গ্যাসসঙ্কটে বন্ধ দেশের সব ক’টি সার কারখানা

বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কটে বন্ধ হয়ে গেল দেশের অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া সার কারখানা সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (এসএফসিএল)। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে এই উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এর মাধ্যমে দেশের সচল থাকা সর্বশেষ সরকারি সার কারখানাটিও উৎপাদনে বিরতি টানল; এর আগেই দেশের অন্য পাঁচটি সার কারখানা গ্যাসসঙ্কটে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

সিলেট ব্যুরো
Printed Edition

ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্টি হওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কটে বন্ধ হয়ে গেল দেশের অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া সার কারখানা সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (এসএফসিএল)। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে এই উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এর মাধ্যমে দেশের সচল থাকা সর্বশেষ সরকারি সার কারখানাটিও উৎপাদনে বিরতি টানল; এর আগেই দেশের অন্য পাঁচটি সার কারখানা গ্যাসসঙ্কটে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের গত ২৮ মার্চের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী তিন মাস (এপ্রিল-জুন) রেশনিংয়ের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ ও উৎপাদন অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা নেয়া হয়। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ৩ এপ্রিল থেকে শাহজালাল সার কারখানার উৎপাদন এক মাসের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। তবে মে ও জুন মাসে এই কারখানায় পুনরায় গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।

সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই কারখানাটি নানা সঙ্কটে প্রায়ই বন্ধ থাকে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, কারখানা বন্ধ থাকলে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। সেই হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তিন দফায় সাড়ে ১৩ মাস বন্ধ থাকায় প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার লোকসান হয়েছে।

কারখানার হিসাব বিভাগ জানায়, দীর্ঘস্থায়ী এই অচলাবস্থার কারণে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্ধেকে নেমে এসেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ লাখ ৮০ হাজার টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৯০ হাজার টন। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩ লাখ টন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা পূরণ হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

দেশের মোট সারের চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে স্থানীয় এই কারখানাগুলো। বর্তমানে ইরান যুদ্ধের কারণে যেমন আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সার আমদানি সীমিত হয়ে পড়েছে, তেমনি স্থানীয় উৎপাদনও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল। এর ফলে আগামী আমন মৌসুমে সারের জোগান ও দাম নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সারা দেশের কৃষকরা।

শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের জিএম (অ্যাডমিন) সাজ্জাদুর রহমান এবং শাহজালাল সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী আশরাফুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানান, সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের আলোকেই ৩ এপ্রিল দুপুর থেকে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাত মাস বন্ধ থাকার পর গত বছরের ৯ অক্টোবর কারখানাটি চালু হয়েছিল। এরপর চলতি বছরের ১৪ মার্চ ওভারহোলিং ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের কারণে পুনরায় বন্ধ হয়। মাঝে কয়েক দিন চালু থাকলেও বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কটে এখন আবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্প প্রতিষ্ঠানটি।