বগুড়া অফিস
আসন্ন বগুড়া-৬ (সদর ) আসনের উপ-নির্বাচন সুষ্ঠু করার স্বার্থে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা আবিদুর রহমান সোহেল। সেই সাথে দলীয় কর্মীদের বাদ দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের ভোট কেন্দ্রের দায়িত্ব প্রদানের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের বাধা প্রদানের অভিযোগ করে অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান বলেন, বিএনপি বগুড়ায় আরেকটি মাগুরা মার্কা নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছে। প্রশাসন বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না। প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ না করলে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আমরা যদি অন্যায়ের প্রতিবাদ করি তা হলে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হতে পারে। তাই আমরা নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত চুপ থাকবো। তার পরেও যদি ভোট ডাকাতির চেষ্টা করা হয় তা হলে জনগণকে সাথে নিয়ে উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে। আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য উপ-নির্বাচনের প্রচারণায় ক্রমাগত আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং প্রশাসনের নীরব ভূমিকার বিরুদ্ধে গতকাল বগুড়া শহর জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করা হয়।
লিখিত বত্তব্যে আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, ‘আমি উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর বিগত ১২ মার্চ সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরেছিলাম। কিন্তু নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততোই বিরোধী পক্ষ ধানের শীষের কর্মীরা নির্বাচনী পরিবেশ অশান্ত করে তুলছে। তিনি এ সময় বলেন, সদরের শাখারিয়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতৃবৃন্দ আমার মহিলা কর্মী মাজেদা বেগমের বাড়িতে দুইবার গিয়ে হাত পা ভেঙে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। ফাঁপোড় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা কামাল হোসেন ফকির , ১৪ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মিজানুর করিম মাসুদ জামায়াত কর্মীদেরকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালাতে নিষেধ করছে এবং খুন-জখমের হুমকি দিচ্ছে, ২০ নং ওয়ার্ডে আমার উঠান বৈঠক করার সংবাদ পেয়ে স্থানীয় যুবদল নেতা হাতকাটা শম্বুর নেতৃত্বে সমাবেশ পণ্ড করতে হুমকি ধামকি প্রদানের পর সমাবেশের পাশেই মাইক বাজিয়ে সমাবেশ পণ্ড করে। এরুলিয়া এলাকায় আমার মহিলা কর্মী নাজনিন আক্তারকে বিএনপি দলীয় সন্ত্রাসী পোটল তার মহিলা সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা মারধর করে, ফাঁপোড় এলাকায় আমার কর্মী নেছার উদ্দিনকে বিএনপি দলীয় সন্ত্রাসীরা হত্যার হুমকি দিচ্ছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় আমার ব্যানার, ফেস্টুন খুলে ফেলে ধানের শীষ মার্কার ব্যানার টাঙিয়েছে। বিএনপি দলীয় প্রার্থী ও তার দলীয় নেতাকর্মী কর্তৃক প্রতিনিয়ত নানা ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করে আসছে। তার বিরুদ্ধে আমি এ পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসার এবং অনুসন্ধান ও বিচারিক জজের নিকট ১৫টি অভিযোগ দাখিল করেছি। প্রত্যেক অভিযোগের সাথে সচিত্র ভিডিও আছে। কিন্তু প্রশাসন এখন পর্যন্ত একটি অভিযোগের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এভাবে যদি চলতে থাকে তা হলে আমার পূর্বের আশঙ্কার প্রতিফলন হতে যাচ্ছে তা হলো আবার বগুড়ায় মাগুরা মার্কা নির্বাচন করা। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমি শুনতে পাচ্ছি যে, বিএনপি দলীয় প্রার্থী গোটা বগুড়া জেলা থেকে সন্ত্রাসীদের এনে ভোটের দিন কেন্দ্র দখলে নিয়ে ভোট ডাকাতি করবে।
এমতাবস্থায় বগুড়া সদরের নির্বাচন সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে আমার দাবি হচ্ছে, আচরণবিধি লঙ্ঘনে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার নির্বাচনের দিন প্রত্যেক ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো, দলীয় প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ বাতিল এবং নির্বাচনের আগে থেকে সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং ভোটের দিন সেনাবাহিনীসহ অধিক সংখ্যক আইনশৃঙ্খলাবাহিনী নিয়োগ করা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত প্রার্থী বলেন, উপ-নির্বাচনে তারা জিততে পারবে না এটা টের পেয়ে প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভোট ডাকাতির ষড়যন্ত্র করছে। তারা মাগুরা স্টাইলে বগুড়ার উপ-নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করতে চায়। প্রশাসনকে বারবার বলার পরেও যেহেতু কোনো প্রতিকার হচ্ছে না, সেহেতু ভোট ডাকাতির চেষ্টা হলে শক্ত হাতে তা প্রতিহত করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি আরো বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার আগে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে এখন আনেক অধ্যাদেশ বাতিল করতে চায়। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে আবিদুর রহমান বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক আ.স.ম আব্দুল মালেক, সদস্য সচিব মাওলানা আব্দুল হাকিম সরকার, জামায়াত নেতা রফিকুল আলম, আল-আমিন, আব্দুল হালিম বেগ, আব্দুস ছালাম তুহিন, আজগর আলী, ইকবাল হোসেন, শাহীন মিয়া, নুরুল ইসলাম আকন্দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



