জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে জোরালো তৎপরতা শুরু করেছেন বিনোদন অঙ্গনের তারকারা। সংরক্ষিত এই আসনগুলোতে দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন বেবী নাজনীন, কনকচাঁপা, দিলরুবা খান, রিজিয়া পারভীন, দিঠি আনোয়ার এবং ফারহানা চৌধুরীসহ ছয়জন বিশিষ্ট শিল্পী। ইতোমধ্যে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিনোদন অঙ্গনের এই তারকাদের পাশাপাশি দলের নেত্রী ও সাবেক ছাত্রনেত্রীসহ সাত শতাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী আবেদন জমা দিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন জানিয়েছেন, সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন মোট ৫০টি। প্রতি ছয়জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি নারী আসন বণ্টিত হয়। সেই হিসাবে বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা মিলে একটি সংরক্ষিত আসন পাবে। জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে দুই হাজার টাকা এবং জমা দেয়ার সময় ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হচ্ছে।
তারকাদের মধ্যে বেবী নাজনীন (নীলফামারী-৪), কনকচাঁপা (সিরাজগঞ্জ-১), দিলরুবা খান (জয়পুরহাট-২), রিজিয়া পারভীন (কিশোরগঞ্জ), দিঠি আনোয়ার (সিলেট ও কুমিল্লা) এবং নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরী (ময়মনসিংহ-১১) আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। তারকাদের এই অংশগ্রহণ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তার নিরিখেই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা নির্ধারণ করবেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। মনোনয়ন নিশ্চিত করতে প্রার্থীরা নিজেদের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শীর্ষ নেতাদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।
মনোনয়ন প্রসঙ্গে নিজ নিজ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন এই তারকারা। বেবী নাজনীন বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেভাবে তরুণ প্রজন্মকে নতুন বিশ্বের কাছে তুলে ধরে দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছেন, সেখানে তিনি একা কষ্ট করলে হবে না। তার সাথে থেকে আদর্শিকভাবে কষ্ট করাই আমার চাওয়া। সঙ্গীতশিল্পী কনকচাঁপা বলেন, বিএনপিতে যোগদানের পর আমি একরকম অবরুদ্ধ ছিলাম, দেশের মাটিতে দীর্ঘদিন গান করতে পারিনি। শিল্পীর কণ্ঠরোধ করা হলে সেটা একপ্রকার বন্দিত্বই। আমি সারা জীবন সমাজের অসহায় বৃদ্ধদের জন্য কাজ করেছি, এখন সেই কাজগুলো আরো বড় পরিসরে করতে চাই।
রিজিয়া পারভীন জানান, সংস্কৃতি অঙ্গনকে এগিয়ে নিতে তিনি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও শিল্পীদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করতে চান। ভিন্ন মতাদর্শের কারণে কোনো শিল্পী যেন শিল্পচর্চা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকেও তার বিশেষ নজর থাকবে।
দিলরুবা খান বলেন, দলত্যাগী ও যোগ্যদেরই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করবে বলে আমার বিশ্বাস। আমার নিজস্ব কিছু চিন্তাভাবনা রয়েছে, যা সরকারে থেকে বড় পরিসরে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। বাকিটা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিবেচনা। জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরী জানান, পারিবারিকভাবেই তিনি রাজনীতির সাথে যুক্ত। তার বাবা ময়মনসিংহের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বর্ষীয়ান রাজনীতিক আমান উল্লাহ চৌধুরী। পরিবারের রাজনৈতিক আদর্শ ও জনসম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতায় মানুষের সেবা করার প্রত্যয় থেকেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী।



