ঈদের পরও সবজি ও মুরগির দাম চড়া

ঈদ-পরবর্তী সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে দেখা যাচ্ছে মিশ্র প্রবণতা। কোথাও দাম কমেছে, কোথাও স্থির রয়েছে, আবার কিছু পণ্যে বেড়েছে দাম। বিশেষ করে মুরগির বাজারে অস্থিরতা থাকলেও গরু ও খাসির গোশত আগের বর্ধিত দামে স্থির রয়েছে। অন্য দিকে সবজির বাজারে ক্রেতা ও সরবরাহ কম থাকায় বিক্রি কমে গেছে, তবে অনেক পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition

রাজধানীর বাজারে ঈদ-পরবর্তী সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে দেখা যাচ্ছে মিশ্র প্রবণতা। কোথাও দাম কমেছে, কোথাও স্থির রয়েছে, আবার কিছু পণ্যে বেড়েছে দাম। বিশেষ করে মুরগির বাজারে অস্থিরতা থাকলেও গরু ও খাসির গোশত আগের বর্ধিত দামে স্থির রয়েছে। অন্য দিকে সবজির বাজারে ক্রেতা ও সরবরাহ কম থাকায় বিক্রি কমে গেছে, তবে অনেক পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমে প্রতি কেজি ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে অন্যান্য মুরগির দাম এখনো চড়া। লেয়ার মুরগি ৩২০ টাকা, সোনালি ৩৬০ টাকা এবং পাকিস্তানি মুরগি ৩৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশী মুরগি আকার ভেদে ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, ব্রয়লারের চাহিদা কিছুটা কমায় দাম কমেছে, কিন্তু অন্যান্য মুরগির সরবরাহ সীমিত থাকায় দাম কমেনি।

এ দিকে বাজারে গরুর গোশত মানভেদে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি এবং খাসির গোশত ১ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এসব পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি।

রাজধানীর মাছের বাজারেও একই ধরনের স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। সরবরাহ কিছুটা কম থাকলেও চাহিদা সীমিত থাকায় দামে বড় পরিবর্তন আসেনি। রুই ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা, কাতলা ৩২০ থেকে ৩৮০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৮০ টাকা এবং পাঙ্গাশ ১৮০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া শিং-মাগুর ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা এবং দেশী কই ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

বাজার ঘুরে সবজির বাজারে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ঈদের ছুটির পর এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বাজার। অনেক ক্রেতা ঢাকায় না ফেরায় বিক্রি কমে গেছে। একই সাথে সরবরাহ কম এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে অনেক সবজির দাম বেড়েছে।

বর্তমানে শসা ৬০ টাকা, মূলা ৫০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা, সজিনা ১৩০ টাকা এবং বেগুন ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ঢেঁড়স ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, পটোল ৭০ টাকা, কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং লাউ প্রতিটি ৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের ছুটির কারণে ঢাকায় মানুষের উপস্থিতি কম থাকায় বাজারে ক্রেতা। এতে বিক্রি কমে গেলেও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না। অনেকেই ধারণা করছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে সবজির দাম কমে আসবে।

এ দিকে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে চাল, আটা, পেঁয়াজসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম কমেছে। মোটা চালের দাম ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় নেমে এসেছে এবং প্যাকেটজাত আটার দামও কিছুটা কমেছে। দেশী পেঁয়াজের দাম ৩০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ-পরবর্তী বাজারে সরবরাহ, চাহিদা ও পরিবহন ব্যয়ের প্রভাব স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। বাজার স্বাভাবিক হতে আরো কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে তারা মনে করছেন।