আনাদোলু
বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে নিজেদের নিরাপত্তা ও সুরা নিয়ে ইউরোপীয় নাগরিকদের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৮৯ শতাংশ নাগরিক বৈশ্বিক হুমকি মোকাবেলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আরো বেশি ঐক্য চায়। বুধবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সর্বশেষ ইউরোব্যারোমিটার জরিপে দেখা গেছে, পুরো ব্লকজুড়ে জনমতের ওপর নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। উদ্বেগের তালিকার শীর্ষে রয়েছে ইইউর কাছাকাছি সক্রিয় সঙ্ঘাত, যা নিয়ে চিন্তিত ৭২ শতাংশ মানুষ। এরপর রয়েছে সন্ত্রাসবাদ (৬৭ শতাংশ), ইইউ বহির্ভূত দেশ থেকে সাইবার হামলা (৬৬ শতাংশ), জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ (৬৬ শতাংশ) এবং অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন প্রবাহ (৬৫ শতাংশ)।
এমন প্রোপটে নাগরিকরা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আরো সিদ্ধান্তমূলক পদপে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৯ জন উত্তরদাতা (৮৯ শতাংশ) মনে করেন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আরো ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত। এ ছাড়া ৮৬ শতাংশ চান আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইইউর কণ্ঠস্বর আরো জোরালো হোক। পাশাপাশি ৭৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, বিশ্বব্যাপী হুমকি মোকাবেলায় ইইউর আরো বেশি সম্পদ প্রয়োজন।
জরিপে বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তার চিত্রও ফুটে উঠেছে। অর্ধেকেরও বেশি উত্তরদাতা (৫২ শতাংশ) বিশ্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ এবং ৩৯ শতাংশ ইইউর ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আশাবাদ এখনো প্রবল। ৭৬ শতাংশ মানুষ নিজেদের ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থাশীল।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রবার্টা মেটসোলা বলেন, ‘ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ইউরোপীয়দের দৈনন্দিন নিরাপত্তার অনুভূতিকে প্রভাবিত করে। নাগরিকরা প্রত্যাশা করেন যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সুরা দেবে, প্রস্তুত থাকবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। একটি শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী ইউরোপকে ঠিক- এটাই নিশ্চিত করতে হবে।’
নিরাপত্তার বাইরে অর্থনৈতিক চাপও ইউরোপীয়দের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। মুদ্রাস্ফীতি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারের শীর্ষে রয়েছে। ৪১ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের উচিত এসব বিষয় সমাধানে মনোযোগ দেয়া। অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি এর পরেই রয়েছে (৩৫ শতাংশ), যা ২০২৫ সালের মে মাসের তুলনায় ৫ শতাংশ বেড়েছে।
অধিকাংশ উত্তরদাতা আগামী পাঁচ বছর তাদের জীবনযাত্রার মান স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করলেও, ২৮ শতাংশ অবনতির আশঙ্কা করছেন। ফরাসি নাগরিকদের মধ্যে এই আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি (৪৫ শতাংশ)। এরপর রয়েছে বেলজিয়াম ও সেøাভাকিয়ার নাগরিকরা (উভয়ই ৪০ শতাংশ), যেখানে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা প্রবল।



