গণমাধ্যমকে ইসি সচিব

দু’টি ব্যালটের কারণে ভোট গণনায় সময় বেশি লাগবে

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, এবার ভোটাররা দুটো ব্যালটে ভোট দিবেন। কাজেই স্বাভাবিক সময়ের থেকে একটু বেশি সময় লাগার কথা। দ্বিতীয়ত, হচ্ছে এবার প্রার্থীর সংখ্যাও বেশি। তাই ভোটারদের ভোট দিতে এবং গণনা করতে বেশি সময় লাগবে। মোবাইল ব্যাংকিং কমপ্লিট শাটডাউন বা বন্ধ করা বোধ হয় সম্ভব হবে না। তবে আমরা হয়তো লেনদেনের লিমিটটা সীমিত করে দিতে পারি।

তিনি বলেন, এবার নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে বিদেশ থেকে পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক মিলে পাঁচ শ’ জন আসবেন। গত রাত পর্যন্ত প্রার্থী সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ৯৮১ জনে উন্নীত হয়েছে। আদালতের আদেশ হলে আরো বাড়তে পারে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে গতকাল মোবাইল অপারেটর, ব্যাংক এবং বিএনসিসির সাথে আলাদা আলাদা বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।

৫ শ’ বিদেশী পর্যবেক্ষক : ইসিসচিব বলেন, আমরা ৮৩টা বিভিন্ন বিদেশী পর্যবেক্ষক সংস্থাকে আমন্ত্রণ করেছি। তাদের মধ্যে ৩৬টি পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে আমাদেরকে নিশ্চিত করেছে। আর পাঁচটা সংস্থা থেকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আমাদের দুটো পদ্ধতি ছিল। একটা আমরা নিজেরাই সরাসরি আমন্ত্রণ জানিয়েছে, আরেকটা উন্মুুক্ত আমন্ত্রণ ছিল। সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে এ পর্যন্ত ৫০ জন সাংবাদিক আমাদের কাছে আসার আগ্রহ জানিয়েছেন। আর ৭৮ জন বিদেশী পর্যবেক্ষকও আসতে চান, যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। হয়তো দেখা যাবে আরো আধঘণ্টা বা একঘণ্টা পর সেই সংখ্যা বেড়েছে।

তিনি বলেন, তাদের ভিসা পাওয়ার বিষয়ে আমরা কথা বলেছি। অন অ্যারাইভাল ভিসা নিয়ে আসতে বলেছি। পয়েন্ট অব ডিপার্চার থেকে নিয়ে আসতে বলেছি। আর যদি কেউ না পারেন সেক্ষেত্রে অনঅ্যারাইভাল ভিসার ব্যবস্থা আছে এয়ারপোর্টে। আমাদের পক্ষ থেকে তাদের জন্য একটা সহযোগিতা থাকবে, পাশাপাশি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আমাদের যে অভ্যাগতরা আছেন, যাদেরকে আমরা আমন্ত্রণ জানাচ্ছি তারা মূলত ওখানেই থাকবেন। এই মুহূর্তে ইইউর ৫৬ জন প্রতিনিধি ঢাকায় অবস্থান করছেন। এই সংখ্যাটা ২৭৫ অতিক্রমের সম্ভাবনা আছে। প্রকারান্তরে তিন শ’র কাছাকাছি যাবে বলে আমাদেরকে ধারণা দেয়া হয়েছে। আর কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট থেকে আমরা দু’জনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা ১০ জন আসবেন। তুরস্কেরও দু’জনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা সম্ভবত ৯ জন আসবেন।

মোবাইল ব্যাংকিং : সচিব বলেন, মোবাইল ফাইন্যান্সিং সিস্টেম নিয়ে আজকে (বৃহস্পতিবার) আমরা কিছু রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। তবে কমপ্লিট শাটডাউন একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য- দু’দিন বা একদিনের জন্য পুরোপুরি বোধ হয় হবে না, থাকবে না। অতীতে বোধ হয় এরকম ছিল। কিন্তু সেটা আমরা করব না। মোবাইল ফাইন্যান্সিং এবং এর সাথে সাথে আই-ব্যাংকিংয়ের বিষয়টাও আলোচনা করা হয়েছে। এটা এখন পর্যন্ত কাঠামোটা ঠিক করা হয়নি। তবে নীতিগতভাবে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে হয়তো লিমিট করা হবে, গ্যাপ করা হবে।

৩ হাজার ভোটারের জন্য এক কেন্দ্র : ইসিসচিব বলেন, এবার ভোট গণনার ক্ষেত্রে একটু সময় বেশি লাগবে। কেন্দ্রভিত্তিক কেন্দ্রে এবং আর রিটার্নিং অফিসারের ওখানে পোস্টাল ব্যালটের কারণে। যেমন- প্রতি তিন হাজার ভোটারের জন্য একটা কেন্দ্র থাকবে। কেন্দ্র থেকে রিটার্নিং অফিসারের কাছে যেখানে পোস্টাল ব্যালট আসবে, সেখানে আরো বেশি সময় লাগবে।

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ফেনী-৩ আসনে পোস্টাল ব্যালটের জন্য ১৬ হাজার ৩৮ জন নিবন্ধন করেছেন। চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ১৪ হাজার ২৭৪ নিবন্ধিত। কুমিল্লাতে ১৩ হাজার ৯৩৯ পোস্টাল ভোটার। তার মানে পাঁচটা বা ছয়টা আসনের ভোটার একটা জায়গায়, একটা কেন্দ্রে।

তিনি বলেন, আমরা এবার দুটো রকমের ব্যালট ব্যবহার করছি। প্রবাসীদের জন্য এক ধরনের ব্যালট, আর দেশের অভ্যন্তরে যারা আছেন তাদের জন্য আরেক ধরনের ব্যালট। গণভোট সব মিলিয়ে একটু সময় বেশি লাগবে। নির্বাচন কর্মকর্তারা একসাথে গুনবেন এবং একই সাথে রেজাল্ট দেবেন। সেই কারণেই সময়টা একটু বেশি লাগবে।

থাকছে ১৬ হাজার বিএনসিসি সদস্য : সচিব জানান, বিএনসিসির ১৬ হাজারের বেশি সদস্য স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করবেন। তবে তাদের ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান কে কোথায় কিভাবে থাকবেন এবং তাদের কমান্ড স্ট্রাকচারটা কার অধীনে কিভাবে কাজ করবে- তা আমরা আগামী রোববারে আলোচনা করব। তবে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে বিএনসিসি আমাদেরকে সহায়তা দিবে।

সর্বাধিক প্রার্থী ঢাকা-১২ আসনে : সচিব জানান, ঢাকা-১২ আসনে এবার সবচেয়ে বেশি প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১৫ জন। আর সবচাইতে কম প্রার্থী হচ্ছে পিরোজপুর-১ আসনে, দু’জন মাত্র। সব মিলিয়ে তিন শ’ আসনে মোট এক হাজার ৯৮১জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৪৯ জন। আর নারী অথবা মহিলা প্রার্থী ৭৬ জন। রাজনৈতিক দল হিসেবে সবচাইতে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি ২৮৮ জন। আর নিবন্ধিত দলগুলোর মধ্যে ৯টি কোনো প্রার্থী দেয়নি।

এনআইডি কার্ড হস্তান্তর নিষিদ্ধ : সচিব বলেন, মূলত এই অভিযোগ করার কথা ইলেকটোরাল ইনকয়ারি কমিটির কাছে। যেহেতু এনআইডির বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং এটা আচরণবিধি ভঙ্গ সেজন্য আমরা সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছি। আপনি দিবেন না এবং আপনি চাইবেন না। তবে এটা অনাকাক্সিক্ষত যেন না হয় সেজন্যই এই সেন্সিটাইজেশনটার খুব জরুরি ছিল। আমরা মিডিয়াতে দেখেছি এনআইডি কার্ড নিয়ে মিরপুরের একটা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে।

দ্বৈত নাগরিত্ব নিয়ে টিআইবি : আখতার আহমেদ বলেন, ইসির অবস্থানটা হচ্ছে- দ্বৈত নাগরিকত্ব যারা ত্যাগ করেছেন সে সম্পর্কে মোটামুটিভাবে নিশ্চিত না হয়ে দেয়া হয়নি। কারণ আমিও ছিলাম আলোচনাগুলোয়। এখন দ্বৈত নাগরিকত্ব যারা পরিত্যাগ করেছে, সেক্ষেত্রে দেশভেদে সময়ের একটা ব্যাপার আছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়তো তাৎক্ষণিক হতে পারে, কোনো কোনো সময় দীর্ঘ হতে পারে। এখন দীর্ঘসূত্রতা হলে ততদিন অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থায় কি তিনি সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন? এই জিনিসটা দিস ইজ এ ম্যাটার অব ইন্টারপ্রেটেশন। তাই কমিশন মনে করেছেন যে এরকম ক্ষেত্রে যদি সন্তুষ্ট হতে পারে যে হ্যাঁ উনি নিজের দিক থেকে যেটুকু করা সম্ভব সেটুকু করেছেন, বাকিটুকু সময়ের ব্যাপার।

তিনি বলেন, এখন যদি এর বাইরেও কেউ কন্সিল করে থেকে থাকেন, আছে কিন্তু বলেননি। সে জিনিসটা কমিশনের নজরে এলে অবশ্যই দেখবেন এবং এবার আরপিও তো একটা নতুন ধারা সংযোজন করা হয়েছে। কমিশন যে কোনো সময় যে কারো ক্ষেত্রে কোনো মাধ্যম থেকে এ ধরনের কোনো তথ্য পেলে শুধু দ্বৈত নাগরিকত্ব না অন্য কোনো তথ্য পেলে, অযোগ্যতার তথ্য পেলে সেটা পরীক্ষা করে দেখবে। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে।