও তা থেকে নিস্তার পাওয়া যায় না। অনেক সময় মাথার চুল পর্যন্ত ধুলা পড়ে সাদা হয়ে যায়। গায়ের পোশাকে ধুলার আস্তর পড়ে যায়। এক জামা একদিনের বেশি গায়ে দেয়া সম্ভব হয় না। মাণ্ডার পুল পাড়ের দোকানি আব্দুস সাত্তার জানান, ধুলায় দোকানের পণ্যে আস্তর পড়ে যায়। অনেক ক্রেতা নোংরা ভেবে দোকানে ঢুকতে পর্যন্ত চান না। ধুলার কারণে ব্যবসায় ধস নেমেছে ওই দোকানির। তিনি বলেন, একটি পণ্য বিক্রি করতে হলে কয়েক দফায় ধুলো মুছে ক্রেতার হাতে দিতে হয়। ওই এলাকার এক পথচারী বলেন, শুকনো মৌসুম এলে এভাবে ধুলায় হাঁটা যায় না; আবার বর্ষা এলে কাঁদায় চলা যায় না।
রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় রোড ডিভাইডারে সংস্কারকাজ চলছে। নতুন গাছ রোপণের জন্য ডিভাইডারের ভেতরের মাটির স্তর ফেলে দেয়া হয়। যা এখন মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পথচারীরা বলেন, যারা কাজটি করছে তাদের উচিত ছিল রাস্তা থেকে সব মাটি সরিয়ে ফেলা। কিন্তু অধিকাংশ মাটি সরালেও কিছু অংশ পড়ে আছে রাস্তার ওপর। চলতি গাড়ির চাকার সাথে এই মাটি ধুলা হয়ে বাতাসে উড়ছে। যা পথচারীদের ভোগান্তির মধ্যে ফেলেছে। রাজধানীর কাকরাইল বিজয় নগরসহ আরো কয়েকটি এলাকায় এই একই অবস্থা।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী কাঁচা আড়ৎ ও মৎস্য আড়তের আশপাশের রাস্তায় ময়লার স্তূপ পড়ে থাকে। এই ময়লা শুকিয়ে একসময় ধুলা হয়ে যানবাহনের চাকা ও পথচারীদের পায়ের আঘাতে বাতাসে উড়ে বেড়ায়। যা পথচারীদেরকে চরম ভোগান্তির মধ্যে ফেলছে। স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম জানান, এই ময়লাগুলো নির্দিষ্ট স্থানে ফেললেই হয়। কিন্তু তা না করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ময়লা আবর্জনা রাস্তায় ফেলে মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে বাস-ট্রাকসহ যানবাহন মেরামতের ছোট ছোট কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানায় সৃষ্ট হওয়া ধুলো বাড়ি ও পুরোনো লোহার টিনের অংশ রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়, যা দিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে ধুলা। এসব ধুলা বাতাসের সাথে মিশে মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে। কোথাও কোথাও বাড়ির নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা হয়েছে রাস্তার ওপরে। এসবের মধ্যে বালু জাতীয় নির্মাণসামগ্রী বাতাসে ধুলার সৃষ্টি করছে। রাজধানীর অধিকাংশ এলাকার এই একই দশা। সবচেয়ে করুণ অবস্থা বাস টার্মিনালগুলো ও বাজার এলাকায়। কোথাও কোথাও সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী খোলা গাড়িগুলো থেকে রাস্তার ওপর ময়লা পড়ছে। এসব ময়লা শুকিয়ে গাড়ির চাকায় পিষে ধুলার সৃষ্টি হচ্ছে। যা মানুষের জন্য চরম হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলেছেন, স্বাভাবিক সময়ে এসব ধুলা সহ্য করে রাস্তায় চলতে পারলেও রোজার সময় আর সহ্য হচ্ছে না।



