ইউক্রেনের বাজারে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় নিহত ৫

Printed Edition

রয়টার্স

ইউক্রেনের সম্মুখসারির শহর নিকোপোলের একটি জনাকীর্ণ বাজারে গতকাল শনিবার সকালে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, এ অতর্কিত হামলায় অন্তত পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরো ১৯ জন। ছুটির দিনের সকালে যখন সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন বাজার করতে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখনই এ প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়।

ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্যমতে, দনিপ্রো নদীর অপর তীরে রুশ অধিকৃত ভূখণ্ড থেকে এ ড্রোনগুলো উৎক্ষেপণ করা হয়। ড্রোনটি সরাসরি বাজারের একটি অংশে আঘাত হানলে মুহূর্তের মধ্যে এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিস্ফোরণে বাজারের বেশ কিছু দোকান ও অস্থায়ী স্থাপনা ভস্মীভূত হয়ে গেছে। ঘটনাস্থলেই চারজন প্রাণ হারান এবং হাসপাতালে নেয়ার পথে আরো একজনের মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় টেলিগ্রামে দেয়া এক বিবৃতিতে এ আক্রমণকে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এটি রাশিয়ান ফেডারেশন কর্তৃক সংঘটিত আরো একটি জঘন্য যুদ্ধাপরাধ। তারা জেনেশুনেই বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু এবং জনাকীর্ণ স্থানে এ হামলা চালিয়েছে।’

নিকোপোল শহরটি ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত ঝুঁঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। দনিপ্রো নদীর এক তীরে ইউক্রেনীয় নিয়ন্ত্রিত এ শহর, আর মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে নদীর অন্য তীরেই রয়েছে রুশ দখলকৃত অঞ্চল। এ স্বল্প দূরত্বের কারণে নিকোপোল শহরটি রাশিয়ার গোলন্দাজ বাহিনী এবং ড্রোন ইউনিটের নিয়মিত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে শহরটিতে প্রায় প্রতিদিনই বোমাবর্ষণ করা হচ্ছে, যার ফলে এখানকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে।

এ হামলার পর ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ আবারো রাশিয়ার বিরুদ্ধে বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের অভিযোগ তুলেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে জনাকীর্ণ বাজার বা আবাসিক এলাকাগুলোতে হামলা চালাচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়া যায় এবং সরকারকে চাপে ফেলা যায়।

অন্য দিকে, ক্রেমলিন বরাবরই বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে এলেও নিকোপোলের মতো শহরগুলোর বাস্তব চিত্র ভিন্ন কথা বলছে। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, রাশিয়ার এ অবিরাম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরো কঠোর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরবরাহ বাড়িয়ে এ ধরনের ড্রোন হামলা ঠেকানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

যুদ্ধের এ দীর্ঘস্থায়ী ভয়াবহতায় নিকোপোলের সাধারণ মানুষ এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। সকালের শান্ত বাজারটি রক্ত আর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার এ ঘটনা আবারো প্রমাণ করল যে, চলমান এ সঙ্কটে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে।