কাবরেরার সময়ে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স
৩৯ ম্যাচ : জয় ৯টি, ড্র ১০ ম্যাচ, হার ১৯ ম্যাচে
র্যাংকিং : ১৯২ থেকে ১৮০ এ উন্নীত হওয়া।
ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিষয়টি আগে থেকেই অনুমেয় ছিল। বাফুফের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কথা বার্তাতেই ইঙ্গিত ছিল জাতীয় দলের হেড কোচের পদে আর থাকছেন না হাভিয়ার কাবরেরা। গতকাল বাফুফের ন্যাশনাল টিমস কমিটির সভায় সে সিদ্ধান্তই এলো। তারা অবশ্য বহিষ্কারের সরাসরি কোনো কথা বলেনি বাফুফে। তবে এ স্প্যানিশ কোচ যে আর বাংলাদেশ দলের কোচ হিসেবে থাকছে না তা স্পষ্ট। চলতি এপ্রিল মাস পর্যন্ত বাফুফের সাথে চুক্তি কাবরেরার। বাফুফে তাকে এ মাসেরও বেতন দেবে। এরপর আর নয়। তার সাথে চুক্তি নবায়ন হচ্ছে না। বরং বিকল্প হিসেবে নতুন কোচ নেবে। এ জন্য এখন থেকেই নতুন কোচের সন্ধানে নেমেছে ফেডারেশন। যার অর্থ কাবরেরাকে আর রাখা হচ্ছে না। গতকাল কমিটির সভা শেষে এ তথ্য জানান বাফুফের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বাবু। জুনে ফিফা উইন্ডো। এ উইন্ডোতে ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। তাই এর আগেই জাতীয় দলের জন্য নতুন কোচ নেয়া হবে। সে সাথে এখন থেকে অনূর্ধ্ব-২৩ জাতীয় দলকেও প্রস্তুতিতে রাখা হবে। নতুন জাতীয় দলের কোচের সাথে দুই বছরের চুক্তি করবে বাফুফে। নতুন নেয়া গোলরক্ষক কোচের সাথেও হবে দুই বছরের চুক্তি। উল্লেখ্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার মতো এতো লম্বা সময় কোনো কোচ বাংলাদেশের দায়িত্বে ছিলেন না।
বাফুফের ন্যাশনাল টিমস কমিটি এখন শুধু বায়োডাটা দেখেই কোনো কোচকে নিয়োগ দেবে না। তার সাক্ষাৎকার নেবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। ভালো কোচ পাওয়ার জন্য বাফুফে সব মাধ্যমেই চেষ্টা করবে। আমিরুল ইসলাম বাবু জানান, যে কোনো কোচই বাফুফেতে আবেদন করতে পারবেন। এমনকি কোচ কাবরেরাও। সে সাথে বাফুফে ভালো কোচের জন্য ঢাকাস্থ বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সাথেও যোগাযোগ করবে।
২০২২ সালে বাংলাদেশ দলের হেড কোচের দায়িত্ব নেন কাবরেরা। লাল-সবুজদের দায়িত্ব নেয়ার আগে কোনো জাতীয় দলের হেড কোচ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল না তার। ঠিক তার আগের কোচ জেমি ডে’র মতো। কাবরেরার সময়ে বাংলাদেশ দলের কোনো সাফল্য নেই। না পেরেছেন সাফে বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন করাতে না এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করাতে। ২০২৩ সালে সাফে বাংলাদেশকে তিনি সেমিফাইনালে তুলেছিলেন। এই যা। অথচ বাংলাদেশ ২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়ন। এ আসরে বাংলাদেশের সর্বশেষ ফাইনালে খেলেছিল ২০০৫ সালে। ২০২৩ এর আগে লাল-সবুজদের সেমিতে খেলা ২০০৯ সালে। তাই কাবরেরার সময়ে জামাল ভূঁঁইয়া-তপু বর্মনদের সাফের সেমিতে খেলাটা