তোমরা নিশ্চয়ই গোলআলু, মিষ্টিআলু, গাছআলু প্রভৃতি আলুর নাম শুনেছ; ‘এলুয়েট আলু’র নাম হয়তো তোমাদের অনেকের কাছেই অজানা। বাংলাদেশে এটি ‘লাল আলু-এলুয়েট’ বা বিদেশি জাতের আলু হিসেবেও পরিচিত। মূলত উচ্চ ফলনশীল এ আলু ভাজা, সেদ্ধ, ভর্তা করে ও তরকারি রান্না করে খাওয়া যায়। খোসাসহ খেলে তা বেশি স্বাস্থ্যসম্মত হয়। বিভিন্ন দেশে খোসাসহ এ আলু দিয়ে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস প্রভৃতি মজাদার খাবার তৈরি হচ্ছে।
এলুয়েট আলু বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়। এ আলু খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি চাষপদ্ধতিও সহজ আর সাশ্রয়ী; নানা সুবিধা থাকায় আমাদের দেশে এর ব্যাপক চাষ হচ্ছে। দিনাজপুর, বগুড়া, রাজশাহী নওগাঁ, জয়পুরহাট এটি চাষের সুবিধাজনক স্থান। মুন্সীগঞ্জের আলুকান্দায়ও এর ব্যাপক চাষ হচ্ছ। নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, রাশিয়া, ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এবং ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ এ আলুর ব্যাপক আবাদ হচ্ছে। এলুয়েট জাতটি নেদারল্যান্ডস থেকে ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী।
এর গাছ অন্যান্য আলু গাছের তুলনা যথেষ্ঠ শক্তিশালী ও ঘন সবুজ হয়ে থাকে। গাছের পাতা গাঢ় সবুজ ও কিছুটা মোটা, শক্ত ও বড়। এ কারণে ঝড়-বৃষ্টি গাছের তেমন ক্ষতি করতে পারে না। এ আলু গাছে ফুল হয়; ফুল প্রথমে সাদা ও পরে হালকা বেগুনি রঙ ধারণ করে। ফুল দেখতে কিছুটা টমেটো ফুলের মতো। এর ফুল আসে গাছ রোপণের প্রায় ৬০ দিন পর মাটির নিচে কন্দ তৈরি হলে; ফুল ধরে থোকায় থোকায়। অনেক সময় গাছের শক্তি স্বাভাবিক রাখতে ফুল আসার পর কিছু দুর্বল ফুল ছেটে ফেলা হয়।
এলুয়েট আলুর ইংরেজি নাম এলুয়েট পটেটো (অষড়ঁবঃঃব ঢ়ড়ঃধঃড়)। রেড পটেটোও (জবফ ঢ়ড়ঃধঃড়) বলা হয়।
এটা মড়ক রোগ প্রতিরোধী উন্নতজাতের আলু। এতে ছত্রাক নাশকেরও প্রয়োজন হয় না। তার মানে, এর যথেষ্ট বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও রয়েছে। এ আলু সংরক্ষণ করা যায় ৫-৬ মাস। চাষের সময় সেপ্টেম্বরে-জানুয়ারি। দোআঁশ ও বেলে-দোআঁশ মাটি এর চাষের জন্য উপযোগী। আলু দেখতে উজ্জ্বল লাল এবং লম্বাটে। ডিম্বাকৃতিরও হয়। খোসা মসৃণ ও টকটকে লাল, ভেতরের দিকটা হালকা হলুদ, যা দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। এ আলু শুধু মজাদারই নয়, পুষ্টিসমৃদ্ধও। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, বিটা-ক্যারোটিন ইত্যাদি। এ আলু সংগ্রহ করা যায় জমি চাষের প্রায় ৮০ দিনের মধ্যে।
এ আলুর দাম সাধারণ গোল আলুর দামের মতোই।



