চালক সঙ্কটে ৪ মাস বন্ধ সরকারি অ্যাম্বুলেন্স

বেসরকারি ভাড়ায় নাজেহাল রোগীরা

Printed Edition

আরিফিন রিয়াদ গৌরনদী (বরিশাল)

অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক না থাকায় টানা চার মাস ধরে বন্ধ রয়েছে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা। ফলে জরুরি রোগী পরিবহন পুরোপুরি বেসরকারি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, এতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার ভরসা ৫০ শয্যার এ হাসপাতাল। কয়েক বছর আগে পাওয়া সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়মিত রোগী পরিবহনে ব্যবহৃত হলেও চালকের অভাবে বর্তমানে সেটি অচল হয়ে পড়ে আছে। গত বছরের ডিসেম্বরে চালক জব্বার হাওলাদার অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য ছুটিতে যান। পরে কর্মস্থলে ফিরে এলেও চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান। এরপর থেকেই অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ রয়েছে।

দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সটি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এ দিকে জরুরি রোগী পরিবহনে বিকল্প না থাকায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস বা প্রাইভেটকারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে রোগীদের। এতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে আগৈলঝাড়া থেকে বরিশাল যেতে খরচ হতো প্রায় ৯৫০ টাকা। বর্তমানে একই পথে বেসরকারি পরিবহনে দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি গুনতে হচ্ছে। এতে নিম্নœ ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম আর্থিক চাপে পড়ছে।

বাকাল ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ থাকায় রোগী নিয়ে বিপদে পড়েছি। বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে গাড়ি নিতে হয়েছে। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান গৈলা ইউনিয়নের রহিমা বেগম। তিনি বলেন, ‘আগে কম খরচে সেবা পাওয়া যেত, এখন কয়েক হাজার টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সেবা বন্ধ থাকার সুযোগে বেসরকারি পরিবহন চালকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন। এতে সাধারণ মানুষ আরো দুর্ভোগে পড়ছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: গোলাম মোর্শেদ সজিব জানান, নতুন চালক নিয়োগের জন্য জেলা সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে এখনো কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি।

দ্রুত চালক নিয়োগ দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। অন্যথায় জরুরি রোগী পরিবহনে সঙ্কট আরো তীব্র হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।