প্রশাসনে চুক্তিভিত্তিক সচিব এবং সিনিয়র সচিব পদ মর্যাদায় নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন প্রায় এক ডজন কর্মকর্তা। গত সোমবার ৯ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তার চুক্তি বাতিল এবং তিন কর্মকর্তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার পর তাদের এই পদগুলোতে এসব কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হতে পারে। তবে নিয়মিত ব্যাচের কর্মকর্তাদের না দিয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়ার গুঞ্জনে নিয়মিত ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্যে অস্বস্তি বিরাজ করছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত সোমবার অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া ৯ জন সচিব/সিনিয়র সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তার চুক্তি বাতিল করে নবগঠিত বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার। সেই সাথে তিনজন কর্মকর্তাকে মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসনে সংযুক্ত করা হয়। এসব মন্ত্রণালয় এখন সচিব শূন্য। এসব শূন্য পদে আবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়ার চিন্তা করছে সরকার। শিগগিরই এসব পদে নিয়োগ দেয়া হতে পারে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চুক্তিভিত্তিক সচিব/সিনিয়র সচিব নিয়োগ দেয়া হতে পারে এমন প্রায় এক ডজন কর্মকর্তার নাম শোনা যাচ্ছে। এসব কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন, বিসিএস ৮৪ ব্যাচের আব্দুল খালেক, ৮৫ ব্যাচের কামরুজ্জামান, বাকী বিল্লাহ, মশিউর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম ৮৬ ব্যাচের জাকির হোসেন কামাল, মনজুর মোর্শেদ, ১১ ব্যাচের ফরিদুল ইসলাম, এহসানুল হক। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেও বঞ্চিত রয়েছেন সহকারী একান্ত সচিব ড. মো: সুরাতুজ্জামান।
জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সুযোগ মূলত রাখা হয়েছে ব্যতিক্রমী যোগ্যতা বা বিশেষ দক্ষতার মানুষদের প্রয়োজনে কাজে লাগানোর জন্য। কিন্তু যখন এটি নিয়মের বদলে প্রচলিত চর্চায় পরিণত হয় বা পক্ষপাতমূলকভাবে ব্যবহার হয়, তখন সেটি সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই নীতিগতভাবে যদি সার্ভিসের ভেতরেই যোগ্য লোক থাকে, তাহলে তাদের মধ্য থেকেই বাছাই করে দায়িত্ব দেয়া উচিত। এতে তারা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার সুযোগ পান, নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে পারেন এবং প্রতিষ্ঠানের জন্য বেশি অবদান রাখতে পারেন।
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের গুঞ্জনে অস্বস্তিতে রয়েছেন নিয়মিত ব্যাচের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই শীর্ষ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে প্রশাসনে অস্বস্তির সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে এমন নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তার অনেকের নেতৃত্বাধীন দপ্তরের কার্যক্রম বিতর্কের মুখে পড়ে। নিয়মিত কর্মকর্তাদের সাথে চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তাদের দূরত্ব থাকায় এসব দফতরে সমন্বয়হীনতা দেখা দেয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের একজন অতিরিক্ত সচিব নয়া দিগন্তকে বলেন, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে নিয়মিত কর্মকর্তাদের একটি গ্যাপ সৃষ্টি হয়। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রাপ্তরা দীর্ঘদিন সার্ভিসের বাইরে থাকায় প্রশাসনের পরিবর্তিত গতি-প্রকৃতি বুঝতে পারেন না। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আধুনিক টেকনোলজি ও ইলেক্ট্রনিক নথি সম্পর্কে জানেন না। ফলে তাদের নতুন করে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে হয়। এ ছাড়াও সিনিয়র অফিসারদের বয়সের কারণে নানাবিধ শারীরিক সমস্যা থাকে। ফলে প্রশাসন গতিশীল রাখা সম্ভব হয় না।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া বলেন, যখন শীর্ষ প্রশাসনিক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়, তখন পদোন্নতি প্রত্যাশী কর্মকর্তাদের হতাশ হওয়া স্বাভাবিক। এর ফলে প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হয়। কারণ পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা কর্মকর্তারা দায়িত্বের প্রতি মনোযোগ হারাতে পারেন।



