বেপরোয়া গতি, উল্টো পথে চলাচল ও অদক্ষতায় বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা

মার্চ মাসে দেশে ৬১৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬১৯ জন নিহত

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

সম্প্রতি রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। একই সাথে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় ছেলেকে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নামিয়ে মোটরসাইকেলে বাসায় ফিরছিলেন ব্যবসায়ী সাজেদুল ইসলাম (৪৫)। দক্ষিণ বনশ্রীর ডি-ব্লক এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) একটি ময়লার গাড়ি দ্রুতগতিতে এসে তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় গাড়ির চালক সেলিম বাবু (৫০) কে আটক করা হয়েছে এবং গাড়িটিও জব্দ করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে উল্টো পথে আসা বেপরোয়া গতির একটি ট্রাকের চাপায় অটোরিকশা চালক ফিরোজ আহমেদ (৫০) ও এক যাত্রী নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাকটি উল্টো পথে দ্রুতগতিতে এসে একটি অটোরিকশার ওপর উঠে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক দুইজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ট্রাকটি জব্দ ও চালককে আটক করেছে পুলিশ।

একই দিন বঙ্গভবন রোডে দ্রুতগতির একটি গাড়ির ধাক্কায় এক যুবক (২৫) গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়।

অন্য দিকে কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ থেকে নারায়ণগঞ্জগামী একটি ট্রেনে ওঠা আশরাদুল (১৩) গেন্ডারিয়া স্টেশনে চলন্ত ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে ঢাকা মেডিক্যালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ দিকে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মার্চ মাসে দেশে ৬১৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬১৯ জন নিহত এবং এক হাজার ৫৪৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২২২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩৭ জন নিহত ও ১৯৭ জন আহত হয়েছেন, যা মোট মোট দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ০৩ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে- ১৬০টি দুর্ঘটনায় ১৭০ জন নিহত ও ৩২০ জন আহত হয়েছেন। অন্য দিকে বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম, ৩০টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ১২২ জন আহত হয়েছেন।

মার্চ মাসে দুর্ঘটনায় জড়িত ৯৭৫টি যানবাহনের মধ্যে ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরি ছিল ২১ দশমিক ৬৪ শতাংশ; বাস ১৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ; ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক ১৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ; সিএনজিচালিত অটোরিকশা ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ; নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং কার-জিপ-মাইক্রোবাস ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

দুর্ঘটনার মধ্যে ৪০ দশমিক ৯০ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ দশমিক ০৩ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২২ দশমিক ০৭ শতাংশ ফিডার সড়কে সংঘটিত হয়েছে।

একই সময়ে রেলপথে ৪৫টি দুর্ঘটনায় ৫৪ জন নিহত ও ২২৯ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ৯টি দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত, ১৯ জন আহত এবং তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৬৭০টি দুর্ঘটনায় ৬৮২ জন নিহত এবং এক হাজার ৭৯৬ জন আহত হয়েছেন।