বড় কোনো অর্জন নয়। তার কাছে দেশবাসী তথা ফুটবল ফেডারেশনের সব চেয়ে বেশি প্রত্যাশা ছিল এবারের এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব ঘিরে। সবার আশা ছিল জাতীয় দল এবার বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়ে চূড়ান্ত পর্বে উঠবে। যেখানে দলে ছিলেন ইংল্যান্ড প্রবাসী হামজা চৌধুরী, কানাডা প্রবাসী শমিত শোম, ইতালি প্রবাসী ফাহামিদুল ইসলাম এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জায়ান আহমেদ। অথচ বাংলাদেশ হোমে সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ের কাছে হেরে ছিটকে যায়। এরপর হংকংয়ের সাথে ড্র আর ভারতের সাথে জয়ের পর শেষটা সিঙ্গাপুরের কাছে হারে।
কাবরেরার অধীনে বাংলাদেশ দল সর্বশেষ দুই ম্যাচেই হেরেছে। ভিয়েতনামের বিপক্ষে ফিফা প্রীতি ম্যাচে ০-৩ গোলে হারের পর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে ০-১ গোলে হার। হামজা চৌধুরী- জামাল ভূঁইয়ারা যদি সিঙ্গাপুুরের বিপক্ষে জিততে পারতো তাহলে হয়তো কাবরেরার বাংলাদেশে থেকে যাওয়ার প্রবল আগ্রহের দাবিটা আরো পোক্ত হতো। তবে সেই ম্যাচে হারই সব আশা শেষ করে দেয়।
২০২২ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর কাবরেররা অধীনে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৩৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলছে। এ ৩৯ ম্যাচের মধ্যে জামাল ভূঁঁইয়াদের জয় মাত্র ১০টিতে। হার এর দ্বিগুণ অর্থাৎ ১৯ খেলায়। আর ড্র ১০। এ জয়গুলো এসেছে ভারত, মালদ্বীপ, কম্বোডিয়া, ভুটান, সেশেলস-এর বিপক্ষে। তার সময়ে বাংলাদেশের র্যাঙ্কিংয়ে যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। ২০২৩ সালে যখন তিনি দায়িত্ব নেন তখন লাল-সবুজদের র্যাঙ্কিং ছিল ১৯২। সেখান থেকে গত বছর ১৯ নভেম্বর বাংলাদেশের র্যাঙ্কিং ১৮০তে উন্নীত হয়। এ বছর পুরো মার্চ মাস পর্যন্ত এ অবস্থানে থাকার পর ১ এপ্রিল প্রকাশিত র্যাঙ্কিংয়ে ১৮১তে নেমে যায়।
বাফুফের এক শীর্ষ কর্মকর্তা কয়েকদিন আগে বলেছিলেন, কাবরেরার সময়ে বাংলাদেশ দলের খেলায় পরিবর্তন এসেছে। দল এখন বেশি আক্রমণাত্মক খেলছে। তবে দিন শেষে তিনি ব্যর্থ। কোনো সাফল্য নেই। ন্যাশনাল টিমস কমিটির গতকালের সভায় সে ব্যর্থতাই গুরুত্ব পেয়েছে।
তার বাংলাদেশ পর্ব শুরু হয়েছিল প্রীতি ম্যাচে মালদ্বীপের কাছে হার দিয়ে। আর শেষটা এশিয়ান বাছাইয়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দ্বিতীয় দফা পরাজয় দিয়ে। কাবরেরার সময়ে গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেরন বারোটা বাজানো হয়েছে। স্ট্রাইকার নাবিব নেওয়াজ জীবনের ক্যারিয়ারই শেষ করে দেয়া হয়েছে। জাতীয় দলে নম্বর ৯ হিসেবে কাউকে রাখা হতো না। এতে করে মাহাবুবুর রহমান সুফিল, সাজ্জাদ হোসেন, মতিন মিয়াদের জাতীয় দলে খেলার রাস্তাটা নষ্ট হয়ে যায়। সমুন রেজাকে মাঝেমধ্যে ডাকা হয়েছে। তবে খেলানো হতো হঠাৎ হঠাৎ কয়েক মিনিটের জন্য।



