ড. হাসানুজ্জামান চৌধুরী
প্রাথমিক উপলব্ধি
প্রকৃত অর্থে জনমালিকানার স্বীকৃতি দেয়া কোনো রাষ্ট্রই জনগণের ব্যক্ত করা স্পষ্ট সম্মতিকে উপেক্ষা করতে পারে না। জনগণের সম্মতিকে অবশ্যই চূড়ান্ত ও মৌলিক সিদ্ধান্ত হিসেবে গ্রহণ করতে হয় রাষ্ট্রকে। সেই হিসাবে ২০২৬ সালে ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখ ভোট ও গণভোট একই দিনে একযোগে হয়েছে। ভোটের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অস্থায়ীভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচন কোনোভাবেই সমগ্র নাগরিকের গণভোটের সিদ্ধান্তকে ছাড়িয়ে, ছাপিয়ে যেতে পারে না। তাই বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠন হলেও ইতোপূর্বে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যকে, সেটার মৌখিক ও দালিলিক স্বীকৃতিকে এবং পরবর্তী পর্যায়ে স্বাক্ষর করা জুলাই সনদকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এটি জুলাই বিপ্লবের গণ-আকাঙ্ক্ষাকে স্পষ্ট উপেক্ষাকরণ, নিজেদের স্বাক্ষর করা দলিলকে অস্বীকার করা। এটি নিজেদের দ্বারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার জন্য জনগণকে আহ্বানের সাথে তঞ্চকতার শামিল। বিষয়টি জিয়াউর রহমানের কাজকে তারই দল কর্তৃক উপেক্ষা করার সমতুল্য। তখন যদি জিয়াউর রহমান সংসদ অস্তিত্বহীন থাকাবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধানের একক ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচিত হওয়ার আগেই দুই প্রক্লেমেশনের মাধ্যমে এত বিশাল পরিবর্তন করতে পারেন, তাহলে এখন সংবিধানের পবিত্রতার অজুহাত তোলা হচ্ছে কেন? কেবল সাময়িক প্রতিনিধি হয়ে কিভাবে তারা নাগরিকসমষ্টির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকে অস্বীকার করছেন? এটিই কি ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’? এটিই কি বাংলাদেশের জনগণের কাছে রাষ্ট্রীয় মালিকানা ফিরিয়ে দেয়ার নমুনা?
প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর খুঁজে বের করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নতুন সরকারের উচিত হবে বিষয়গুলো নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা এবং সুচিন্তিত পদক্ষেপ নেয়া। বিরোধী পক্ষে থাকা দলগুলোর জন্য করণীয় হবে সংসদে ও বাইরে সরকারকে সঠিক পথে রাখতে গঠনমূলক সমালোচনা ও প্রতিবাদ জারি রাখা।
সূত্রবদ্ধকরণ
সমাজ সংস্থা, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা, রাজনৈতিক কাঠামো ও বন্দোবস্ত এবং সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে পলিটিক্যাল লেজিটিমেসি বা রাজনৈতিক বৈধতার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পুরো ভূখণ্ড, সমগ্র জনভূগোল, সমষ্টি মানুষের ও নাগরিক যৌথজীবনের সংহতি, সক্রিয়তা, কাজকারবার সংগঠন ও সুষ্ঠু পরিচালনা এবং ক্রম অগ্রগতি রাষ্ট্রের সাফল্যের স্মারক।
আর সেসব কিছু সম্ভব বিদ্যমান সরকারের রাজনৈতিক বৈধতাকে গ্রহণযোগ্য ও সঙ্গী করেই। মনে রাখতে হবে, পুরো ভূগোলজুড়ে যে জনসমষ্টি নিয়ে রাষ্ট্র গঠিত, সেই রাষ্ট্রের ব্যাপারে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক বৈধতা নির্দিষ্ট হয় ইতিহাসের পথপরিক্রমা, অস্তিত্ব গঠনের যৌথসংগ্রাম, স্বাতন্ত্র্য ও স্বনিয়ন্ত্রণের ভাবনা-সংযুক্তি, বেঁচে থাকা, জীবন পরিচালনা, নিরাপত্তা, সম্মান, মানবিক মর্যাদা, স্বীকৃতি, বৈষম্যহীন সাম্য প্রতিষ্ঠা, কল্যাণবোধ, পারস্পরিক সংহতি এবং জনসমষ্টি ও নাগরিক সাধারণের আনুগত্যের বৃহত্তর বোঝাপড়ার পরিপ্রেক্ষিতে। তবে সরকারের রাজনৈতিক বৈধতাকে রাষ্ট্রের বৈধতার সাথে এক ও একীভূত করে দেখার সুযোগ নেই।
মোদ্দাকথা রাষ্ট্র ও সরকার এক নয়। রাষ্ট্রের বৈধতা ও সরকারের বৈধতা অভিন্ন বিষয় নয়। নির্দিষ্ট কোনো সরকার হচ্ছে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জনগণের সেবাদানকারী রাষ্ট্র পরিচালনাকারী সাময়িক সংস্থা। এটি কেবলই জনগণের পক্ষে তাদেরই দ্বারা নিয়োজিত অস্থায়ী প্রতিনিধি মাত্র। এই প্রতিনিধি এক দিকে যেমন কোনো অবস্থাতেই রাষ্ট্রের সাথে নিজেকে একাত্ম ও একক অবস্থানে নিতে পারে না, তেমনি স্থায়িত্ব, মর্যাদা ও আনুগত্যের প্রশ্নে রাষ্ট্রের সমকক্ষতাও দাবি করতে পারে না। তাই রাষ্ট্রকে মানা ও সরকারকে মানা এক জিনিস নয়। সরকারের রাজনৈতিক বৈধতার প্রশ্নে এ সত্য সবচেয়ে বেশি করে বুঝে নিতে হবে জনগণকে। সরকারকেও আরো বেশি করে বুঝতে হবে। এটিই সরকারকে সীমার মাঝে রাখে। এই সীমা আইন ও নিয়মের কাঠামোর, বিধিবিধান প্রতিপালনে, নৈতিক অবস্থান বজায় রাখায় এবং জনগণকে প্রকৃত অর্থে পরিচালনা এবং তাদের ইচ্ছার ও অভিপ্রায়ের, তাদের আকাঙ্ক্ষা ও সম্মতির সাথে সংযুক্ত করে রাখে। এখানেই গণভোট ও গণরায়ের প্রথম ও চূড়ান্ত প্রাধিকার।
বিষয় বিস্তৃতি
জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ, স্বশাসন এবং সব অর্থে অধিকার ও স্বাধীনতা হচ্ছে কোনো রাষ্ট্রে নির্দিষ্ট সরকারের রাজনৈতিক বৈধতার প্রকৃতস্বরূপ নির্ধারণ ও চিহ্নিতকরণে মানসম্পন্ন মাপকাঠি। কয়েক বছর আগে শেখ হাসিনার আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সময়, ২০১৯ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত আমার ‘ক্ষমতার পালাবদল ও বাতাবরণ : ঐকমত্য, গণনিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্র ও সুশাসন’ শীর্ষক গবেষণা গ্রন্থে মানুষের স্বাধীনতা এবং সরকারের রাজনৈতিক বৈধতা ও অবস্থানের সাথে এর সম্পর্ক তুলে ধরতে গিয়ে যা লিখেছিলাম তা এখানে প্রাসঙ্গিক। মৌলিক বোধ ও বুঝ থাকতে হবে যে, জনগণের স্বাধীনতা কখনো সরকারের বিপরীতে তার অধীনতার সাথে বদলযোগ্য নয়। যখন জনগণের স্বাধীনতা চলে যায়, তখন সেখানে শুধু থাকে দাসত্ব। মানবসত্তা জন্মগতভাবেই স্বাধীন।
এ স্বাধীনতা সর্বশক্তিমান আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত। স্বচালিত মানবসত্তাকে কেউ, কোনো সরকারই অধীনস্থ, দমিত ও দাস করতে পারে না; সরকারের স্বীয় মত, অবস্থান, মতলব, সঙ্কীর্ণ স্বার্থ ও দলান্ধ আনুগত্যের সীমায় আনতে পারে না। মানবসত্তার প্রকাশ-পরিচয় সত্যিকার অর্থে তার শৃঙ্খল মুক্তির মধ্যে। যখন জনগণ রাষ্ট্র ও সরকারকে ভয় পায়, সেখানে তখন থাকে কেবলই স্বাধীনতাহীনতা ও দাসত্ব এবং সরকার হয়ে পড়ে ওয়াদাভঙ্গকারী, স্বেচ্ছাচারী, ফ্যাসিবাদী ও গণশত্রু। তা ওপরে ওপরে সরকার যে কথাই বলুক, যে ব্যাখ্যাই দিক না কেন, তারা তখন ক্রমেই জনআকাঙ্ক্ষা ও ইচ্ছা বিবর্জিত হয়। তাদের পলিটিক্যাল লেজেটিমেসি বা রাজনৈতিক বৈধতা এবং এ সম্পর্কিত ডকট্রিন বা সূত্র একইভাবে ক্ষয়প্রাপ্তির দিকে ধাবমান থাকে। নিছক ভোট প্রাপ্তির প্রতিনিধিত্ব প্রায় কোনো অবস্থাতেই রেফারেন্ডাম বা গণভোটের সর্বোচ্চ গণসম্মতি, অভিব্যক্তি ও রায়কে অস্বীকার করতে, উপেক্ষা করতে, তাচ্ছিল্য করতে এবং বর্জন করতে পারে না। এটি সমাজচুক্তির মৌল শর্তের পরিপন্থী। এটি প্রতিনিধি কর্তৃক খোদ রাষ্ট্রের মালিক জনগণকেই অস্বীকার করা এবং রিপাবলিকের প্রকৃত মানে বাদ দিয়ে নাগরিকদেরকেই প্রজার, দাসের অবস্থানে ঠেলে দেয়া।
ওপরের আলোচনার জের টেনে বলা যায়, জনগণ কর্তৃক রাষ্ট্র ও সরকারকে ভয় পাওয়ার বিপরীতে যখন রাষ্ট্র ও সরকার জনগণকে ভয় পায় তখনই নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতার দিগন্ত উন্মোচিত হয়।
আল্লাহর পথে আহ্বান
এক দিনের ভোটের নতুন সরকার তার রাষ্ট্রপরিচালনার শুরুতেই জানিয়ে দিচ্ছে সংবিধান প্রশ্নে তাদের দ্বিমুখী আচরণ ও জুলাই বিপ্লবের সাথে তাদের অসম্পৃক্ততার ইতিহাস। প্রকাশ পাচ্ছে যে, পুরনো ব্যবস্থার অস্তিত্ব প্রলম্বিতকরণ, নয়া বন্দোবস্তের অস্বীকৃতি, পতিত ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসন, দুর্বৃত্ত লুটেরা চক্র ও খেলাপিদের নবক্ষমতায়ন, রাজনৈতিক মোড়লচক্র ও আমলাতন্ত্রের নেক্সাস, ব্যক্তিক স্বেচ্ছাচার, পরিবারকরণ, দলান্ধতা ও দলদাস সংস্কৃতি এবং আধিপত্যবাদের আগ্রাসন সব কিছুই রয়ে যাচ্ছে। এহেন বাস্তবতা ২০২৬ এর সরকারের বৈধতাকে ক্রমে ক্রমেই শেষ করে দিচ্ছে। তাই জুলাই বিপ্লব ও জুলাই সনদ অস্বীকারের মানেই সরকারের বৈধতাহীনতা এবং সেটিই নতুন লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এত ত্যাগের বিনিময়ে ফিরে পাওয়া হারিয়ে যাওয়া স্বাধীনতা যদি জনগণের জন্য মুক্তি ও কল্যাণ না আনে, যদি গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদকে অস্বীকার করা হয়, তবে আবারো আসবে বৈপ্লবিক তুফান বৈষম্যহীন সাম্য ও মর্যাদার দাবিতে; আসবে বৈপ্লবিক গণ-অভ্যুত্থান আজাদি রক্ষা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য। কুরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন জনগণের সাথে ও সম্মুখে কৃত ওয়াদা/অঙ্গীকার/ঘোষণা/চুক্তি/শপথ রক্ষা করতে হবে। এ সম্পর্কে যে কেউ ওয়াদা বা অঙ্গীকার ভঙ্গ করবে কিংবা বরখেলাপ করবে, তাকে ও তাদেরকে এ সম্পর্কে আখিরাতের বিচারে কৈফিয়ত তলব করা হবে। সূত্র : সূরা বনি ইসরাইল/ইস্রা, আয়াত ১৭: ৩১-৩৪। আরো সূত্র সূরা আল আনাম, আয়াত ৬:১৫২; সূরা নহল, আয়াত ১৬:৯১। এতদসঙ্গে ব্যক্তি ও জনগণের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেয়ার নির্দেশসংক্রান্ত আল্লাহর নির্দেশের কুরআন সূত্র হচ্ছে সূরা বনি ইসরাইল/ইস্রা, আয়াত ১৭:২৬; সূরা আর রুম, আয়াত ৩০:৩৮। আর ব্যক্তি ও জনগণের আমানত রক্ষা, আদায় ও যথাযথ প্রত্যর্পণ করা সম্পর্কিত আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নির্দেশসংবলিত আয়াতের সূত্র : সূরা আন নিসা আয়াত ৪:৫৮।
আল্লাহর কুরআনের আয়াতে আল্লাহর নির্দেশ বিষয়ে বর্তমান সরকার ও তার প্রধান মানবেন কি না, সেটি জনগণ পর্যবেক্ষণ করবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজে বহুবার দেশের বিভিন্ন অংশে ও অন্যান্য ঘোষণায় স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের রহমত ও সাহায্য চান। এখন আল্লাহ তাকে অপার করুণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী করে ক্ষমতাধিষ্ঠকরত সব সুযোগ দিয়ে পরীক্ষা করে দেখবেন তিনি আল্লাহ প্রদত্ত পরীক্ষায় বাস্তব আমলে বা কর্মে প্রকৃত অর্থেই উত্তম কি না। সে জন্যই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আহ্বান করছি তার প্রদত্ত নির্বাচনী ওয়াদা রক্ষা করা এবং গণভোটের রায়কে সব সঙ্কীর্ণ বাধা উপেক্ষা করে, দলীয় চিন্তার বাইরে গিয়ে বাংলাদেশের সব মানুষের জন্য সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গণভোটের রায়কে নিঃসঙ্কোচে ও নিঃশর্তে মেনে নেয়া। কেননা তিনিই বলেছেন বারবার যে, তিনি রাসূলে করিম সা:-এর আদর্শ অনুসারে, মহানবী সা:-এর আদর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্র চালাতে চান। কাজেই গণভোট সম্পর্কিত বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী ঘোষণা এবং নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও সরকারপ্রধান তারেক রহমানকে গণভোটের গণরায়কে মেনে নিতে ও বাস্তবায়ন করতেই হবে; যদি তিনি তার ওয়াদা রক্ষা করতে চান, আল্লাহর নির্দেশ মানতে চান, আল্লাহর রহমত চান এবং আল্লাহরই দেয়া পরীক্ষায় উত্তম আমলকারী হিসেবে আল্লাহরই অপার দয়ায় উত্তীর্ণ হতে চান।
আশা করি, তিনি পূর্বাপর সব বিষয় মনে রেখে নিজের কৃত ওয়াদা রক্ষা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী হবেন। আর যদি তিনি এসব ভুলে যান এবং গণভোটের গণরায়কে দূরে ঠেলে দেন, সেক্ষেত্রে তাকে স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দিচ্ছি সূরা আলে ইমরানের ৩:২৬ আয়াত। যেখানে বলা হয়েছে, ‘হে সার্বভৌম শক্তির মালিক আল্লাহ! আপনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা প্রদান করেন এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা কেড়ে নেন; যাকে ইচ্ছা আপনি পরাক্রমশালী করেন, আর যাকে ইচ্ছা হীন-অপদস্থ করেন। সব কল্যাণ আপনারই হাতে। নিশ্চয়ই আপনি সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।’ আরো জানাচ্ছি আল্লাহ কুরআনে মুমিনদের হালত সম্পর্কে বলেছেন, ‘আর তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং পালন করেছি! হে আমাদের রব! ক্ষমা তো কেবল তোমারই কাছে, আর প্রত্যাবর্তনও তোমারই কাছে’— সূত্র : সূরা বাকারাহ-২:২৮৫/সূরা আন নূর, আয়াত ২৪: ৫১, ৫২/সূরা কাসাস, আয়াত ২৮; ৫৩/সূরা আহজাব, আয়াত ৩৩:৩৬।
জনাব প্রধানমন্ত্রী, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের সময় আপনার সম্মুখে ওপরে উল্লিখিত কুরআনের সূরা আলে ইমরানের আয়াত ৩:২৬ তিলাওয়াত করা হয়েছিল এবং বাংলা অনুবাদও উচ্চারণ করা হয়েছিল। আল্লাহ কিন্তু সাক্ষী রয়ে গেলেন। তিনি হিসাব রাখবেন কুরআনের সূরা যিল্যালের ৯৯: ৭-৮ আয়াত অনুযায়ী। যেখানে তিনি পরিষ্কার ঘোষণা করেছেন, তিনি সব কিছুর হিসাব রাখছেন এবং তা অকল্পনীয় ‘জাররা’র মধ্যে। তিনি সেসব আখিরাতে আমলনামায় দেখিয়ে দেবেন নেক আমল কিংবা বদ আমল যেটাই হোক না কেন।
শেষে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি জনাব তারেক রহমান, আপনাকে কিছু স্মৃতি। মনে পড়ে! শেখ হাসিনার প্রথম স্বেচ্ছাচারী আমলে যখন ঠুকঠাক করে ভাঙচুর করে নতুনভাবে একটি বাড়ি প্রস্তুত করা হচ্ছিল, সেই ভবনে সম্ভবত লেখালেখি, আলাপ আলোচনা ও পরামর্শের জন্য বেগম খালেদা জিয়া এবং আপনার আমন্ত্রণে প্রথম অতিথি হিসেবে এই লেখকই গিয়েছিলেন। মনে পড়ে! কত দিন কত রাত, কত ওয়াক্ত সালাহ একজন তরুণ ইমামের পেছনে লেখক ইকামত দিয়েছেন এবং তিনি ও আপনি পাশাপাশি আল্লাহর কাছে সিজদায় নূয়ে পড়েছেন? সেই কষ্টকর দিনরাতগুলোতে এমনকি ২০২৩-২৪ এর সময়ও ক্রিটিক্যাল ইমপোর্টেন্ট নোটসের মাধ্যমে এই লেখক বুঝতে পেরেছেন, আপনি আল্লাহরই রহমত চাইছেন। আদিগন্ত কারাগারে আবদ্ধ বাংলাদেশের কোটি কোটি লাঞ্ছিত ও নিগৃহীত বনি আদমের চোখের পানিতে ভেসে যাওয়া রাতে-দিনে আল্লাহর কাছে সুজুদ ও দোয়ার মাধ্যমে বুকভাঙা আকুতি উচ্চারণে যে বেদনা, আশা ও ঈমান ছিল, তারও সাক্ষী এই লেখক।
মামলা, পীড়ন, প্রচণ্ড শারীরিক নিগ্রহ ও চাকরিতে লাঞ্ছনার কষ্টকর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এই লেখক অগণিত বনি আদমের একজন সমগোত্রীয় হয়ে পড়েছিলেন। একজন পূর্বপরিচিত আর একজন বেদনাহত অথচ আল্লাহর প্রতি গভীর ঈমানে উদ্বুদ্ধ এই লেখক আপনাকে মহান রাব্বুল আলামিনের নির্দেশ, রাসূলে করিম সা:-এর আদর্শ ও দেখানো পথে, আপনার ঘোষিত ওয়াদা রক্ষা করে রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনার জন্য; আজাদি ও ইনসাফের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার নিমিত্তে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছে। ফি আমানিল্লাহ।
লেখক : প্রফেসর (অবসরপ্রাপ্ত), রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়



